সোমবার, ০১ জুন ২০২০
logo
টেন্ডারের পূর্বে শীর্ষ নেতাদের নামে ৫% হারে টাকা আদায়
ফরিদগঞ্জে এলজিইডির সোয়া দুকোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে সরকার দলীয় দুগ্রুপের উত্তেজনা
প্রকাশ : ১৫ জুন, ২০১৬ ১৬:৫৮:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ফরিদগঞ্জের সোয়া দু’ কোটি টাকার ৪৩ গ্রুপের কাজ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দু’ গ্রুপের নেতা-কমীরা বিপাকে পড়েছে। কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে গত ১৩ জুন সোমবার পুলিশের পাহারায় ফরিদগঞ্জের ইউএনও কার্যালয়ে দরপত্র দাখিল করা হয়েছে। অপর পক্ষ এভারেষ্ট ইন্টারন্যাশাল গ্রুপের ৪০টি গ্রুপের কাজ পেতে চাঁদপুরে ৫% লেসে তারা দরপত্র দাখিল করেছে। গত দু’দিন ধরে চলছে দু’টি পরস্পর বিরোধী গ্রুপের লবিং, পাল্টা লবিংসহ বিভিন্ন মহড়া।
    ওইসব কাজের মধ্যে রয়েছে ঃ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১৩৬টি আর্সেনিকমুক্ত ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের সংষ্কারমূলক কাজ। খোদ স্থানীয় সরকার বিভাগের ফরিদগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়ার যোগসাজশে এ ভাগবাটোয়ারর সুযোগ হয়েছে বলে বঞ্চিত কয়েকজন পেশাদার ঠিকাদার জানিয়েছে। তবে ওই প্রকৌশলী তা অস্বীকার করে বলেছেন, সব কিছু বলা যাবেনা।
    তবে সরকার দলের সিদ্ধান্তমতে একটি পক্ষ প্রতিটি কাজের টেন্ডার মূল্যের অগ্রীম ৫% হারে টাকা আদায়ের বিনিময়ে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এসব কাজ বন্টনের গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। ৫% দেয়া ব্যক্তিরা এসপারে দরপত্র দাখিল করলেও অপর একটি পক্ষ কোন সমঝোতায় সাড়া না দিয়ে চাঁদপুর জেলা সদরে গত ১৩ জুন উক্ত কাজের ৫% ছাড়ে দরপত্র দাখিল করে দিয়েছে। ফলে এ নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে নানাবিধ উত্তেজনাসহ হযবরল অবস্থা বিরাজ করতে দেখা যায়। অপরদিকে কতিপয় নেতা ৫% আদায়ের প্রেক্ষিতে উক্ত কাজ ভাগাভাগি করতে গিয়ে কার্যত পড়েছে বিপাকে।
    এদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের নামে ক্রয় করা দরপত্র রাগে ও ক্ষোভে ছিড়ে ফেলে গত ১৩ জুন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দিয়ে এসেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। কেন এমনটা করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে ভাইস চেয়ারম্যান অহিদুর রহমান বলেন, এমন বেআইনী প্রক্রিয়ায় আমি সিডিউল জমা দিতে চাইনি। এটা প্রহসনের টেন্ডার প্রক্রিয়া মাত্র। সরকার দলের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানায়, দল ও নেতার স্বার্থকে গুরুত্ব দিলে ৫% টাকা আদায়ের উদ্দেশ্য কি?
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব খাতের সোয়া দু’ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করতে ফরিদগঞ্জের এলজিইডি অফিস থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। পরে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে এসব কাজ ভাগবাটোয়ারা করতে উদ্যোগ নেয় সরকার দলীয় বেশ ক’জন স্থানীয় শীর্ষ নেতা। ওপেন টেন্ডার বিক্রি ও লটারীর মাধ্যমে কাজ দেয়ার প্রক্রিয়া থাকলে সরকারের যেমন রাজস্ব বেশি আয় হতো, তেমনি কাজের গুণাগুণ ও মান ভাল হতো বলে অনেকেই মন্তব্য করছে।  
    সিডিউল বিক্রির দিন গত রোববার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় এলজিইডি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সাদা কাগজে সরকার দলীয় দু’ নেতার সই থাকা টোকেন জমা দেয় ওই অফিসের হিসাব রক্ষক রাজ্জাকের হাতে। ওই দু’ নেতার স্বাক্ষরিত এই টোকেন পেয়ে তখন কাজের সিডিউল বিক্রি করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তির হাতে। অফিসের চারিদিকে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের আনা গোনা। কিছুক্ষণ পর পর চলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার তার কক্ষ থেকে উঠে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও আনে।
    কাজের সিডিউল ক্রয় করতে দু’ নেতার স্বাক্ষর করা স্লিপধারীরা প্রকাশ্যেই বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা শতকরা ৫% ভাগ টাকা জমা দিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করেছেন। এ টাকা কোথায় যাচ্ছে এমন প্রশ্নে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট কোনো উত্তর পাওয়া না গেলেও, দলের বিভিন্ন স্তরের কয়েকজন নেতা-কর্মীরা জানিয়েছে, এ টাকা দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হবে এবং এর একটি অংশ পাবে নেগোসিয়েশনে সিদ্ধান্ত বলে সুখ্যাত এলজিইডি’র ফরিদগঞ্জের প্রকৌশলী জিয়াউল হক ও তার অফিস স্টাফরা। তবে দরপত্র ক্রয় করতে আসা কেউ কেউ আবার ওই টাকা না দিয়েই তাদের দরপত্র ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছে।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন ঠিকাদার জানান, ইচ্ছে থাকা সত্বেও ওই কাজের দরপত্র ক্রয় করতে পারিনি। কাউকে অভিযোগ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, অভিযোগ দিয়েই বা কি লাভ। সবইতো এক নায়ের মাঝি। এ ব্যাপারে এলজিইডির ফরিদগঞ্জের প্রকৌশলী জিয়াউল হক তার অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের বলেন, বাহিরে কি হয়েছে, না হয়েছে, তা আমার জানার বিষয় নয়। উক্ত কাজ নিয়ে আমি খুব চাপে আছি। সব কিছু খুলে বলা যাবেনা।
    ফরিদগঞ্জের ইউএনও জয়নাল আবেদীন গত ১৩ জুন সোমবার তার কার্যালয়ে উপস্থিত ক’জন সাংবাদিককে বলেন, টেন্ডার কমিটির মাধ্যমে উক্ত কাজের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দাখিল করা দরপত্রের মধ্যে ৫% ছাড়ে কাজ পেতে  দাখিল করা দরপত্র পাওয়া গেছে। সরকারের নিয়ম মতে ৫% ছাড়ে দাখিল করা দরপত্র দাখিল করাকে কাজ দেয়ার বিধান রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন, আমরা যেহেতু দল করি। তাই প্রথমে দেশ তারপর দলের স্বার্থ বিবেচনায় এনে সরকারি নিয়মেই সব করা হবে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর