বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০
logo
কবি সৌম্য সালেকের আত্মখুনের স্কেচ গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. এ.এস.এম দেলওয়ার হোসেন
অপরিহার্য শব্দের অবশ্যম্ভাবী বিন্যাসই কবিতা
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:১৮:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর:সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর মিলনায়তনে কবি সৌম্য সালেকের প্রথম কাব্য ‘আত্মখুনের স্কেচ’ গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৩আগস্ট শনিবার বিকাল ৪টায় চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত কবিতার কাগজ ‘তরী’র আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ.এস.এম দেলওয়ার হোসেন। প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. আলী হোসেন চৌধুরী। সাহিত্য একাডেমী চাঁদপুর-এর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতের সভাপতিত্বে বইটির আলোচক হিসেবে উপস্থিত চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনোহর আলী, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, ছড়াকার ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, কবি ও ছড়াকার জহিরুল হক দুলাল, সাহিত্য সম্পাদক দীপ্র আজাদ কাজল।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এ.এস.এম দেলওয়ার হোসেন বলেন, একটি কবিতা, একটি শব্দ যতো বেশি ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে সেটাই হচ্ছে আধুনিক কবিতা। অপরিহার্য শব্দের অবশ্যম্ভাবী বিন্যাসই কবিতা।
    কবি এদেশে জীবনানন্দদাশকে অনুকরণ করেই আধুনিক কবিতা চর্চা শুরু হয়েছে। কবি সৌম্য সালেক প্রতিটা শব্দ নিয়ে ভেবেছেন এবং অনেকটা সময় নিয়ে তিনি প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তার কবিতার যে দিকটা আমাকে আকৃষ্ট করেছে তা হলো কবিতায় সমাজ বাস্তবতা প্রকাশ। তিনি তার বক্তব্যে সমাজবাস্তবতা খুবই স্পস্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা তার কাছে আবার নতুন কোনো কাব্যগ্রন্ধ পাবো এ প্রত্যাশা করি। আমি বিশ্বাস করি চাঁদপুরের যে নবীনরা সাহিত্যের চর্চা করছে তাদের মধ্য থেকে পাঠকনন্দিত কবিতা বেড়িয়ে আসবে। এদের মধ্য থেকেই হয়তো আমরা পেয়ে যাবো রবীন্দ্র-নজরুল, সুকান্তের মতো কবিদের।  
    প্রধান আলোচকের বক্তব্যে প্রাবন্ধিক, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, কবিতা হলো সাহিত্যে উৎকৃষ্ট একটি শাখা। একজন পাঠক কবিতায় সব সময় নিজেকে খোঁজেন। পাঠকজন মনে করেন, যে কবিতা তাকে উপলব্ধি করার সুযোগ দিবে, তাকে অনুপ্রাণিত করবে সে কবিতাই পাঠক পাঠ করতে চায়। তাই কবিতা লেখার ক্ষেত্রে কবিকে অবশ্যই পাঠকের কথা মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গন অনেক সচল হয়ে উঠেছে। চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী কবি-লেখকদের মুখরতায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। দূর থেকে এমন সংবাদ জানতে পেরে আমরা খুবই আন্দন্দিত হই। আমরা আশা করবো, চাঁদপুরের সাহিত্যকর্মীরা তাদের এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাবেন। তিনি আরো বলেন, মানুষকে স্পর্শ করার মতো কবিতা আমাদের লিখতে হবে। সৌন্দর্যের পরিচর্যার মধ্যদিয়ে আমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হোক এটাই আমরা কামনা করি।  
    অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর কেএম বারী, মুক্তিফৌজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার হেসেন, চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের মহাসচিব হারুন আল রশীদ, আত্মখুনের স্কেচ-এর কবি সৌম্য সালেক (জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আবু সালেহ মোঃ আবদুল্লাহ) ত্রিনদীর সম্পাদক কাদের পলাশ, তরীর সহ-সম্পাদক রফিকুজ্জামান রনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন  সমন্বয়ক এবং তরী’র সহযোগী সম্পাদক মাইনুল ইসলাম মানিক। সবশেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কবিতার কাগজ ‘তরী’ সম্পাদক আশিক বিন রহিম।
    আলোচনা ছাড়াও অনুষ্ঠানের ‘আত্মখুনের স্কেচ’ গ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করবেন আবৃত্তি শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে জেলার সকল সাহিত্যিক, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্য প্রেমীদের স্ব-বান্ধব উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কবিতার কাগজ ‘তরী’ সম্পাদক আশিক বিন রহিম ও অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক এবং তরী’র সহযোগী সম্পাদক মাইনুল ইসলাম মানিক ও রফিকুজ্জামান রণি। উল্লেখ্য,‘আত্মখুনের স্কেচ’ গ্রন্থের কবি সৌম্য সালেক চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার। তিনি সৌম্য সালেক নামে দক্ষতার সাথে কবিতা, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন পদচারাণ করছেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর