শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
লঞ্চে ধর্ষণের পর গর্ভবতীকে হত্যা
কেউ নিতে আসেনি লাশ, দেশের সব থানায় বার্তা
প্রকাশ : ০৯ জুন, ২০১৬ ০৯:২৫:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর লঞ্চঘাটে লঞ্চ থেকে উদ্ধার হওয়া ধর্ষিতা অন্তঃস্বত্ত্বা নারীর (২২) মরদেহ কেউ নিতে আসেনি। উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও শনাক্ত হয়নি লাশের নাম-পরিচয়। অবশেষে ময়নাতদন্তের পর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবেই বুধবার (৮ জুন) বিকেলে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুন) রাতে বাংলামেইলসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ওই নারী লাশ উদ্ধার নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। তবে সেসব খবরের সূত্রধরে কোনো আত্মীয় বা অন্য কেউ তার পরিচয় শনাক্ত করতে আসেনি। এভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরে পুলিশ বুধবার (৮ জুন) বিকেলে চাঁদপুর আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের মাধ্যমে লাশ পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আব-এ জমজম লঞ্চের একটি স্টাফ কেবিন থেকে অজ্ঞাতনামা ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ওই লঞ্চের ম্যানেজারসহ ৫ জনকে আটক করে।
আটক ম্যানেজার ইউনুস মিয়া (৩৫), কেরানী ফরহাদ হোসেন (২৭), কেবিনবয় রিয়াদ হোসেন (২৩), সুজন প্রামানিক (২৪) ও সোহাগ খানকে (৩০) বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আব-এ জমজম লঞ্চের মালিক হাইস্পিড কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের নির্দেশে ঘাট সুপারভাইজার বিপ্লব সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা (নং-১৪, তাং-৬/৭/২০১৬ খ্রিঃ) দায়ের করেন।
তবে মামলায় পুলিশ লঞ্চটিকে জব্দ দেখালেও চাঁদপুর ঘাটে লঞ্চটি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতেই পুলিশ মালিকের জিম্মায় লঞ্চটি রাখে। আটক লঞ্চের ৫ স্টাফকে পুলিশ রাতভর থেমে থেমে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়ালী উল্লাহ ওলি জানান, অজ্ঞাত নারীটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে বোঝা যাবে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যার ক্লু খুঁজতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সাথে এ নারীর পরিচয় জানতে বেতারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।
অজ্ঞাতনামা ওই নারী সোমবার (৬ জুন) রাত ৮টায় হাইমচর নীলকমল ঘাট থেকে একজন পুরুষসহ লঞ্চে উঠে ১১২নং কেবিন বুকিং করে। ঢাকায় লঞ্চটি ভিড়ার পর কেবিনবয়দের অগোচরে পুরুষ লোকটি নেমে গেলেও এ নারী কেবিনেই থেকে যান। ঢাকা থেকে লঞ্চটি চাঁদপুর আসার পর ওই কেবিনে নারীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। লঞ্চ চাঁদপুর ঘাটে পৌছার পর পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, মঙ্গলবার (৭ জুন) দিবাগত রাতে পুলিশ চাঁদপুর থেকে ঢাকামুখী ও দক্ষিণাঞ্চলমুখী বিভিন্ন যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে। আটকরা হলো- রায়পুরের আলমগীর হোসেন (৩৫), একই এলাকার নাসরিন আক্তার (২৫), রাজাপুরের শাহিনা আক্তার (২০), রামগঞ্জের রিপন হোসেন (২৫), ঢাকা মিরপুরের ফাতেমাতুজ যোহরা (২০), ফরিদগঞ্জের সৈকত (২২), পটুয়াখালীর জামাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার রুমানা বেগম (৩০), খাজুরিয়ার কুসুম আক্তার (২৫) ও হাজীগঞ্জের খোকন মিয়া (৩০)। বুধবার দুপুরে আটক নারী-পুরুষদের পরিবারের লোকজনদের থানায় ডেকে এনে তাদের জিম্মায় দিয়ে দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর