রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
logo
হাজীগঞ্জে ৭ একর বেড়িবাঁধে মাছের প্রজেক্ট করে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা যুবক শাখাওয়াতের
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ১২:০৮:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: হাজীগঞ্জে এক যুবক দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর এখন এলাকায় ৭ একর বেড়িবাঁধে  বর্ষার পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টায় দিন রাত পরিশ্রম  করে যাচ্ছেন যুবক শাখাওয়াত। বর্ষার শুরুতে বেড়ির মালিকদের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে মাছের পোনা ফেলেছেন শাখাওয়াত। বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়া এবং শাখাওয়াতের পরিচর্যা ও খাবারের ধরন পরিবর্তন করে বেড়িবাঁধে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি দেখতে পেয়ে তার মুখে হাঁসি ফুটে উঠেছে ।
    গত ৭ আগস্ট সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ১০ নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের জয়শরা মুন্সী বাড়ির মৃত: সামছুর রহমানের ছেলে মোঃ শাখাওয়াত মুন্সীর ৭ একর বেড়িবাঁধে মাছের প্রজেক্ট। মাছের খাবার বিতরণ করার সময় দেখা যায়, বর্ষার পানি যাতে বাঁধের উপরে  বৃদ্ধি পেয়ে মাছের প্রজেক্টের ক্ষতিসাধন করতে না  পারে সে জন্য সে ওই দিন সকাল থেকে বেড়িবাঁধে চার পাশে জাল দেয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রজেক্টের দু’ তিন স্থানে মাছের খাবার দিচ্ছেন। বর্তমানে তার প্রজেক্টে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। বিশেষ করে রুই, কাতল, মৃগেল, কার্প্পু, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষাবাদ হচ্ছে।
    জানা যায়, গত কয়েক বছর পূর্বে শাখাওয়াত হোসেন নামের এ যুবক বেকারত্ব জীবন পার করেছিল। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পা দিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছে। বর্তমানে সে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। বিয়ে করেন ৭ বছর আগে। সংসার জীবনে তার দু’ ছেলে, স্ত্রী ও মা নিয়ে সংসারের হাল ধরতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে। এখন আর আগের মত রাজনৈতিক কর্মকা-ে সময় বেশি না দিয়ে স্থানীয় এক মৎস্যচাষীর পরামর্শে মাছের প্রজেক্টে মনোনিবেশ হয়।
    এ বিষয়ে মৎস্যচাষী সাখাওয়াত হোসেন চাঁদপুর বার্তাকে বলেন, আমার বাড়ির সম্মুখে একটা চায়ের দোকান দিয়েছি। হঠাৎ মাথায় চিন্তা এলো মাছের চাষ করবো। এ চিন্তা থেকেই স্থানীয় মৎস্যচাষীর পরামর্শে ৭ একর বেড়ি বর্গা নিয়ে মাছের প্রজেক্ট করেছি। তবে মূলধনের অভাবে মাছের খাদ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছি। সরকারি বা কোন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যদি সহযোগিতার হাত বাড়াতো তাহলে যে পরিমান দেশীয় জাতের মাছ প্রজেক্টে রয়েছে তা পূর্ন বৃদ্ধি পেতো।
    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, মাছ চাষীদের জন্য সরকারিভাবে অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আমরা যখন শুনেছি এ ধরনের মাছের প্রজেক্ট রয়েছে সরেজমিনে গিয়ে সুযোগ সুবিধার কথা বলবো।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর