বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০
logo
চাঁদপুরের ২৫০শয্যা সদর হাসপাতালের সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের বরাদ্দকৃত ১৬ কোটি টাকা ফেরৎ গেছে
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট, ২০১৬ ১৫:৪৫:০৯
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুর: চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন সরকারী জেনারেল হাসপাতালে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপিত হলো না। জায়গা দিতে না পারায় গত ৫ বছর যাবৎ এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি ও উচ্চ পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। অবশেষে জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। একই সাথে এ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১৬ কোটি টাকা জুন মাসে ফেরৎ চলে গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরে হৃদরোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা না থাকায় জেলাবাসীর দীর্ঘ দিন ধরে দাবী করে আসছে এই হাসপাতালটিতে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের। এই দাবীর প্রেক্ষিতে চাঁদপুর-০৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি সরকারের পক্ষ থেকে তদবির করে হাসপাতালে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের  জন্য অবকাঠামো নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা সহজ বরাদ্দ আনেন। কিন্তু এই অবকাঠামো নির্মাণে ভূমি জটিলতাই বিষয়টি কঠিন করে তোলে। এরপরও ডা. দীপু মনি এমপি বিষয়টি নিজেই তদারকি করেন। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের দাবীকৃত চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পেছনের ৯১নং মিনিউসিপ্যালিটি মৌজার ১নং খতিয়াতভূক্ত .৫৬১১ ও ৫৬১৯ দাগে’র ০৩৯৩৬ একর ভূমি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালি হতে থাকে। অবশেষে সেই চিঠি চালাচালিও বন্ধ হয়ে যায়। ৮/১০মাস পূর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে পুণরায় সেখানে উক্ত হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ ও ওই ভবনে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের দাবি জানানো হয়। তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি অতিশীগ্রই সমাধান করবেন বলে কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন। এরপর বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল এ বিষয়ে ভূমি সচিবের (নির্মাণ) সাথে আলোচনা করেন এবং সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রদীপ কুমার দত্তকে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে ভূমি সচিবের সাথে দেখা করতে বলেন। তিনি প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে সচিবের সাথে দেখা করলে তিনি তাকে যুগ্ম সচিবের কাছে পাঠান। সেখানে যুগ্ম সচিবের এ্যাড মিনিষ্টারি অফিসার ভূমি সচিব নির্মাণ) কাছে গেলে তিনি তাকে ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসনের ভুমি শাখা থেকে সাবেক জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেন দায়িত্ব থাকাকালিন সময়ের একটি চিঠি দেখান। উক্ত চিঠিতে লেখা রয়েছে ‘‘৯১নং মিনিউসিপ্যালিটি মৌজার ১নং খতিয়াতভুক্ত .৫৬১১ ও ৫৬১৯ দাগে’র ০৩৯৩৬ একর ভূমি পুকুর শ্রেণীর হওয়ায় জলধারা আইন অনুযায়ী জলাশয় ভরাট নীতিমালা পরিপন্থী এবং উক্ত ভূমি নিয়ে বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বিধায় প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ যোগ্য নয়’’। এরপরই সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের কার্যক্রম মূলত বন্ধ হয়ে যায়।  হাসপাতালে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলসহ এর আশ পাশের বেশ কয়েকটি জেলার কোটি অসহায় মানুষ এর সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর