বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
মীর কাশেমের ফাঁসির রায় নিয়ে ব্যঙ্গ করার প্রতিবাদ
ছাত্রলীগ কর্মী কাঞ্চনকে খুনের অভিযোগ পরিবারের
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:০৬:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের বেড়ির বাজারে কাপড়ের ব্যবসায়ী মাওঃ জাফর উল্যার ছেলে শিব্বিরের দোকানে গত ৫ বছর ধরে কেনাকাটা করতো খুন হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী কাঞ্চন। সে ধারাবাহিকতায় গত রোববার দুপুর ১২টায় জামা কাপড় কিনতে সে দোকানে গেলেও কাঞ্চনকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। কাঞ্চনের পরিবারের দাবি, শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যবসায়ী শিব্বির ওই সময়ে সাবেক ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা মনসুর মেম্বারের সাথে যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেমের ফাঁসির রায় নিয়ে ব্যঙ্গ করছিল। কাঞ্চন এ বিষয়ে কথা না বলতে নিষেধ করার পর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে বেঁধে এলোপাতারী ছুরিকাঘাত করে।
    এ সময় ওই দোকানটির একটি সার্টার বন্ধ ও অপরটি অর্ধেক খোলা থাকায় বাজারের কেউই নৃংশস এ ঘটনার বিষয়ে টের পায়নি। প্রাণ বাঁচতে কাঞ্চন ওই দোকান থেকে দৌঁড়ে বের হলে তার রক্তাক্ত দেহ লোকজনের চোখে পড়ে। নিহত কাঞ্চনের পিতা আলী আহাম্মদ কবিরাজ চাঁদপুর থেকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানায়।
    তিনি জানান, কাঞ্চনকে মুর্মূষ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে দু’-তিনটি কথাই সে বলতে পেরেছে। এর মধ্যে মীর কাশেমের ফাঁসির কটূক্তি করার প্রতিবাদ করায় তাকে দোকানদার শিব্বির ও মনসুর মেম্বারসহ কয়েকজন বেঁধে ছুরিকাঘাত করেছে সে জ্ঞান থাকাবস্থায় বলতে পেরেছে। কাঞ্চনের চাচা ঢাকার কাফরুল থানার শ্রমিকলীগ নেতা তোফায়েল আহাম্মদ ও অপর চাচা নেছার আহাম্মদসহ পরিবারের লোকজন খুনের বিষয়টি নিয়ে গতকাল সোমবার সরেজমিন গেলে দুপুরে কথা বলার সময় একই কথা জানায়। তারা জানায়, তাদের পরিবারটি আওয়ামী লীগ সমর্থক। কিন্তু শিব্বিরসহ আশপাশের অধিকাংশ লোকজন বিএনপি ও জামাত-শিবিরের সাথে জড়িত। ফলে তারা বিভিন্ন সময়ে কোনঠাঁসা অবস্থায় থেকেছে। গত সোমবার সুযোগ পেয়েই তারা কাঞ্চনকে মেরে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার অপতৎপরতা শুরু করেছে। তারা জানান, কাঞ্চনের বুকে ১টি, তলপেটে ২টি, পিঠে ৪টি, পায়ে ১টি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে খুন ছাড়া এভাবে কাউকে হত্যা করা দুরূহ। এদিকে কাঞ্চনের মা নেহার বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, ছেলেকে ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে কুচক্রী জামাত-শিবিরের লোকজন। এদিকে ঘটনার পর থেকে বাজারের ওই দোকানটি বন্ধ থাকার পাশাপাশি শিব্বিরের বাড়ি ও মনসুর মেম্বার  স্বপরিবারে পালিয়ে গেছে। এদিকে গতকাল বিকেলে কাঞ্চনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
    উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে ফরিদগঞ্জের বেড়ির বাজারে কাপড় কিনতে গিয়ে ব্যবসায়ীর ছুরিকাহতে কাঞ্চন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়।
    এদিকে সন্তোষপুর গ্রামের বেড়ির বাজারে ঘুরে দেখা গেছে। কাপড়ের ব্যবসায়ী শিব্বিরের দোকানটি তালাবদ্ধ। এছাড়া বাজারে আরো বেশি কয়েকটি দোকানও বন্ধ দেখা গেছে। গত রোববারের খুনের বিষয় নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলতে চাইলেও তারা এড়িয়ে গেছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, খুনের ঘটনাটি দুঃখজনক। কিন্তু এর পূর্বে কি ঘটনা হয়েছে। তা আমরা জানিনা। আর এ ঘটনাটি বাজারের মধ্যেই ঘটলো অথচ বাজারের লোকজন টের  পেল না। আরেকজন জানালেন, তিনি ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনাটি পরে জেনেছেন তবে বাজারে উপস্থিত কয়েকজন তাকে জানান, তারা কাঞ্চনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে যেতে দেখেছেন। নিহতের পিতা আলী আহাম্মদ কবিরাজ জানান, তিনি ঘটনার সময় বাজারের দক্ষিণ মাথায় ছিলেন। ঘটনার পর বাজারের চুন্নু ও গিয়াস উদ্দিন তাকে জানায়, কাঞ্চনের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা। তিনি দ্রুত সেখানে গেলে সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের নেপুরা বেগমের ঘরের সামনে কাঞ্চনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন লোকজন জানায়, কাঞ্চন শিব্বিরের ঘর থেকে বের হয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এখানে এসে পড়ে যায়। পড়ে সেখান থেকে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর