শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০
logo
প্রায় দেড় লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণ
চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর সাহেবের জানাজ সম্পন্ন
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট, ২০১৬ ১১:৪১:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার ইতিহাসে এই প্রথম প্রায় দেড় লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে চান্দ্রা দরবার শরীফের পীরে কামেল, মুর্শিদে মোকাম্মেল হযরতুল আল্লামা সৈয়দ সাইফুল্লাহ নকশ্বন্দী মুজাদ্দেদী (রঃ)-এর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এ বিশাল জানাজার ইমামতি করেন মরহুম চান্দ্রা পীর সাহেব সৈয়দ সাইফুল্লাহ নকশ্বন্দী মুজাদ্দেদী (রঃ)-এর পুত্র পীর হযরত মাওলানা এস এম হুজ্জাতউল্লাহ। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় অসংখ্য মুরিদ, ভক্ত ও মুসল্লিদের শোকের মাতমের মধ্য দিয়ে দাফন প্রক্রিয়া শেষ হয়। জানাজার পূর্বে চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর সাহেবের কর্মময় জীবনের উপর আলোকপাত করে বয়ান রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং মরহুম সাইফুল্লাহ হুজুরের ভক্ত ও মুরিদ সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ফরিদগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা জমিয়াতুল মোদারেছীনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেদ সরকার, চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পীর সাহেব হুজুরের মুরিদ আলহাজ্ব এমএ বারী খান, ভক্ত ও মুরিদ আল-আমিন মল্লিক, দরবার শরীফ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ কামরুল হাসান, বিশিষ্ট ওয়াজেন মাওলানা তাজুল ইসলাম। জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন বালিথুবা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা মমিনুল হক, ঘনিয়া দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা জুনায়েদুল হক, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও হুজুরের মুরিদ মাহফুজুল হক, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, চান্দ্রা ছামাদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ.ন.ম. মহিবুল্লাহ, ধানুয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শরীফ মোহাম্মদ তোজাম্মল হোসেন, জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ হারুনুর রশিদ সাগর, ইসলামী ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর মাইনুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এএইচএম আহসানউল্লাহ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জসিম উদ্দিন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, গাছতলা দরবার শরীফের পীরজাদা খাজা জুবায়ের, চাঁদপুর আহম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ঘনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আহমেদ, কাছিয়ারা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসাইন, মদনেরগাঁও দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা ছাব্বির আহমেদ ওসমানী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল বাশার কালু পাটোয়ারী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খোরশেদ আলম, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অগণিত ছাত্র ও হুজুরের মুরিদ ও ভক্তরা।
    চান্দ্রা সকদি রামপুর দরবার শরীফের পীর সাহেবের জানাজার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে সকাল থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে। চাঁদপুর জেলার প্রতিটি উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর জেলার অসংখ্য ভক্ত ও মুরিদরা এখানে সকাল থেকে সমবেত হতে থাকে। ঢাকা এবং নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের অসংখ্য মানুষও চান্দ্রা দরবার শরীফের মুরিদ হিসেবে জানাজায় অংশ নেয়। দরবার শরীফে যাওয়া-আসার বেশ ক’টি সড়ক পথ থাকার সুবাদে ভক্ত ও মুরিদরা তাদের ভাড়া করা এবং নিজস্ব যানবাহন নিয়ে সকাল থেকেই ছুটে এসেছেন। সে কারণে দুপুর ১২টার মধ্যে দরবার শরীফ এলাকার বিশাল মাঠটি মুসল্লিদের পদচারণায় কানায় কানায় ভরে উঠে। দুপুর ১২টার পর থেকে দরবার শরীফের আশপাশে থাকা বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনায় আসা মুসল্লিরা প্রচ- ভিড় উপেক্ষা করে সুপারি বাগান, বিভিন্ন গাছগাছালির নিচে পাশে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে এবং বসে জুমার নামাজ ও জানাজার নামাজ আদায় করেন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ সকল মুসল্লিদের অবস্থান ছিলো। চান্দ্রা বাজারের প্রতিটি গলি ও সড়ক এবং দোকানপাটে মুসল্লিদের ভিড় ছিলো লক্ষ্যণীয়। অনেকে ছোট ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে আসলেও ভিড়ের কারণে মাটিতে নামতে পারেনি। তারাও তাদের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও নৌকায় অবস্থান করে দু’টি নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিদের চাপের কারণে জুমার নামাজের সময়সীমা ২টায় বেধে দেয়া হলেও পরবর্তী পর্যায়ে জায়গা সংকুলান করে ২টা ২৫ মিনিটে জুমার নামাজ শুরু হয়। জুমার নামাজে ইমামতি করেন ফরিদগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ড. একেএম মাহবুবুর রহমান। অজ¯্র মাইক লাগানোর কারণে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে কোনো সমস্যা হয়নি। এ দু’টি বৃহত্তম নামাজের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন দরবার শরীফের হাজারের উপর নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক। সকাল থেকে মুসল্লিদের দীর্ঘ লাইন করে হুজুর কেবলার কফিন দেখতে পেরেছে অগণিত মানুষজন। জুমার নামাজের পূর্বে প্রায় কিলোমিটার লাইন থাকার পরও নামাজের কারণে মুসল্লিরা হুজুর কেবলার কফিন দেখতে বা স্পর্শ করতে পারেনি। চান্দ্রা দরবার শরীফে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে হুজুর কেবলার কফিন তার বাড়িতে এসে পৌঁছে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে কফিন রাখা হয়। বৃহস্পতিবার থেকেই সাধারণ মানুষজন ও তার ভক্ত ও মুরিদরা এসে অবস্থান নেয়।
    উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত ১১টায় ঢাকা ধানমন্ডিস্থ গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চান্দ্রা দরবার শরীফের পীরে কামেল, মুর্শিদে মোকাম্মেল হযরতুল আল্লামা সৈয়দ সাইফুল্লাহ নকশ্বন্দী মুজাদ্দেদী (রঃ) ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, একমাত্র সন্তান হযরতুল আল্লামা এসএম হুজ্জাতুল্লাহ নকশবন্দী মুজাদ্দেদীসহ আত্মীয়স্বজন, অসংখ্য ভক্ত ও মুরিদ রেখে যান।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর