শনিবার, ৩০ মে ২০২০
logo
চাঁদপুরে বিদ্যুৎ ভোগান্তি নিরসনে পাওয়ার সেলের ডিজি ও স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপ কামনা
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০৮:২৫:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরে বিদ্যুতের নানা ধরনের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সার্ভিস থেকে শহরবাসী বঞ্চিত। কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে কমপক্ষে ১৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। বিদ্যুতের এই ভেল্কিবাজিতে শহরবাসী অতিষ্ঠ। আর কোথাও যদি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয় তা আনতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যায়। আর এই ২-৩ দিন ওই এলাকার মানুষকে অন্ধকারে থাকতে হয়। চাঁদপুরের মতো একটি উন্নত জেলায় বিদ্যুতের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের কার্যক্রম যদি কচ্ছপের গতিতে চলে তাহলে জনগণকে হতবাকই হতে হয়।
চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোড এলাকার আংশিক এলাকা ও বহরদার বাড়ি রোড এলাকায় গত বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। এর কারণ জানতে গতকাল যোগাযোগ করা হয় চাঁদপুর বিউবো'র নির্বাহী প্রকৌশলী আ হ ম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, ওই এলাকার ট্রান্সফর্মারটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের কাছে বাড়তি কোনো ট্রান্সফর্মার মজুদ নাই। তাই ঢাকা বা কুমিল্লা থেকে আনতে হচ্ছে। আগামীকাল (আজ শনিবার) তারা বিদ্যুৎ পেয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত কিছু ট্রান্সফর্মার চেয়ে আমাদের পাওয়ার সেলের ডিজি মহোদয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি আন্তরিকতার সাথে বিষয়টা দেখছেন।
এদিকে চাঁদপুর শহরে বিদ্যুতের লোডশেডিং সম্প্রতি অনেক বেড়ে গেছে। প্রত্যেকদিনই কোনো না কোনো এলাকায় বেশ ক'বার লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। যেমন চাঁদপুর শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন এ প্রতিবেদককে জানান, গত বৃহস্পতিবার তাঁর এলাকায় সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ১৫ বার লোডশেডিং করা হয়েছে। একেকবার বিদ্যুৎ চলে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিটের মতো থাকে না। আবার যখন বিদ্যুৎ আসে, ১০-১৫ মিনিট পর আবার চলে যায়। এভাবেই ১৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলো। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, এটা কী ধরনের লোডশেডিং ? এছাড়া শহরের প্রত্যেকটি এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কম-বেশি লোডশেডিং হয়। এ বিয়য়ে জানতে চাঁদপুর বিউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আমাদেরকে গ্রীড থেকেই কম বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। সেজন্যে ওই দিন শহরে লোডশেডিং বেশি হয়েছে।
এ দিকে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের এতোসব সঙ্কট, নানা হিসাব-নিকাশ জনগণ মানতে রাজি নয়। জনগণের বক্তব্য হচ্ছে : বিদ্যুতের উৎপাদন অনেক বেড়েছে, বিদ্যুৎ সেক্টরটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নিজে দেখেন, চাঁদপুর শহরে দেড়শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হলো। তারপরও কেনো আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবো। তাছাড়া ট্রান্সফর্মার নষ্টসহ অন্য কোনো ত্রুটি হলে তা সারতে যে সময় নেয়া হয় তাও মেনে নেয়ার মতো নয়। জনগণের আরো বক্তব্য হচ্ছে : চাঁদপুর জেলা একটি উন্নত জেলা। পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসেন চাঁদপুর জেলার সন্তান। আবার চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এছড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও বর্তমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমও এই জেলারই কৃতী সন্তান।
তারপরও চাঁদপুর শহরসহ জেলার মানুষ বিদ্যুতের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হবে তা জনগণ স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না। চাঁদপুরবাসী এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসেন ও ডাঃ দীপু মনি এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর