বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
বকুলতলায় রেল লাইনের ৮ ফিটের মধ্যে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ আটক ৩
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:১১:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের বকুলতলা এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি রেল লাইনের ৮ ফিটের মধ্যে অবৈধভাবে ৮টি পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছে। এমন অভিযোগে রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রেলওয়ে থানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের ফলে রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ উছমান গণি পাঠান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে নির্মাণ কাজের ৩ শ্রমিককে আটক করে রেলওয়ে থানায় নিয়ে যান। এরা হচ্ছে : মাখন লালের ছেলে নিমাই (৪০), আঃ লতিফ খানের ছেলে জসিম (২০) ও আলাউদ্দিনের ছেলে আঃ রহিম (২৫)। রেল লাইন প্রটেকশনের দেয়াল ভেঙ্গে বাদশা ভঁূইয়া, রুহুল আমিন আইনুল, শাহাদাত হোসেন সবুজ, সাবি্বর ছৈয়াল ও আকবর পাটওয়ারী নামে ব্যক্তিরা সেখানে দোকান নির্মাণ করছে।
জানা যায়, শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চাঁদপুর-লাকসাম রেল পথে বকুলতলা নামকস্থানে রেলপথ প্রটেকশনের জন্য রেল লাইনের পাশে প্রায় ২শ' ফুট লম্বা রিটার্নিং দেয়াল নির্মাণ করে যা ৪০ ইঞ্চি চওড়া ও ১০ ফুট উচু। সে রিটার্নিং দেয়ালের পাশে রেলওয়ের স্টাফ ও বহিরাগতরা রেলওয়ের ক'জন অনুমতি ছাড়া একটি মসজিদ নির্মাণ করে। যার নামকরণ করা হয় রেলওয়ে জিলানীয়া জামে মসজিদ। মসজিদের পশ্চিম পাশে মসজিদের আয়ের জন্য অবৈধভাবে রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া ৮টি দোকান নির্মাণ করা হয় গত ২০ বছর পূর্বে। সে দোকান থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ও মসজিদের অন্যান্য আয়সহ প্রতি মাসে প্রায় ৩০/৪০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের জন্য প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে।
সরজমিনে গতকাল সোমবার বকুলতলা মসজিদ সংলগ্ন রেললাইনের পাশে গিয়ে দেখা যায় চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে বকুলতলা এলাকায় মসজিদের নাম ভাঙ্গিয়ে রেলওয়ে কর্তৃক দেয়া মসজিদ কমিটিকে উপেক্ষা করে বাদশা ভঁূইয়া, আইনুল, শাহাদাত হোসেন সবুজ, আকবর পাটওয়ারী ও সাবি্বর ছৈয়াল সে স্থানে নতুন করে ৮টি পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। বকুলতলা মার্কেটের ব্যবসায়ী ও মসজিদের মুসলি্লরা জানিয়েছেন, এ দোকান নির্মাণ করে যাদেরকে দেয়া হবে তাদের কাছ থেকে গোপনে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঐ চক্রটি। যেখানে পাকা দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে তার এক ফুটের মধ্যে একটি রেলপথ ও ৭/৮ ফুটের মধ্যে দ্বিতীয় রেলপথটি চলমান অবস্থায় রয়েছে। বিগত বছরে এখানে মার্কেট ও মসজিদ নির্মাণের ফলে এলাকাবাসী যাতায়াতকালে কমপক্ষে ৮/১০ জন নারী পুরুষ রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে। যার রেকর্ড রেলওয়ে থানায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে এখানে দোকান ঘর নির্মাণ হলে এলাকাবাসী যাতায়াত আরো বেড়ে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটবে এবং ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুর্ঘটনা বাড়বে। জনগণের জান মাল ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখানে পাকা দোকান নির্মাণ না করার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর