শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত আলমাছ প্রধানীয়ার পরিবার চলছে অতি কষ্টে
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:১৫:১৮
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: বাম পায়ে স্পিন্টারের আঘাতের ক্ষত এখনও তাকে পীড়া দেয়। নিজের জীবন ও পরিবার চলছে অতি কষ্টে। কথাগুলো বললেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত মতলব উত্তর উপজেলার সরদারকান্দি গ্রামের মোখলেছ প্রধানীয়ার ছেলে আলমাছ প্রধানীয়া (৫২)।
আলমাছ প্রধানীয়া ঢাকার গুলিস্তানে গ্র্যান্ড প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলে চাকুরিরত ছিলেন। কর্তব্য শেষ করে ওই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে যান। ওই সমাবেশে শক্তিশালী গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি জানান, পুলিশের সহযোগিতায় তাকে ভ্যানে করে নিয়ে নিকটস্থ সদরঘাট ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। সেখানে ১ সপ্তাহ চিকিৎসা প্রদান শেষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে তার নিজ তহবিল হতে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস প্রায় ১ যুগ পেরিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো রকম সাহায্য সহযোগিতা পান নি তিনি। তিনি বলেন, সকল কাগজপত্র গুলিস্তান আওয়ামী লীগ অফিসে জমা দেই তারপর আর কোনো খবর নেই। ছেলে সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করছি। ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। সংসারে আমিই ছিলাম একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। আমার ডান হাত থেকে শুরু করে নিচের অংশে এখনও প্রচ- ব্যথা। মাঝে মধ্যে শরীরে কোনো অনুভূতি পাইনা। টাকার অভাবে বড় ছেলে ইব্রাহিম (২২) অষ্টম শ্রেণী, শাকিলা (২০) ৬ষ্ঠ শ্রেণী এবং ছোট ছেলে ইসমাইল (১৫) ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করিয়েছি। আর্থিক অনটনের লেখাপড়া করাতে পারিনি। বড় ছেলে এখন ভাড়ায় অটো চালায় ও ছোট ছেলে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালিয়ে কোনো রকম সংসার চালায়। তিনি আরো বলেন, সহযোগিতা নাই পাই তাতে ক্ষোভ নাই, কিন্তু মরনের আগে যেন হত্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে পারি এটাই আমার সৃষ্টিকর্তার নিকট চাওয়া।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর