রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০
logo
চাঁদপুরের চরাঞ্চলে বৈধ-অবৈধ প্রক্রিয়ায় চলছে গরু মোটাতাজাকরণ
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট, ২০১৬ ১২:১২:০৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুর ও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বৈধ-অবৈধ প্রক্রিয়ায় গরু মোটা তাজাকরণ প্রক্রিয়া চলছে। অনেক গোখামারী ও সাধারণ গৃহস্থরা ভয়াবহতা জেনেও অতি মুনাফার লোভে স্টরয়েড জাতীয় ঔষধ গোপনে তাদের পালিত গরুগুলো মোটা তাজাকরণে ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ এসব ঔষধ ব্যবহাররোধে স্থানীয় পশু সম্পদ বিভাগের তেমন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ ওঠেছে। অথচ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ দাবি করছে স্টরয়েড বা বিষাক্ত ঔষধে মোটা তাজাকরণ রোধ করতে ৩৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাট বাজারে কাজ শুরু করেছে। চাঁদপুরে নিবন্ধনকৃত গোখামারীর সংখ্যা ৪ হাজার ৩শ ২২ টি। এছাড়া অনিবন্ধিত রয়েছে প্রায় ৮শ খামার বলে জানা গেছে। এসব খামারে গাভী গরু ছাড়াও ষাঁড় গরু পালন করা হয়। যেমন এ বছরেও হচ্ছে। এছাড়া গ্রামের কৃষক কিংবা অন্য পেশার সাধারণ পরিবার দু'একটি করে ষাঁড় গরু লালন-পালন করছে। মূলতঃ কোরবানীর ঈদকে লক্ষ্য করেই খামারী ও গৃহস্থরা গরুগুলো পালছে। চরাঞ্চলে বেশি সংখ্যক গরু পালন করা হয়। চরাঞ্চলে গরু পালনকারীরা তাদের গরুগুলোকে মোটা তাজাকরণে স্টরয়েড জাতীয় ঔষধ সামগ্রী ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু এক্ষেত্রে গরুর বাজারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবৈধ প্রক্রিয়ায় মোটাতাজাকরণকৃত গরু আটকাতে কিংবা গরুর মালিককে জরিমানা করতে দেখা যায়নি। স্টরয়েড ব্যবহারে গরু দ্রুত মোটা তাজা হলেও বিভিন্ন রোগব্যাধি তার মধ্যে জন্মায়। আর এসব গরুর মাংস খেলে মানবদেহে কিডনী, লিভার অকেজো, হৃদপিন্ডের সমস্যা এমনকি ক্যান্সার রোগ হয়। গত কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরের ঘরে ঘরে দেশীয় জাতের ষাঁড় গরু লালন পালন চলছে।
গরু মোটাতাজকরণে এসব ঔষধ নিষিদ্ধ প্রত্যন্ত অঞ্চলে অতি সহজেই পাওয়া যায়। দেশীয় কোম্পানী ছাড়াও ভারত থেকে চোরাই পথে এসব নিষিদ্ধ ঔষধ আসছে। এ অঞ্চলের উপজেলা সদর ছাড়াও গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে লাইসেন্সবিহীন একাধিক ঔষধের দোকান রয়েছে। এমনকি দু'একটি গ্রাম্য বাজারে একই দোকানে গরু ও মানুষের ঔষধ বিক্রি করা হয়। মতলব উত্তরের প্রায় ফার্মেসীতে এসব নিষিদ্ধ ঔষধ বিক্রি হয়ে আসছে। ফার্মেসী ছাড়াও চোরাকারবারিরা খামারী ও গরু পালনকারীদের কাছে সরাসরি নিষিদ্ধ ঔষধ সমাগ্রী বিক্রি করছে। ভারত থেকে চোরাই পথে এসব নিষিদ্ধ ঔষধ আসছে। বিভিন্ন গো-খামারী ও গৃহস্থরা তাদের গরু মোটা তাজাকরণে নিষিদ্ধ এসব ঔষধ সামগ্রী খাওয়ালেও এরা তা স্বীকার করে না। এরা গোপনে এনে গোপনেই গরুগুলোকে ঔষধ খাওয়াচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে স্টরয়েড ব্যবহারের সত্যতা মিললেও কোন খামারী তা স্বীকার করেনি। চাঁদপুর সদরের ৬টি ইউনিয়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করতে খামারিদেরকে ২দিন করে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন খামার মালিকেরা গরু মোটাতাজা করতে ভাত, মিষ্টির রস ও আখের গুড় খাওয়াচ্ছে। মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরু মোটাতাজকরণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার বন্ধে খামারী ও গৃহস্থদের নিরোৎসাহী করতে কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে গরুর বেপারীরা কোরবানী ঈদ সামনে রেখে চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ও কান্দিতে গরু ক্রয়ে নেমেছে। এরা এসব এলাকায় ঘুরে ঘুরে পছন্দের গরু কিনছে। এবারে গো-খাদ্যে ভুষি, খৈল ও অন্যান্য সামগ্রী বেশি দামে গরু পালনে খরচ বাড়ছে। গত ক'দিনে মতলব উত্তরে একাধিক হাটে বিপুল সংখ্যক দেশীয় জাতের ষাঁড় গরু বিক্রির জন্য আনা হয়। সরজমিনে দেখা যায়, বেপারীরা এসব গরুর দাম অনেক কম হাঁকছে। এদিকে ক্রেতা অর্থাৎ বেপারীর সংখ্যা বেশ কম দেখা গেছে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে যারা গরু কিনছে এদের একাধিক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাটের চেয়ে গ্রামে কিছুটা হলেও কম দামে কিনতে পারা যায় এবং লালন পালনের কোনো ঝামেলা থাকেনা। একাধিক গরুর বেপারী জানান, সব গরু খামারী ও গৃহস্থরা স্টরয়েড ব্যবহার করে না। কেননা ব্যবহারে ঝুঁঁকিও রয়েছে। তারা গরু দেখেই বুঝতে পারেন মোটাতাজাকরণে স্টরয়েড ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।
গরুর বেপারী শাহজাহান জানান, অনেকদিন ধরে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দেশীয় গরু পালনকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আহমদ জানান, মানবিক কারণে স্টরয়েড ওষুধ ব্যবহার না করা উচিত। মাঠ পর্যায়ে তাদের তদারকি আছে তবে জনবলের অভাবে জোরালোভাবে তা করতে পারছেন না। তিনি জানান, আগামী ক'দিনের মধ্যেই এ নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার রোধে জনসচেতনতায় বৈঠক করা হবে। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম জানান, গরু মোটাতাজাকরণে নিষিদ্ধ ওষুধের বিক্রেতা এবং যারা ব্যবহার করছে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল করিম বলেন এ জেলায় কিছু স্টরয়েড ব্যবহারকৃত কিছু গরু আসে কুমিল্লা জেলা দিয়ে। আমাদের মেডিকেল টিম হাটবাজারগুলোতে কাজ করছে। কোন খামারীর গরু যেন অসুবিধা না হয় সে জন্য এ টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর