মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুর ঘাটে বেড়েছে ইলিশের আমদানি কমছেনা দাম
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:১৮:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর মাছ ঘাটে গত কয়েক দিন যাবত ইলিশের আমদানি বেড়েছে। প্রতিদিনই সড়ক ও নদী পথে দক্ষিণ অঞ্চল থেকে প্রচুর ইলিশ বিক্রির জন্য এ ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এখানকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের দাবি ভরা মওসুম হওয়া সত্ত্বেও আশানুরূপ ইলিশ হচ্ছেনা, মাছ কম। কিন্তু সরজমিনে গতকাল চাঁদপুর মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই প্রচুর ইলিশ আড়তগুলোতে উঠেছে। কর্মব্যস্ত আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী, বেপারী, হিসাবরক্ষক, আমাদানি রপ্তানির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীরা। শোনা যাচ্ছে বরফ ভাঙ্গার প্রচ- শব্দ। দূর-দূরান্ত থেকে সখে মাছ কেনার জন্যেও অনেকে আসছে। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত চলে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ের উৎসব। এরপরের সময়গুলোতেও কম-বেশি মাছ আসছে। প্রচুর ইলিশের আমদানি হলেও দাম তেমন একটা কমছে না। এবার আহরিত ইলিশের মধ্যে বড় আকারের ইলিশের বেশ দেখা মিলেছে। ইলিশ মাছ পচনশীল কাঁচা পণ্য। আমদানি বেশি হলে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকার কথা। কিন্তু ইলিশের ভরপুর আমদানিতেও তা নাগালের বাইরে। তাই বেশি মাছ আসাতে খুশি নন চাঁদপুরের মানুষ। কারণ ইলিশের নগরী হওয়া সত্ত্বেও এখানকার মানুষ সীমিত দামে ইলিশ খেতে পারে না।
ছোট ছোট পোনা ইলিশ সাড়ে ৩শ' থেকে ৪শ' টাকা কেজিতে কিনে ইলিশের স্বাদ অনেকে নিচ্ছে। এখনো ইলিশের কেজি আকারভেদে ৫শ টাকা থেকে হাজার ১২শ' টাকা।
নোভাটিস ঔষধ কোম্পানির মেডিকেল প্রতিনিধি আরিফ (৪০) জানান, কিছু মাছ কেনার জন্যে তারা কয়েক বন্ধু ঘাটে এসেছে। হাজী আব্দুর রব চোকদারের আড়তে ৯ শ' টাকা কেজি চাচ্ছে, সাড়ে ৬শ টাকা থেকে ৭শ টাকা দাম বলার পরও দিচ্ছে না। দাম কমলো কই?
ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন শাকিল (৩৮) জানান, ৮শ' টাকা কেজিতে ৩ কেজি ২শ' গ্রাম ৪টা ইলিশ কিনেছেন ২ হাজার ৬শ' টাকায়। এত দাম দিয়েতো সাধারণ মানুষ মাছ কিনে খেতে পারবে না।
একটি সূত্রে জানা যায়, ভাদ্র মাসে ইলিশের ব্যাপক আমদানি হয়ে থাকে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির কারণে ইলিশ আহরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। তারা বিভিন্ন কায়দায় কক্শীটে এবং কোল্ডস্টোরেজে ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করে চাঁদপুর থেকে বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। দেশের অভ্যন্তরে ইলিশের চালান সরবরাহ করা হয় বলে মাছ চালানীরা জানালেও কৌশলে সেই মাছের চালান ইন্ডিয়াতেও পাচার হচ্ছে।
এ কারণে চাঁদপুর ঘাটে আসা প্রচুর ইলিশ নিমিষেই অন্যত্র চালানি হয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর মানুষ তাতে বেশি লাভবান হচ্ছে। এখানকার মৎস্য ব্যবসায়ী সেকান্তর কোম্পানীর পরিচালক শবেবরাত জানিয়েছেন, দূর থেকে বুঝা যায় ব্যাপক আমদানি। আগে প্রতিদিন ২ হাজার মণ ইলিশ ঘাটে আসতো। সেখানে এখন মাছ ৩ শ' মণও হয় না। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় গভীর সমুদ্র থেকে বেশির ভাগ ইলিশ বার্মা এবং ইন্ডিয়া চলে যায়।
ঘাটের ব্যবসায়ী দেলোয়ার খান ও মিজানুর রহমান শেখ জানান, মাছ বেশি হওয়াতে আগের চেয়ে কেজিতে ৪/৫শ' টাকা দাম কমেছে। এক কেজির উপরে হাজার/বারোশ' টাকা। এক কেজির নিচে ৮/৯শ' টাকা কেজি।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি চাঁদপুরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তছলিম বেপারী জানান, শ্রাবণের ১৫ থেকে ভাদ্র মাসের এ ক'দিন মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ডাউনে হাইমচর থেকে চর আলেকজান্ডার এলাকায় ভালোই মাছ ধরা পড়েছে। 'দাম কমছে না কেন' এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গায় মাছ পাচার করে দেয়ায় চাঁদপুরে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকছে না। সেজন্যে মাছের দাম গরিবের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে নেই।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, ইলিশ আাসছে মাশআল্লাহ। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ানের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন চরভৈরবী হাইমচর এলাকায় জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাচ্ছে। প্রতিটি জেলে ২০/২৫ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। নদীতে স্রোত বেশি হওয়ায় অনেক জেলের জাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা অভিযানের সুফল বলে দাবি করেন তিনি। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিঃ এবং মাছ ঘাট সূত্রে জানা যায়, হাইমচর উপজেলার কাটাখালী, মধ্যেরচর, নীলকমল, ঈশানবালা, চরভৈরবী, বরিশালের কালীগঞ্জ, হিজলা মিয়ারচর, ভোলার সামরাত, ঢালচর, চরগজারিয়া, চরমন্তাজ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরের হাতিয়া, মনপুরা, রামগতি, চর আলেকজান্ডার, বাতির খাল মতিরহাট, পটুয়াখালীর পাথর ঘাটা এলাকা থেকে জেলেদের ধৃত ইলিশ বিক্রির জন্যে চাঁদপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। লক্ষ্মীপুর থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ হয়ে ট্রাক-পিক আপ, অটোবাইক এবং সিএনজি স্কুটার বোঝাই হয়ে সেই ইলিশ এখানে এনে আড়তে তোলা হয়। নদী পথে লঞ্চযোগে এবং শরিয়তপুর ফেরিঘাট দিয়েও ইলিশ আসছে। ট্রলার ও ইঞ্জিন নৌকায় সেই মাছ বহন করে চাঁদপুর মাছ ঘাটে আনা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখন আর ফিশিং বোটের জন্যে অপেক্ষা করতে হয় না। প্রতিদিনের মাছ প্রতিদিনই ঘাটে আসছে।
এদিকে সাইজের ইলিশের সাথে ঘাটে প্রচুর পোনা ইলিশও বিক্রি হচ্ছে। মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ ১০ ইঞ্চির নিচে প্রচুর ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচার হলেও আইনের প্রয়োগ নেই । ব্যাপক ইলিশের আমদানিতে দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে আশা করছে চাঁদপুরের সাধারণ মানুষ।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর