বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০
logo
পরীক্ষার ফি বাবদ মাত্র ২০টাকা কম দেয়ায় শিক্ষকদের অপমান
চাঁদপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:৩৯:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুর: চাঁদপুরে মাত্র ২০ টাকার জন্য শিক্ষকদের অপমান, অপদস্ত সহ্য করতে না পেরে সাথী অক্তার (১৬) নামের ৮ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিলসহ অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের শেখ বাড়িতে ।
         স্কুল ছাত্রী সাথীর মা চায়না বেগম ও এলাকাবাসী জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়তো সাথী। স্কুলের  অফিস সহকারী ফাতেমা বেগম ও সহকারী শিক্ষক শংকর তারা দু’জন জেএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছে ২শ’ ৮০টাকা করে নেন। গত রবিবার সাথী আক্তার স্কুলে গেলে শিক্ষক ফাতেমা বেগমের কাছে ২শ’ ৬০ টাকা দিলে ২০ টাকা কম দেয়ায় তাকে বিদ্যালয়ের বাহিরে রৌদ্রে দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি প্রদান করেন। পরদিন সোমবার সকালে সাথী আক্তার পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। পরে সে বাড়িতে গিয়ে টাকার জন্য মায়ের সাথে কান্নাকাটি করে। তার মা চায়না বেগম টাকা যোগার করতে বাহিরে অন্য বাড়িতে গেলে এ সুযোগে সাথী শিক্ষকদের অপমান সইতে না পেরে রাগে ক্ষোভে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেছিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
         এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসি উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালায়। পরে বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আত্মহত্যার ঘটনাটি আমরা শুনেছি এবং তাকে দেখে এসেছি। বাকি কথা বলার আগেই বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ভাংচুরের কারনে তিনি পুরোপুরি বক্তব্য দিতে পারেননি, পালিয়ে যান। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা বেগম ও শংরের সাথে কথা বলতে চাইলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তার আগেই স্কুলের মারমুখি অবস্থান থেকে গা ঢাকা দেন।
       এদিকে এলাকাবাসি উক্ত বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে জানান, এর আগেও এ স্কুলের শিক্ষকদের এমন নিষ্ঠুর আচরনের কারনে আরো ক’জন ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে এবং বিষপানে আত্মহত্যা করে। ১৫দিন আগেও পরীক্ষার ফির টাকার জন্য নানুপুর গ্রামের একছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এছাড়াও গত বছর একই বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের অপমানে অভিমান করে দু’ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এলাকাবাসি আরো জানায়, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে যদি কোন শিক্ষার্থী প্রাইভেট কিংবা কোচিং না পড়ে তাহলে তাদের সাথে খারাপ আচরন করা হয়। এরকম আরো অনেক অনিয়মের কথা এলাকাবাসী সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। আগামীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তাই এমন ঘটনার জন্য বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি অভিযুক্ত স্কুল এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর