শনিবার, ৩০ মে ২০২০
logo
ফরিদগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে নির্বাহী মহাসচিব মাওঃ মাসউদ হোসাইন
ভোগ-বিলাস পরিহার করে সুন্নীদের ত্যাগের মহীমায় উদ্ভাসিত হতে হবে
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট, ২০১৬ ০৯:২২:১০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী মহাসচিব মাওঃ মাসউদ হোসাইন আল-কাদেরী বলেছেন, ইসলাম আজ ঘরের ও বাইরের শত্রু দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের সুন্নী মুসলমানদের জন্য বড় কঠিন সময়। একদিকে মুসলমান নামধারী একটি গোষ্ঠী নিত্য নতুন ফতোয়া দিয়ে হাজারো বছর ধরে অবিকৃত অবস্থায় চলে আসা মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ও আমলের মধ্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খল ও অনৈক্য সৃষ্টি করছে। আর এ ফতোয়াবাজরাই নিজেদের ছাড়া অন্য সকল মুসলমানকে মুশরিক মনে করে। এ জন্যই তারা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করে তাদের মত ও বিশ্বাসের বিপরীতে কি মুসলিম কি অমুসলিম সকলকে হত্যা করার পথ বেছে নিয়েছে। আজকের এই জঙ্গিবাদ সেই ফতোয়াবাজদেরই সৃষ্টি। তারা একেক সময় একেকরূপে একেক পরিচয়ে আবির্ভূত হয়। এক সময় ছিলো তারা খারেজী বর্তমানে কওমী, এক সময় ছিলো ইসলামী ছাত্র সংঘ, পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবির, আর বর্তমানে আহলে হাদিস তথা সালাফী-লামাযহাবী। এমনিভাবে মুসলমানদের মধ্যে এসব বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যুব সমাজকে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মগজ ধোলাই করে তাদেরকে মানুষ খুন করার উম্মাদনায় নামিয়ে দিয়েছে। আর এ সকল কিছুর পেছনে রয়েছে ইহুদী এবং ইহুদী রাষ্ট্রের সকল ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা। আর এসব ইসলাম ও মানবতা বিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ইসলামের সঠিক মত ও পথ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সবসময় সোচ্চার। তাই সুন্নীদের ঘরের ও বাইরের শত্রুদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আর তা মোকাবেলা করার জন্যে আমাদের যে প্রস্তুতি থাকার দরকার তা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের মধ্যে অনেকে ভোগ-বিলাসের মধ্যে মত্ত থাকে। তাই সকল ধরনের ভোগ-বিলাস পরিহার করে সুন্নীদের ত্যাগের মহীমায় উদ্ভাসিত হতে হবে। তবে আমরা সকল বাতিলের মোকাবেলা করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পক্ষ থেকে বহু আগেই বাংলাদেশে কারা, কোন্ কোন্ গোষ্ঠী জঙ্গিবাদকে লালন করছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে তা বলে আসছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথায় কর্ণপাত করে নি। যার মূল্য এখন গোটা জাতিকে দিতে হচ্ছে। সরকার যদি শহীদ আল্লামা নূরুল ইসলাম ফারুকী (রঃ) হত্যার বিচার করতো তাহলে এ দেশের জঙ্গিদের মূল হোতারা আটক হতো। তখন আর জঙ্গিবাদ এভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারতো না। আমরা আশঙ্কা করছি সরকারের ভেতরে একটি কুচক্রী মহল ঘাপটি মেরে বর্ণচোরার ন্যায় লুকিয়ে আছে যারা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাই সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মাওঃ মাসউদ হোসাইন গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চাঁদপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান। তাঁরই সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওঃ খোরশেদ আলম আল-কাদেরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক আল হোসাইনী রেজভী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সমন্বয় পরিষদের জেলা সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওঃ আবু জাফর মোঃ মাঈনুদ্দীন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, মাওঃ তাজুল ইসলাম চাঁদপুরী ও জমিয়াতুল মোদার্রেছিন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান। আরো বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা গাউছিয়া কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মাওঃ আবু তাহের, মাওঃ সাইফুল ইসলাম, মাওঃ বাকী বিল্লাহ, মুফতি মোঃ শাহজালাল, মাওঃ আমির হোসেন, মাওঃ মোশারফ হোসেন, মুফতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শহীদ উল্যা তপাদার, মাওঃ মোঃ আঃ মতিন, মোঃ রিয়াজুল করিম, মাওঃ মোঃ মহিউদ্দিন ইকবাল প্রমুখ। সবশেষে মিলাদ কিয়াম ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ২ বছরের মেয়াদে কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। ২১১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন এ কার্যকরী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওঃ শরীফ মোহাম্মদ তাজাম্মুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাওঃ খোলশেদ আলম আল কাদেরী। এছাড়া ড. একেএম মাহবুবুর রহমানকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৭৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর