সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১
logo
শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন
যারা গুপ্ত হত্যা করছে তাদের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই
প্রকাশ : ১৬ জুন, ২০১৬ ০৮:৩৮:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+
একটি চক্র এসব গুপ্ত হত্যা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায় : লায়ন দিলীপ কুমার ঘোষ

চাঁদপুর: সারাদেশে পুরোহিত, সেবায়েত, ভিক্ষু ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যাসহ সকল গুপ্তহত্যা ও সারাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, যারা গুপ্ত হত্যা করছে তাদের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই। তাদের যারা প্রভু তারাও রেহাই পাবে না। এ ধরনের গুপ্ত হত্যা করে যারা দেশের ও একটি পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি করেছে তার হিসেব একদিন দিতেই হবে। গুপ্ত হত্যাকারীরা মসজিদের ইমাম, সেবায়েত, সাধু, গির্জা, প্যাগোডায় ধর্মযাজকদের হত্যা করেছে। এমনকি শিক্ষককেও হত্যা করেছে। সমপ্রতি একজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রীকে হত্যা করেছে, যা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশের কাজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। যিনি (পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তার) এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন, তার স্ত্রীকে কী নির্মমভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। ছোট্ট শিশুর সামনে এ হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমপ্রতি যেসব গুপ্ত হত্যা হচ্ছে তার সবগুলোর প্যাটার্ন একই রকম। তারা ঠিক একই জায়গায় কোপ দেয়, একইভাবে গুলি করে মারে। একই কায়দায় এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এক শ্রেণীর লোক বাংলাদেশে এসব হত্যাকা- চালিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- বাধাগ্রস্ত করার পাশিাপশি আমাদের শোকার্ত করে তুলেছে। এদের পরিণাম ভালো হবে না বলে মেয়র উল্লেখ করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি, দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের প্রকাশক ও সম্পাদক লায়ন দিলীপ কুমার ঘোষ এমজেএফ। আরো বক্তব্য রাখেন জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রাখাল দাশগুপ্ত, অ্যাডঃ তপন কান্তি দাশ, চন্দন তালুকদার, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, ননী গোপাল আশ্চার্য্য, শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত প্রমুখ।
সভায় লায়ন দিলীপ কুমার ঘোষ বলেন, সারাদেশে নির্বিচারে পুরোহিত, সেবায়েত, ভিক্ষু ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। অসামপ্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মাধ্যমে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি ঠিক তখনি একটি চক্র এসব গুপ্ত হত্যা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। আমাদের সংবিধান সব ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশ তথা বিশ্ব সমপ্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ এবং সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, সততা, ভালবাসা এবং শান্তি হচ্ছে দয়ার মূলভিত্তি। ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ভালবাসাই পারে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে। লায়ন দিলীপ কুমার ঘোষ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উক্তি 'ধর্ম যার যার উৎসব সবার'। তাই আজ এখানে এলাকার সকল ধর্মের মানুষের মিলন মেলা ঘটেছে। শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির শান্তিময় আবাসস্থল। হাজার বছর ধরে এদেশের মানুষ মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যের ধর্মের প্রতি যে শ্রদ্ধা ও সমপ্রীতি প্রদর্শন করে আসছে তা আমাদের অহংকার। তিনি বলেন, আজ বড় দুঃসময় পাড়ি দিচ্ছে বাংলাদেশ। ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে আমাদের এই বাংলাদেশ। পত্রিকা টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে শুধু সংখ্যালঘু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, জমি দখল, ঘরবাড়ি দখলের সংবাদ। যেন দানবের উন্মাতাল তা-ব চলছে ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে। যার প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য সংখ্যালঘু সমপ্রদায়। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় তাদের লোকসংখ্যা স্বল্প এবং তাদের রয়েছে ভিন্ন সংস্কৃতি। প্রতিটা সংখ্যালঘু দিনদিন কমে যাচ্ছে। তাই এর দায় কোনোভাবেই আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আর এর প্রধান কারণ হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, হামলা মামলা, জবর দখল। তিনি সারাদেশে গুপ্ত হত্যাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর