রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০
logo
বরফের অভাবে ট্রলারে ইলিশ পচে যাচ্ছে
চাঁদপুর পচে যাওয়া ইলিশ কেটে লবণজাত করা হচ্ছে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৩৫:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশ মাছ আমদানী হচ্ছে। তবে দাম কমছে না। বরফ সঙ্কটে চিকচিকে রূপালী ইলিশ ট্রলারের মধ্যেই পচে গলে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে যেনো পা রাখার স্থান নেই। প্রতিদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সমুদ্র জাহাজ খ্যাত কাঠের তৈরি সুউচ্চ ৩০/৪০টি ট্রলার বোঝাই করে রূপালী ইলিশ মাছঘাটে আসছে। এখন যে পরিমাণ ইলিশ মাছ ঘাটে আসছে তাতে করে এ বছরের ইলিশ উৎসবের স্বার্থকতা এসেছে। বিগত ইলিশ উৎসবগুলোতে মাছঘাটে ইলিশের দেখা মিলেনি বললেই চলে। তবে এ বছর ৮ম ইলিশ উৎসবের দিন-ক্ষণ ঘনিয়ে আসার পূর্ব থেকেই বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রচুর পরিমাণ ইলিশের আমদানী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাছঘাটে এতোদিন ব্যবসায়ী আর শ্রমিকরা বেকারত্ব সময় কাটালেও এখন তারা দম ফেলতে পারছে না। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত। দক্ষিণাঞ্চল ট্রলারগুলোর মাছঘাট অর্থাৎ ডাকাতিয়া নদীতে ভিড়লেই স্ব স্ব আড়ত ঘরের শ্রমিকরা গুজ কাছা দিয়ে ছুটে যান বড় বড় ঝুড়ি বোঝাই করে মাছ নামাতে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ও সমুদ্র এলাকায় গিয়ে মাছ আহরণ করে তাতে যে বরফ দেয়া হয় ফিরে আসা পর্যন্ত সেই বরফ আর থাকে না। যার ফলে ট্রলারের মধ্যেই ইলিশ মাছ পচে যাচ্ছে। মাছঘাটে প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ ইলিশ আমদানী হচ্ছে। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, ট্রাক ও পিকআপযোগেও নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে এ মাছঘাটে ইলিশ আসছে। ট্রাক ও পিকআপ থেকে মাছ নামিয়ে তা বরফজাত করা হচ্ছে। এখানে নামানো ইলিশ মাছগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে ছোট, মাঝারি, বড় ও পচে যাওয়া মাছ আলাদা করা হচ্ছে। তারপর পাইকারদের কাছে বিভিন্ন দামে মণ হিসেবে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা মণে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে। যারা এসব মাছ পরিবহন করে ঘাটে আনছে তারা জানায়, আমরা দীর্ঘ সময় নদীতে ও সমুদ্রে থাকতে হচ্ছে। যাবার সময় যে পরিমাণ বরফ সাথে নিয়ে যাওয়া হয় ফিরে আসা পর্যন্ত সে বরফ থাকে না। যার ফলে অনেক ইলিশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
    চাঁদপুরে এক সময় ৩০/৩২টি বরফ কল ছিলো। বিগত কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন কম এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রমাগত লোকসানের কারণে অধিকাংশ বরফ কল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র ৭টি বরফ কল চালু রয়েছে। বরফ কলগুলো ঃ যমুনা বরফ কল, বিসমিল্লাহ বরফ কল, জলি বরফ কল, পূবালী বরফ কল, আরিফ বরফ কল, রিয়াদ বরফ কল, ইলমা শাহরীন বরফ কল। এসব বরফ কলে উৎপাদিত বরফ দিয়ে মাছঘাটে আমদানীকৃত মাছের চাহিদা মিটছে না। বরফ সঙ্কটের কারণে মাছঘাটে ইলিশ প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চালানী ও পাইকাররা ইলিশ কিনে বিপাকে পড়ছে। বরফ সঙ্কটের কারণে মাছঘাটে কম মূল্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বরফের অভাবে পচে যাওয়া ইলিশ কেটে লবণজাত করছে অনেক ব্যবসায়ী।
    চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান ভূঁইয়া কালু চাঁদপুর বার্তাকে বলেন, এ বছর যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে তা গত ৫/৭ বছরেও পড়েনি। তবে এখান থেকে কোনো ইলিশ মাছ ভারতে পাঠানো হয় না। আমরা দেশের বিভিন্ন জেলাতে ইলিশের চাহিদা পূরণ করতে ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়ে থাকি। তবে নোয়াখালীর হাতিয়া আর ভোলার মেঘনা নদীতে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। বড় স্টেশন মাছঘাট থেকে প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান বোঝাই করে প্যাকেটজাত ইলিশ মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর