রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
হাজীগঞ্জে সপ্রাবি প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পঞ্চাশ ভাগে উন্নীত করতে হবে
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:০০:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ উপজেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর হার ৫০ ভাগে উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়েছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দস সবুর মন্ডল। ‘অতীতকে জানবো, আগামীকে গড়বো’ এ শ্লোগান নিয়ে গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরে হাজীগঞ্জ উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৫০ ভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি সবচে’ ভালো ফলাফল করবে তাদের মধ্যে সেরা দু’টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হবে।
    এছাড়াও ১৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ফলাফল খারাপ হলে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে তিরস্কৃত করা হবে। কাপাইকাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা দেয়ার প্রতিষ্ঠানকে অনুকরণ করা উচিৎ। আমার বিশ্বাস বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও ইচ্ছা থাকলেই টার্গেট বাস্তবায়ন সম্ভব।
    শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, একজন ছাত্রের মেধা বিকাশে উচ্চ বিদ্যালয় অথবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যতটা না অসম্ভব। তার চেয়ে বেশি সম্ভব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। কারণ, একজন শিক্ষার্থী তার মেধাকে বিকশিত করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আপনাদেরকেই পেয়ে থাকে। তবে এই মুহূর্তে পঞ্চম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে বি-গ্রেড থেকে এ-প্লাস পাওয়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু, তাকে এ-মাইনাস বা এ-গ্রেড পাওয়ানো সম্ভব। সেভাবে আপনাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে। প্রয়োজনে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করে ভালো ফলাফল করাতে হবে।
    তিনি আরও বলেন, আপনারা সমাজে দেখতে পাবেন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ছেলে-মেয়েরাই বেশি চাকুরীজীবী। বিত্তশালী পরিবারগুলো চাকুরীর প্রতি আগ্রহ কম থাকে। এক সময় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ছেলে-মেয়েরা টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারতো না। বর্তমানে তারাই বেশি চাকুরীজীবি।
    জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা জঙ্গির সাথে জড়িত তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামের জিহাদ সম্পর্কে ধারণা নেই। তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শত্রু। তারা ইসলামকে পুঁজি করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে এরা ইসলামের বিপক্ষে কাজ করছে। আমার সাথে কেউ একমত না হলে কোরআন-হাদীস সম্পর্কে জানতে কোন বাধা নেই। কোরআন-হাদীসের কোথাও মানুষ মেরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে বলে আমার জানা নেই।
    মাসিক সমন্বয় সভার সভাপতিত্ব করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ মুর্শিদুল ইসলাম। হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আকতার হোসেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অধ্যাপক আব্দুর রশিদ মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) একেএম মিজানুর রহমান।
    বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী মোহাম্মদ মনির, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক তপাদার, হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কমকর্তা মোঃ আক্তার হোসেন, মোসাঃ নাছরিন আক্তারসহ উপজেলা সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর