সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
logo
বিদ্যুৎ ভোল্টেজের আপ-ডাউন আর লোডশেডিংয়ে মিল কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:১০:১০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চাঁদপুরের শিল্প কলকারখানা ও মিল-ফ্যাক্টরীতে উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স মোটরসহ মূল্যবান মেশিনারীজ।
দীর্ঘদিন যাবৎ এমন সমস্যার মধ্যে চরম আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরীর মালিক এমনকি কোল্ড স্টোরেজের পরিচালকগণ। একটি শিল্প কলকারখানা বা মিল-ফ্যাক্টরীর জন্যে ৪০০ থেকে ৪২০ লাইন ভোল্টেজ থাকতে হয়। হঠাৎ করে তা ৩৫০ এ নেমে এসে আবার হঠাৎ ৪৪৫ থেকে ৪৫০ ভোল্টেজ হয়ে যায়। বিদ্যুতের এমন ভোল্টেজ আপ এন্ড ডাউনের কারণে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিজের দামী দামী ইলেকট্রিক মোটর বিকল হয়ে পড়ে।
চাঁদপুর রাইস মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী জানান, এক একটি মোটরের দাম এক থেকে দেড় লাখ টাকা। লো-ভোল্টেজ এবং হঠাৎ ভোল্টেজ বেড়ে গিয়ে আমাদের মূল্যবান অনেক মেশিনারীজ অকেজো হয়ে পড়ছে। তাতে উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি আমরা মিল মালিকরা আর্থিকভাবে বেশি ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তিনি আরো জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং দিয়ে রাখা হয়। ধান যখন হাঁড়িতে সিদ্ধ হবার জন্যে বাষ্প ছড়াচ্ছে ঠিক ওই মুহূর্তে পানি দিতে না পারলে চাল লালচে হয়ে তার গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়, আবার ধান সিদ্ধ দিয়ে ড্রায়ারে শুকাতে না পারলে চাল ফেটে যায়। তখন ধান-চাল নষ্ট হয়ে গো-খাদ্যে পরিণত হয়।
পূবালী আইস এন্ড কোল্ড স্টোরেজের পরিচালক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন শাকিল জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে হিমায়িত পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন মাছের সিজন চাহিদা মতো বরফ দিতে পারছেন না। লো এবং হাই ভোল্টেজে লাখ টাকার মোটর জ্বলে যাচ্ছে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মাইনুল ইসলাম কিশোর জানান, তার আজমিরী অটো রাইস মিলে বিদ্যুতের একই সমস্যা। চাল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। চাহিদা অনুযায়ী ধান থেকে চাল করে দিতে না পারায় অনেক ক্র্যাশার মিলে ধান দিচ্ছে না।
চাঁদপুর শহরের ৫নং ঘাটের রূপালী রাইস মিল, মৌসুমী রাইস মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজ সমস্যা ইদানীং খুব বেশি হচ্ছে। সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান তারা। বিদুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি জানালে জাতীয় গ্রীডে সমস্যা বলে তারা আমাদেরকে জানায়।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আফম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লোডশেডিং আমরা দেই না, ওটা দেয় জাতীয় গ্রীডের লোড ম্যানেজমেন্ট। বিভিন্ন কারণে ভোল্টেজ আপ এন্ড ডাউন হতে পারে। বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে অথবা আমাদের প্রকৌশলীদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবো। লো-ভোল্টেজ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যখনই সমস্যা হয় তখন যেনো আমাদেরকে বলা হয়। লাইনের যে সমস্যা ছিলো পরের দিন স্বাভাবিক করা হয়েছে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ১২টি বরফ কল, ১৭টি অটো রাইস মিল, ১০টি কোল্ড স্টোরেজ, ৫টি লবণ মিল রয়েছে। এছাড়া অসংখ্য তেল, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন মিল কারখানা রয়েছে। বিদ্যুতের উল্লেখিত সমস্যার দরুন ব্যবসায়ী ও মিল-ফ্যাক্টরীর মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে।
নির্বাহী প্রকৌশলীর ভাষ্যমতে বিদ্যুতের সমস্যা নেই। কিন্তু মিল-ফ্যাক্টরীর মালিকরা জানাচ্ছেন তাদের ক্ষয়-ক্ষতির এবং সমস্যার কথা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং চাঁদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর