রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশ
কবর থেকে হাজীগঞ্জের সেই গৃহবধূর লাশ উত্তোলন
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:১৩:৩১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: সম্প্রতি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পাতায় 'আমার বোন আত্মহত্যা করেনি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে' এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মনোয়ারা (৪২) নামের সেই নারীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করার পর ময়না তদন্ত শেষে ঐ নারীর বাবার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে চাঁদপুর কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম।
এর আগে গত ১০ আগস্ট মনোয়ারা বেগম স্বামীর বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ দাফন করা হয়। মনোয়ারার মৃত্যুর ৬ দিন পর তার ভাই আঃ হাই ভগি্নপতি মোস্তফা কামাল (৪৮)কে একমাত্র আসামী করে চাঁদপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মনোয়ারা বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা গ্রামের নুরুল হকের মেয়ে।
এদিন সকাল ১১টায় উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের স্থানীয় ডাটরা মোল্লাবাড়ি মরহুম হাজী জাহাঙ্গীর আলম পাঞ্জেগানা মসজিদ সংলগ্ন (স্বামীর বাড়ির) কবরস্থান থেকে মনোয়ারার লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলন করার সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলম, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ হুমায়ুন (মামলার আইও), হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শাহীদ হোসাঈন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু, মনোয়ারার ভাই ও মামলার বাদী মোঃ আব্দুল হাইসহ এলাকার কয়েকশ' উৎসুক জনতা।
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২৮/৮/২০১৬ তারিখে (৪)নং স্মারকের প্রেক্ষিতে জিআর ১৫৯/২০১৬ খ্রিঃ (হাজীগঞ্জ থানার মামলা নং-১৫, তারিখ ২৫/৮/২০১খ্রিঃ দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ পিসি) মামলার ভিকটিম মৃত মনোয়ারা বেগমের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার নিমিত্তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলমকে নিয়োগ করে।
মনোয়ারার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মনোয়ারা বেগমকে তার স্বামী মোঃ মোস্তফা কামাল তার নিজ বাড়িতে পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা করে। যা পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে নিহতের লাশ দাফন করে। মোস্তফা কামালের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ার কারণে গত ১৬ আগস্ট আব্দুল হাই বাদী হয়ে ভগি্নপতি মোঃ মোস্তফা কামাল (৪৮)কে বিবাদী করে চাঁদপুর আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
নিহত মনোয়ারার বড় বোন তাছলিমা জানান, আমার বোন যদি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতো তাহলে আমরা দেখতাম এবং বাড়ির সবাই দেখতো। কিন্তু ফাঁসি দিতে কেউ দেখেনি, এমনকি ফাঁসি দেয়ার পর ঝুলন্ত অবস্থায়ও কেউ তাকে দেখেনি। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিলো এতেই প্রমাণ হয় আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
আঃ হাই আরো বলেন, বোনকে হত্যার পরেই আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বিভিন্ন আচরণে আমরা স্পষ্টত বুঝতে পেরেছি, বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তাই আমি সঠিক তদন্তপূর্বক বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি এবং থানায় মামলা করেছি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলাম। একই দিন বিকেলের কিছু পরে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের বাবার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর