শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
logo
ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার * শিক্ষা সচিব নিহতের বাড়িতে কাল আসছেন
বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আত্মহনন ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড়
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:৫৩:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নস্থ বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সাথী আক্তারের আত্মহননের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় চলছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহলে বিষয়টি নাড়া দিয়েছে। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। শুধু তাই নয়, শিক্ষা সচিব নিজে আগামীকাল বৃহস্পতিবার চাঁদপুর আসছেন এবং নিহত ছাত্রী সাথী আক্তারের বাড়িতে যাবেন। জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুস সবুর মন্ডল ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার গতকাল মঙ্গলবার নিহত সাথী আক্তারের বাড়িতে গেলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। এমনকি গতকাল সাথী আক্তারের বাড়িতে অবস্থান করাকালীন শিক্ষা সচিব জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে ফোন দিয়েছেন।
বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের এ বছরের জেএসসি পরীক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান সাথী আক্তারের মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফিসহ বকেয়া পাওনা থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাত্র ২০ টাকা পাওনা থাকায় বিদ্যালয়ের ক'জন শিক্ষক তাকে পরপর দু'দিন খুব অপমান করে। এ অপমান সইতে না পেরে সাথী ২৯ আগস্ট সোমবার বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে গিয়ে ঘরের অাঁড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ মর্মান্তিক ঘটনা পরদিন গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সকল দৈনিক পত্রিকায় এবং বেশ ক'টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। আর ঘটনার দিনই বিভিন্ন টিভিতে সংবাদ শিরোনামে স্ক্রলসহ সংবাদ পরিবেশিত হয়। এতে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রকৃত ঘটনা জানতে নিহত স্কুল ছাত্রী সাথী আক্তারের বাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলে যান। এ সময় তাঁদের সাথে ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উদয়ন দেওয়ান, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শফিউদ্দিন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি বিএম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালীউল্লাহ অলি, বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বিল্লাল ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহাবুব।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রথমে নিহত সাথী আক্তারের বাড়িতে গেলে সাথীর পিতা দেলোয়ার শেখ ও মাতা সায়েরা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় তাঁরা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার নিহত সাথীর বাবা-মা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেন। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক নিহত সাথী আক্তারের পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা দেন।
নিহত সাথীর পরিবার ও এলাকার জনগণের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন। বৃহস্পতিবার শিক্ষা সচিব নিজে নিহত সাথী আক্তারের বাড়িতে আসবেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি কঠোরভাবে দেখছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক দায়ী হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়েদের পড়াশোনা সরকার ফ্রি করে দিয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের কি কি গাফিলতি ছিল এরই মধ্যে তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনায় সদর ইউএনও'র নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি।
পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এ ঘটনার পরপরই থানায় ৪ শিক্ষককে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। যারাই এ ঘটনার জন্যে দায়ী হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন তিনি।
পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। তাঁদের সাথে প্রেসক্লাব সভাপতি, সেক্রেটারী ও বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যানও ছিলেন। তাঁরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। ওইদিনকার ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষকদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক)সহ বেশকজন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা জব্দ করেন এবং অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর