রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০
logo
নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুজ্জামান
আইন না মানাটা যেনো আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে
প্রকাশ : ০৮ জুন, ২০১৬ ১২:৩১:০৩
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌ নিরাপত্তা ট্রাফিক বিভাগ ও চাঁদপুর নদী বন্দরের আয়োজনে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর শহরের মাদ্রাসা রোড়স্থ লঞ্চঘাটে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা, নৌ-পথে আনে নিরাপত্তা’ এ শ্লোগানে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুজ্জামান।
চাঁদপুরের নৌ বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী বন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার মোঃ আতাহার আলী, চাঁদপুর নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেন, নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আবুল হোসেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা সকলে কম-বেশি আইন জানি। কিন্তু আইন মানার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। আইন না মানাটা যেনো আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। শুধুমাত্র অসেচনতার কারণে সড়ক ও নদী পথে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। যেহেতু নদী পথে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি আলাদা বিষয়। তাই বর্তমান সরকার দু’ বছর আগে নৌ-পুলিশকে আলাদা করে দিয়েছে। এ দু’বছরে নৌ-পুলিশ তাদের অল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের লোকবল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বেড়ে গেলে এ নৌ-পুলিশ কার্যক্রম আরো বেশি তরান্বিত করতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।  
তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যেই হোক নদী পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এ নিরাপত্তার জন্য লঞ্চের চালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং লঞ্চের আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। চাঁদপুরের লঞ্চঘাটে ও লঞ্চের যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করতে নৌ-পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। আমি আশা করবো, যাত্রীরা যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে তারা তৎপর থাকবেন। সামনে ঈদ, তাই রমজানের পুরো মাস স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লঞ্চযোগে ঢাকার ব্যবসায়ীদের সাথে যাতায়াতের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে হয়। এজন্য সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি তাদেরকে বিশেষ নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। লঞ্চ চালকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লঞ্চ চালকরা একে অপরের সাথে যেনো প্রতিযোগিতা অবতীর্ণ হয়ে লঞ্চ না চালায়। চাঁদপুরের নদী পথ দিয়ে যেন মানুষ নিরাপদে গন্তব্যস্থলে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদপুর শহরকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসতে চাচ্ছি। সেই হিসেবে চাঁদপুর নৌ-বন্দর লঞ্চঘাট একটি গুরত্বপূর্ণ পয়েন্ট। লঞ্চঘাটের অপরাধ নির্মূলে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে চাই। লঞ্চঘাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভির আওতায় আনতে প্রয়োজনে লঞ্চ মালিকদের সহযোগিতা নিতে পারেন। আমাদের মূল লক্ষ্যই যেনো হয় সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া।
অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন জেলা নৌযান শ্রমিক লীগের সভাপতি বিপ্লব সরকার, লঞ্চমালিক সমিতির প্রতিনিধি রুহুল আমিন, এমভি সোনারতরী লঞ্চের মাস্টার মোঃ ইব্রাহীম প্রমুখ। সভা শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোওয়াত করেন লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি রুহুল আমিন হাওলাদার।

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর