সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
logo
৭ বছর ধরে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার ঘানি টানছে পত্রিকা বিলিকারক সুজন
ঢালীর ঘাটে মাদক সম্রাটরদের দৌরাত্ব.......
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:২০:৫০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর পত্রিকা বিলিকারক মোঃ সুজন তালুকদার পিতা মৃত আলাউদ্দিন তালুকদার নুরন্নাপুর বিষ্ণপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বারের ছেলে, ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলার আসামী হয়ে বিগত ৭ বছর ধরে ও ন্যায্য বিচার পায়নি। কিন্তু ঢালীর ঘাটের মাদক স¤্রাটরা পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
    জানা যায়, ২০১০ সালে ইচুলী ঘাট আলম গাজীর দোকানে পত্রিকার বকেয়া টাকা উত্তোলণের সময় এলাকার ঢালী বাড়ির হাফেজ ঢালীর ছেলে মাদক স¤্রাট মোঃ সোহেল ঢালী, মরকম হাওলাদারের ছেলে মোঃ হুমায়ন হাওলাদার, সোহেল পাটওয়ারী, ট্রাক্টর ড্রাইভার মোঃ সুমন, লিটন পাটওয়ারী, সিএনজি চালক কবির হোসেনসহ আরো কয়েক জন এলাকার ইলিয়াছ হাওলাদারকে ডেকে বলে সুজনকে নানীপুর বাজারে নিয়ে আটকে রেখে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অসহায় সুজন তাদের চাঁদার টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে, তারা ১ ঘন্টা তাকে আটকে রেখে চাঁদপুর মডেল থানার তৎকালীন এসআই জহিরকে ফোন করে নিয়ে গাঁজা বিক্রির নাটক সাজিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ জিআর ২৬২ ধারায় ফৌজধারী বিধানে ১৫৪-এর অপরাধে মাদক বিক্রির সাথে জরিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে সুজনকে আদালতে প্রেরণ করে, আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করলে ১ মাস কারাবাস করে সুজন বের হয়। পরে প্রতিমাসে সুজন মামলার হাজিরা দিতে থাকে। এরপরে ঐ সালের ১০ মার্চ সুজন হাজিরা দিতে গেলে পুনরায় তাকে আদালত কারাগারে প্রেরন করলে বিগত ২৯ দিন পরে জামিনে জেল থেকে বের হয়। অসহায় পত্রিকা বিলিকারক সুজন নুন আনতে পানতা ফুরায়। তারপরও দু’ বারে জামিনের জন্য স্ত্রীর স্বর্ণের গহনা ও বাড়িতে থাকা ১৫ হাজার ইট বিক্রি করেছে বলে সুজন জানান, এদিকে মাদক মামলার পুনঃতদন্ত রিপোর্টের দায়িত্ব এসআই মনিরের উপর পরলে তিনি এসআই প্রদীপ কুমারকে দায়িত্ব দিলে রিপোর্টে সুজনকে রঘুনাথপুর জনতা ব্রিক ফিল্টে আটক দেখানো হয়। সেখানেও সুজনের উপর অন্যায় বিচার করা হয় বলে সে বলেন। সুজন উল্লেখযোগ্য মাদক স¤্রাটদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তার জীবনে নেমে এসেছিলো ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলার আসামী। বিগত ৩০ বছর দরে সুজন শহরসহ ৬টি ইউনিয়নে পত্রিকা বিলি করে আসছে। তার কর্মজীবনে ২৫ টাকা দিন মজুর থেকে আজ হারভাঙা পরিশ্রমে ৩শ’ টাকা হাজিরা পরে। বিগত দু’ মাসের কারাদ- অবস্থায় সুজনের নামে বরাদ্দকৃত জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা বিলি না করেও ৭০ হাজার টাকা বকেয়া লিখিত রয়েছে। চাঁদপুর এজেন্ট মালিকের কাছে যা আজোও পরিশোধ করতে পারেনি সে। একজন দিন মজুর ছেলে ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলার ঘানি টেনে বিগত সাত বছরে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কি অপরাধ ছিলো পত্রিকা বিলিকারক সুজনের। যার প্রতিদান হয়রানিমূলক মাদক মামলার আসামী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয়। এদিকে আরো জানা যায়, ২০১০ সালে দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠে ঢালীর ঘাটের সোহেল ঢালীর গাজার স¤্রাট একটি সংবাদ প্রকাশের কয়েক দিন পরে সুজনকে তারা মাদক মামলার আসামী করে। তৎকালীন সময় সুজন চাঁদপুর কন্ঠ পত্রিকাটি ঢালীর ঘাট এলাকায় বিলি করতো, যার সূত্রপাতে তাকে আসামী হতে হয়েছে। এছাড়া সুজন হতদরিদ্র হয়ে পরায় তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে টাকার অভাবে জামাই বাড়ি যেতে পারেনি বিগত তিন বছরে। অপরদিকে শাহনাজ কাউন্সিলরের বাড়ির ভাড়াটের সিএনজি চালক রবিনের কাছে ৫ হাজার টাকা পাবে। কিন্তু সে টাকা চাইতে গেলে রবিন তাকে মামলার আসামী করার হুমকি প্রদান করে। অপরদিকে সুজনকে চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী পত্রিকা বিলির জন্য নিজের টাকা দিয়ে ১টি সাইকেল কিনে দিয়েছে। সে সাইকেল ১টি মোবাইল ও নগদ তিন হাজার টাকা ইলিয়াছ হাওলাদারসহ তারা রেখে দেয়। আজো তা ফেরৎ দেয়নি। বিগত সাতবছর পেরিয়ে গেলে আজো সুজনের ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলার নিঃস্পত্তি হয়নি। যার কারণে সে এখন পথের ভিখারী। তবে যারা তাকে থেকে বর্তমান পর্যন্ত মাদক বিক্রি করছে তাদের কোন বিচার হচ্ছে না। ঢালীর ঘাট এলাকার সোহেলসহ উল্লেখযোগ্যরা জমজমাট ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করার খবর পাওয়া যায়। এরা ঢালীর ঘাট চৌরাস্তা নানীপুর চৌরাস্তায় মোবাইল ফোনের মাধ্যম মরণনেশা মাদক বিক্রি করে প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদকের মামলা রয়েছে, গোপনীয় সূত্রে পাওয়া যায় এরা জামায়াত বিএনপিপন্থি। গা বাঁচানোর জন্য আওয়ামী লীগের নাম বিক্রি করে নানাহ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- দিনের পর দিন করে যাচ্ছে। তাদের অপরাধের কেউ বাধা প্রধান করলে তাদেরকে মিথ্যে মাদক মামলার আসামী বানিয়ে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করে। তাছাড়া এলাকার নিরীহ মানুষের উপর এরা নির্যাতন করে বলে নাম প্রকাশ্যে অনিহা জানিয়ে এলাকার অনেকে অভিযোগ করেন। তাদের মাদকের ছোবলে যুবসমাজ আজো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তাদের প্রতিহত করতে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার নজর প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। বর্তমানে ষড়যন্ত্রমূলক মাদকের মামলার মুক্তি পাবার আসায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সুজন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর