সোমবার, ০১ জুন ২০২০
logo
শহরে বাড়ছে তীব্র যানজট ॥ দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ
ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট চাঁদপুরের মর্কেটগুলো
প্রকাশ : ০৫ জুলাই, ২০১৬ ০৮:৪২:০২
প্রিন্টঅ-অ+
শরীফ চৌধুরী

চাঁদপুরঃ পবিত্র ঈদুল ফেতরকে সামনে রেখে শেষ সময় চাঁদপুর শহরের মার্কেটগুলো কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাবিক্রি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পহেলা রমজানের শুরু থেকেই শহরের বিভিন্ন মার্কেটগুলো বেচা কেনায় জমে উঠতে দেখা যায়। চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে হর্কাস মার্কেট, হাকিম প্লাজা, সাউথ প্লাজা, সরদার প্লাজা, পূরবি মার্কেট , মীর শপিং কমপ্লেক্স, নূর ম্যনশন, পৌর টাউন হল মার্কেট ফজলু ম্যনশনসহ বিভিন্ন শপিংমল গুলোতে ঘুরে দেখা যায় ক্রেতা সাধারণের উপচে পড়া ভিড়। তবে এসব ক্রেতা সাধারণের মাধ্যে নারী ক্রেতাদের সংখ্যা-ই বেশি লক্ষ করা যায়। এবং পোষাক সামগ্রীর মধ্যে নারীদের কাপড়, থ্রী পিচ, লেহেঙ্গাসহ নারীদের পোষাক বেশি বেচা বিক্রি হচ্ছে। তাদের পচন্দের তালিকায় রয়েছে, ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়ালের কিরণ মালা, ঝিলিক, পাখি, ফ্লোর টার্চসহ নতুন নতুন নাম করণের বিভিন্ন পোষাক সামগ্রী। বিভিন্ন ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে জেন্টস আইটেমের মধ্যে রয়েছে তৈরি পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট, গ্যাবার্টি প্যান্ট, সেরওয়ানী, বাচ্চাদের অত্যাধুনিক পোশাকের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান জলপরী, বাজিরামস্তানী, সেরওয়ানী, বাচ্চা মেয়েদের ফ্লোরটাচ, বাচ্চা ছেলেদের শার্ট, গেঞ্জি আর তরুণীদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে আধুনিক মনকাড়া ইন্ডিয়ান লেহেঙ্গা, ফ্লোরটাচ সহ সুতীর থ্রি পিচ। যা দেখলে অনায়াসেই পছন্দ হবে যে কোনো তরুণীদের। তবে গত বছর পাখি ড্রেসের যে চাহিদা ছিলো এবার তা নেই। এবার পাখি ড্রেসের বদলে ইন্ডিয়ান বাজীরামস্তানীর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। দুই হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দামের মধ্যে তা পাওয়া যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা জানান, ইন্ডিয়ান জর্জেট, কাতান ও তাঁতের শাড়ির বিশাল চাহিদা রয়েছে। তরুণীদের ইন্ডিয়ান তৈরি থ্রী পিচের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। যা রোজার শুরু থেকে আমরা আমদানি করেছি। এর বেচাবিক্রিও অনেক ভালো। দামের দিক থেকেও রয়েছে বেশ সুবিধাজনক। তারা বর্তমান সময় পাখির তেমন চাহিদা নেই বলেও জানান। আগের তুলনায় এবার ঈদে বেচা বিক্রিও অনেক ভালো বলে তারা জানান।   
         এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যানজটের জালে আটকা পড়ছে শহরবাসী ও ঈদে ঘরমুখো মানুষজন। গত কয়েক বছর ধরেই চাঁদপুর শহরে এ যানজট লেগে থাকতে দেখা যায়। আর এখন ঈদকে সামনে রেখে যানজটের তীব্রতা আরো বেড়ে গেছে।  বাড়ছে রিক্সা, অটো রিক্সা , সিএনজি স্কুটার , মাইক্রোবাস , মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। ঢাকা , নারায়নগঞ্জ, বরিশাল , চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদ করার জন্য আসা ঘরমুখো মানুষজন যাতায়াত করার জন্য যানবাহনের সংখ্যাও বেড়ে যায়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাবাহন গুলো শহরে প্রবেশ করার কারনেই এমন যানজটের সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন শহরবাসি। গত ২০ রমজান থেকে দেখা যায় শহরের যানজট নিয়ন্ত্রন রাখতে ট্রাপিক পুলিশের পাশাপাশি জেলা স্কাউট ও রোভার স্কাউট সদস্যরা কাজ করছে। প্রতিদিন শহরেই বেরুলেই দেখাযায় ভয়াবহ যানজট লেগেই আছে। আর এই যানজটের কারনে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের। দেশের দূর-দুরান্তে জীবিকার প্রয়োজনে আটকে থাকা মানুষগুলো নারির টানে ফিরে আসছেন দেশের বাড়ি। ঈদকে ঘিরে মানুষ আর যানজটে নাকাল হয়ে উঠে ২৫ লক্ষাধিক মানুষের প্রিয় চাঁদপুর শহর। শহরে এখনো প্রায় সহ¯্রাধিক সিএনজি আটো-রিক্সা লাইসেন্স বিহীন অবৈধবাবে চলাচল করছে। এসব সিএনজি আটো রিক্সাগুলোর মালিকরা ট্রাফিক পুলিশকে মাসিক মাসোয়ারা মাধ্যমে ম্যনেজ করেই তাদের এহেন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । অপর দিকে গ্যাস চালিত নতুন অট্রো রিক্সা-গুলো এলনো পৌরসভার লাইসেন্সের আওতায় না আসলেও এব্যপারে কতৃপক্ষ কিছুটা নিরব রয়েছে। তাছাড়া ধারন ক্ষতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি সিএনজি, অটোরিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটোবাইক শহরের চলাচলের লাইসেন্স দেয়ায় নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপ্রিয় শহরবাসীর কিছুটা চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর