বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
logo
মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জাল দলিল সৃজন ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মতলব দক্ষিণে নাদিম খার দিঘীর লীজ বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ১২:১০:১১
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাড়ৈগাঁও এলাকার ঐতিহ্যবাহী নাদিম খার দিঘীর পাড়বাসী দিঘীটির লিজ বাতিলের জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল  করে। গতকাল ৮ আগস্ট দিঘীরপাড়ে মোঃ মিজানুর রহমানের কড়াল ঘ্রাস থেকে দিঘীর পাড়বাসীর পাওনা টাকা, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, যুব উন্নয়ননের ২২টি সার্টিফিকেট উদ্ধারসহ রাষ্ট্রীয় তদন্ত দাবি করেছে দিঘীর পাড়বাসী।
    দিঘীরপাড়বাসী জানায়, প্রায় ২৫ বছর পূর্বে পূর্ব বাড়ৈগাঁও এলাকায় ২০ একর সম্পত্তির উপর নাদিম খার দিঘীর পাড়বাসীর প্রায় ১শ’ ৪০জন সদস্যসহ নাদিম খার দিঘী মৎস্য সমিতির নামে লিজ দেয়া হয়। ঐ সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মোঃ মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ মুজিবুর রহমান। দিঘীর পাড়বাসীর প্রায় ১শ’ ৪০জন সদস্য মাসিক দেয়া প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে দিঘীটিতে মাছ চাষ করা হয়। ২০০১সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক দিঘীর পাড়ের প্রায় ২২জন মাছ চাষীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। কিন্তু মোঃ মিজানুর রহমান ঐ ২২জনের সার্টিফিকেটও প্রদান করেন নি। এ সার্টিফিকেটগুলো দেখিয়ে কোন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে কিনা তাও দিঘীর পাড়বাসী জানেন না।
    ২০০৯ সালে বর্তমান লিজি মোঃ মিজানুর রহমান রিসিট অনুযায়ী দিঘীর পাড়বাসীর সকলের পাওনা টাকা পরিশোধ করে দিবে বলে প্রায় সকলের কাছ থেকে রিসিটগুলো আদায় করে। ঐ সময়ে দিঘীরপাড়ের সায়েদ আলী সরকারের ছেলে রুহুল আমিনকে মারধর করে এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ না করে রিসিট নিয়ে মিজানুর রহমান পালিয়ে চলে আসে। পরবর্তীতে দিঘীর পাড়বাসীর রিসিটের টাকা পরিশোধ করা হয় নাই। যে কয়জন রিসিট জমা দেয় নাই, তাদেরকেও টাকা দিবে না বলে বিভিন্ন টালবাহানা করছে। এ নিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটওয়ারী ও মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাতসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বেশ কয়েকবার সালীশ বৈঠক করে। কিন্তু মোঃ মিজানুর রহমান সালীশ বৈঠক মানে না এবং পাড়বাসীকে জিম্মি করে মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছে।
    আমাদের দেয়া পাওনা টাকাগুলো ফেরৎ প্রদান, আমাদের মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি, সিকিউরিটি গার্ডের বেতন, পাড়বাসী মৎস্য চাষীদের ২২টি সার্টিফিকেট উদ্ধারসহ রাষ্ট্রীয় তদন্তের দাবি করেন দিঘীরপাড়বাসী।
    দিঘীর পাড়বাসী মোঃ মজিবুর রহমান জানান, তিনি মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মজিবুর রহমানের কাছ থেকে ৯ নভেম্বর ২০০৮সালে সোনালী ব্যাংক বুয়েট শাখা থেকে ১লাখ ৮০হাজার টাকার চেক, ৩০ অক্টোবর ২০০৮সালে ৪,৮৮,০৩৩টাকার চেক মোঃ মিজানুর রহমান গ্রহণ করে।  এছাড়া ২০০৭ সালে ভুয়া দলিল সৃজন করে তাকে সাধারণ সম্পাদক পদ হতে বাতিল করে দেন। পরে তার নিজস্ব নাম ব্যবহার করে দিঘীর পাড়বাসীদের বাদ দিয়ে লিজ গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমি কোন ঘটনার সাথে জড়িত নই। তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর