বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে ডাঃ দীপু মনির যোগাযোগ
শহর রক্ষাবাঁধের পুরাণবাজার এলাকায় ভাঙ্গন আতঙ্ক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:০৮:০৩
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্ক। শিক্ষা সচিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গতকাল ১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল পৌনে ৫টার দিকে পুরাণবাজার হরিসভা এলাকাস্থ বণিক বাড়ি সংলগ্ন স্থানের শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদীর প্রচন্ড স্রোতে ওই স্থানে প্লেসিং করা সিসি বস্নকসহ জিও টেঙ্টাইল ব্যাগগুলো নদীতে তলিয়ে যায়। ফলে এ স্থানের প্রায় ৩০ হতে ৪০ মিটার স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। দেখা যায় এলাকাবাসীর মনে ভাঙ্গন আতঙ্ক। ভাঙ্গন সংবাদ শুনে সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গনস্থল পরিদর্শন করেন শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু রাইয়ান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সফিউদ্দিন, চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুল করীম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান খান, মোঃ ফখরুল আমিন ছিদ্দিকী, পৌর প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। জেলা প্রশাসক ভাঙ্গনরোধে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান বলেন, গত কয়েক দিন পূর্বে হয়ে যাওয়া প্রচ- জলোচ্ছ্বাসের কারণে এ স্থানে প্রচ- স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং এ স্থানের পানির গভীরতাও বেড়ে যায়। ফলে পানির ঢেউয়ের আঘাতে নিচের মাটি সরে গিয়ে এ ভাঙ্গন দেখা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান।
বণিক বাড়ির শিশির বণিক বলেন, গত কয়েক দিন যাবৎ ভাঙ্গনকৃত স্থানে প্রচ- ঢেউ আর স্রোতের কারণে এ স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। আমরা এ বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানাই। কিন্তু আমাদের কথার তেমন পাত্তা মিলেনি। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ একটু সামান্য খেয়াল করতেন তাহলে হয়তো ভাঙ্গন কিছুটা হলেও রোধ করা যেতো। তবে যেই যাই বলুক, কয়েকদিন যাবৎই মেঘনা নদীতে প্রচ- স্রোত ও প্রবল ঢেউ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ৫/৬ মাস পূর্বেও এমনিভাবে হরিসভা সংলগ্ন স্থানের কিছু অংশ নদীতে ভেঙ্গে গেলে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে তৎপর হয়ে উঠেন। সেই অনুযায়ী গত ৪/৫ মাস পূর্বে এ স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও টেঙ্টাইল ব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু আশানুরূপ সিসি বস্নক না ফেলায় যে পরিমাণ জিও টেঙ্টাইল ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়েছে তার অধিকাংশ স্রোতের টানে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ভাঙ্গন কবলিত স্থানে পুনরায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। অপর দিকে ভাঙ্গন কবলিত স্থানে যে পরিমাণ জিও ব্যাগসহ বস্নক ফেলার টেন্ডার হয়, সেই পরিমাণ জিও টেঙ্টাইল ব্যাগ ফেলা হলেও সিসি বস্নক সেই পরিমাণ ফেলা হয় না বলেও ভাঙ্গন কবলিত স্থানের মানুষের অভিযোগ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড গত কয়েকমাস পূর্বেও অত্যাধুনিক সার্ভে দ্বারা শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার মদিনা মসজিদ স্থান হতে হরিসভা বকাউল বাড়ি পর্যন্ত পানির গভীরতাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নির্ণয় পূর্বক একটি রিপোর্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে সুপারিশ ঢাকা প্রেরণ করেন। কিন্তু তার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো নির্দেশনামা এখনও চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড পায়নি বলে জানা যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী শহর রক্ষা বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে সকল ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গতকাল ভোর পৌনে ৫টার দিকে হরিসভা এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিলেও ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থাগ্রহণে জিও টেঙ্টাইল ব্যাগ ফেলা শুরু হয় দুপুর প্রায় ১টার দিকে। অথচ বালু ভর্তি জিও টেঙ্টাইল ব্যাগ পূর্ব থেকেই ভাঙ্গন কবলিত স্থান থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গজ দূরে রাখা ছিলো। কিন্তু প্রয়োজনীয় লেবার সঙ্কটের কারণে তা সময় মতো ফেলা যায় নি। ভাঙ্গন সংবাদ শুনে সকাল ৯টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহাদাৎ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
গতকাল হরিসভা এলকার শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন সংবাদটি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি অবহিত হন। তিনি সংবাদটি শুনে এ ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চাঁদপুরের প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি শহর রক্ষা বাঁধ সংক্ষণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর