রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০
logo
মতলব উত্তরে যেখানে জলাশয় সেখানেই পাটের জাগ
পানি পচে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৯:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: মতলব উত্তর উপজেলায় সনাতন পদ্ধতিতে এখনও চলছে পাট জাগ দেয়া। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভেতর ও বাইরের নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়ে সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ায় পানি পচে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পচা দুর্গন্ধময় পরিবেশ ও পচা পানি ব্যবহার করে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে না জানায় কৃষকরা শত বছরের সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দিচ্ছেন।
উপজেলার গাজীপুর, আমিরাবাদ, সানকিভাঙ্গা, নাওভাঙ্গা, জয়পুর, একলাশপুর, হানিরপাড়, গজরা, বালুরচর, জোড়খালী, ঘনিয়ারপাড়, কালিপুর, বেলতলি, সুজাতপুর, নিশ্চিন্তপুর, লুধুয়াসহ চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরের পুকুর, খাল, জলাশয়সহ যেখানে পানি পাওয়া যাচ্ছে সেখানে এবং বেড়িবাঁধের বাইরে বর্ষার পানি ও নদীতে পাট জাগ দেয়া হয়েছে। এতে পানি পচে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক হুমকি হয়ে পড়েছে। মানুষ দুর্গন্ধময় পচা পানি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১শ' ৬৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জমি থেকে পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দেয়ার পরিবর্তে রিবনার নামক মেশিনের মাধ্যমে কাঁচা পাট গাছ থেকে অাঁশ ছাড়িয়ে গাট বেঁধে গর্তে ভরে রেখে কিছুটা পানি ও ইউরিয়া প্রয়োগ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় পাটের অাঁশ পচে যাওয়ার পর পানিতে ধুয়ে শুকাতে হয়। এদিকে এ পদ্ধতিতে অাঁশ ছাড়াতে এখন পর্যন্ত উপজেলায় সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে রিবনার (রিবন রেটিং মেশিন) বিতরণ করা হয়নি।
উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, পাট পচানোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে পুকুর কিংবা খালে পাট জাগ দিয়েছেন। মিলারচরের গিয়াস উদ্দিন জানান, রেটিং পদ্ধতি সম্বন্ধে তাদের জানা নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জানান, পুকুর, খাল, জলাশয়ে ও নদীতে পাট জাগের কারণে দেশীয় মাছের সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। ডাঃ ইসমাইল জানান, এ পানি ব্যবহারের কারণে খোস-পাঁচড়া, চুলকানিসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম মজুমদার জানান, এ এলাকার মানুষ সারাজীবন পুকুর, খাল, জলাশয় ও নদীতে পাঠ জাগ দিয়ে আসছে। আমরা রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ার জন্যে সচেতন করছি। কৃষকের মাঝে রিবনার (রিবন রেটিং মেশিন) বিতরণ করতে পারলে সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়া থেকে হয়ত কৃষকরা সরে আসতে পারে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর