মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
সিন্ডিকেটে ক্রয়-বিক্রয় ওজনে ব্যবহার হয় না ডিজিটাল স্কেল
চাঁদপুর থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে ইলিশ
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:০০:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: এবার সাগর ও নদ-নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। গত বছরের তুলনায় চাঁদপুর মাছ ঘাটে ইলিশের সরবরাহও বেড়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে নেই। আগের দিনের চেয়ে গতকাল রোববার প্রতি মণ ইলিশ ৪/৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হয়েছে। ঘাটে এত ইলিশের আমদানি হাওয়া সত্ত্বেও সেই মাছ যায় কোথায়? এমন প্রশ্ন চাঁদপুরের সচেতন মহলের। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর ঘাটে আসা অধিকাংশ ইলিশ সড়ক ও নদী পথে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক, মিনি ট্রাক ও পিক আপ বোঝাই ইলিশ চালানির নামে পাচার হচ্ছে। রেলওয়ে বড় স্টেশনের রেল লাইনের উপর দিয়ে ইলিশ পরিবহনের গাড়িগুলো চলছে। জেলের আহরিত ইলিশ হাত বদল হয়ে বেপারীরা আড়তে নিয়ে আসে। আড়ত থেকে চালানীরা নিয়ে নেয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার মণ ইলিশ ঘাটে ক্রয়-বিক্রয় হয়। যারা আড়তদার তারাই চালানী এবং ফ্যাক্টরীতে মজুতদার। চাঁদপুর ঘাটের ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় যেনো পুরোটাই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত। ঢোলের মাছ বা ট্রলার থেকে ৪৫ কেজিতে কেনা হয় প্রতি মণ ইলিশ। ওজনে কারসাজির দরুণ আড়তে ব্যবহার করা হয় না ডিজিটাল স্কেল।
মাছ ঘাটের বড় আড়তদার বাবুল হাজীর মানিক আড়তের সর্দার মজিবুর রহমান (৪০) অবশ্য স্বীকার করেন, ৪৫ কেজিতে না, ৪২ কেজিতে এক মণ ধরে মাছ ওজন দেয়া হয়। আড়তদার বাবুল হাজী (৫৫) জানান, তিনি আড়তদারি করেন এবং মাছ কিনে চালানীও করেন।
ঘাটের আরেকজন ইলিশ চালানী দেলু খাঁ (৪০) জানান, ঈদ ভাঙ্গা বাজার মাছ আইবো কইতন। আমরা এখান থেকে দেশের বিভিন্ন মোকামে ইলিশ চালান করে থাকি।
সরজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সাগর ও নদী এলাকার বিপুল পরিমাণ ইলিশ ঘাটে আসলে সেগুলো স্তূপ করে নিলাম ডাকা হয়। সংঘবদ্ধ চক্র সমুদয় ইলিশ ক্রয় করে পাশেই বরফ দিয়ে ককসিটের বাঙ্ েএবং কাঠের বাঙ্ েপ্যাকেট করে। সেই মাছই ট্রাকযোগে চাঁদপুর থেকে পাচার হয়ে যায়। সেই মাছের একটা অংশ আবার চলে যায় বিভিন্ন ফ্যাক্টরীতে। যারা হিমাগার করে ইলিশ মজুদ করে রাখেন। আর এ কারণেই চাঁদপুরে আসা ইলিশ অন্যত্র এমনকি সীমান্ত এলাকায় চলে যাওয়ায় ভরা মৌসুমে এখানকার সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত দামে ইলিশ কিনে খেতে পায় না।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, এবার হাইমচর, কাটাখালী, নীলকমল, চরভৈরবী এলাকা দিয়ে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে তাতে ইলিশের দাম অনেক কম হবার কথা। প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশের দাম কমেনি। এক কেজির ইলিশ হাজার বারোশ' টাকা এখনও। এত সাপ্লাইয়ের পরও দাম না কমার জন্য তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কেটিং স্টাডি করার পরামর্শ দেন এবং বলেন, ইলিশ সরকারিভাবে রপ্তানি নিষিদ্ধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আঃ মালেক খন্দকার, বাবুল হাজী, আনোয়ার গাজী, মুনসুর বন্দুকশী, মোস্তফা খালাসী, দুলাল গাজী, দেলু খাঁ, ভাগিনা ফারুক, ছিদ্দিক আলী, চন্দন বাবু, মানিক, মিজান শেখ, নান্টু কাদির, শাহজালাল বন্দুকসী, ইউসুফ বন্দুকসী, দাদন মিয়া, ছানা, হাজী কুদ্দুছ খান, বড় সিরাজ, বিল্লাল কাজী, রব চোকদার, কৃষ্ণা বাবুসহ আরো অনেকে ইলিশ চালানীর নামে চাঁদপুর থেকে ইলিশ অন্যত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ইলিশের বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ভরপুর আমদানিতেও এখানে ইলিশের দাম কমছে না। অথচ বেশি দামে ইলিশের বাজারের অধিক মুনাফার সুবিধা তারাই হাতিয়ে নিচ্ছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর