বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
সদ্য সংবাদ :

গেরিলার ২,৩৬৭ সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দিয়ে কোরবানির পশু জবাই, বিতর্ক

যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ: আইনমন্ত্রী

সিটিসেল গ্রাহকদের অপারেটর বদলের বিজ্ঞপ্তি আদালতে স্থগিত

শাহরাস্তিতে প্রবাসীর পরিবারের লোকজনকে অচেতন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

জঙ্গি তৎপরতা ও মাদক ব্যবসায় জড়িতদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন

গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ

৮ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল সম্পন্ন

হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে সরকার বিনমূল্যে চাল বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে

রহিমানগরে কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ততার দায়ে বখাটের দুবছর জেল

ফরিদগঞ্জ-কালিরবাজার ও ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা সড়কের বেহাল দশা
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:১২:১৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার কালির বাজারের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। এই পথটুকু সিএনজি অটোরিঙ্ায় যেতে যাত্রীদের জনপ্রতি ২৫/৩৫ টাকা দিতে হয়। আবার ফরিদগঞ্জ সদর থেকে ঐতিহ্যবাহী চান্দ্রা বাজারের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের সিএনজি অটোরিঙ্ায় জনপ্রতি ৪০/৫০ টাকা প্রদান করতে হয়। অথচ ১৭ কিলোমিটার দূরত্বের ফরিদগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের সড়ক পথ এই হার জন প্রতি ৩৫/৪০ টাকা। যদিও চাঁদপুর সেতুর টোলের কারণে এই ভাড়া বেশি বলে যাত্রীদের দাবি।
শুধুমাত্র দুর্দশাগ্রস্ত ও ভাঙ্গাচোরা সড়কের কারণে যাত্রীদেরকে ফরিদগঞ্জ-কালিরবাজার রুটে ও ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা রুটে বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। আসন্ন ঈদ-উল আযহার এই ভাড়া দ্বিগুণ ও তিনগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সড়ক দিয়ে কেউ একবার গেলে তিনি ফিরে আসতে দ্বিধাবোধ করেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই অসুস্থ, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েরা এই সড়ক দুটি দিয়ে চলাচল করছেন। একই অবস্থা ক্রেতাদের। তারা রাস্তার কারণে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যাওয়ার কারণে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীদের ক্রেতা সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে। ঈদের পূর্ব সময়েও ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে ব্যবসায়ীদের জমজমাট বেচাকেনার পরিবর্তে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।
সড়ক দুটিতে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিঙ্া চালক, অটোরিঙ্া চালক আমির, ইব্রাহিম, আনোয়ার, সফিকসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রতিদিন সকালে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় গাড়ি মেরামতের জন্য বাড়তি টাকা নিয়ে নামতে হয় শুধুমাত্র রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে। বৃষ্টি না থাকলেও ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে সাবধানে চালানো সম্ভব হলেও বৃষ্টি হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই গাড়ি চালাতে হয়। রিঙ্া চালক ইব্রাহিম জানান, তিনি ২০ টাকার ভাড়া নিয়ে ফরিদগঞ্জ-কালির বাজার সড়ক পার হওয়ার সময় গর্তে পড়ে তার গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ পার্টস ভেঙ্গে যায়। এর জন্য তাকে দেড় হাজার টাকা গুণতে হয়েছে। সিএনজি অটোরিঙ্া চালক মিলন জানান, ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা সড়ক দিয়ে কোথাও ভাড়ায় যান না। লোকজন জানায়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে স্থানীয় লোকজন ইটের কিছু সুড়কি রাস্তার উপর ফেলে যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে সেগুলো আরো ভয়ঙ্কর হয়ে যায়।
কালির বাজার কলেজের প্রভাষক লিটন কুমার দাস জানান, তিনি এই সড়ক দিয়ে অতি কষ্টে কলেজে আসা যাওয়া করেন। একই কথা জানান, চান্দ্রা কলেজের এক শিক্ষক। চাকুরি রক্ষা করতে বাধ্য হয়েই তাদের এই সড়ক দিয়ে চলতে হয় বলে তিনি জানান।
কালিরবাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের সাথে যুক্ত হয়েছে সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের অবাধ চলাচল।
বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চান্দ্রা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান পাটওয়ারী জানান, ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা সড়কটি সংস্কার ও চলাচল উপযোগী করার জন্য তিনি প্রতিটি দপ্তরে নিজে যাচ্ছেন এবং চিঠি প্রদান করছেন। তিনি জানান, সড়কের দুরবস্থার কারণে মানুষ নিতান্ত বাধ্য না হলে উপজেলা সদরে আসে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদগঞ্জ-কালিরবাজার-ফিরোজপুর সড়কটি চলতি অর্থ বছরেই পুনঃ নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ফরিদগঞ্জ-চান্দ্রা-বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ৯.২ কিলোমিটার সড়কটির সংষ্কার, পার্শ্ব বর্ধন ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের স্থলে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ৬ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর