শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
তদন্তকর্মকর্তার মিথ্যা রিপোর্টে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অসহায় পরিবার
ওয়্যারলেছে অন্যের দখলি জমিতে স্থাপনা তৈরির চেষ্টায় উত্তেজনা
প্রকাশ : ২২ মে, ২০১৬ ১১:৩৮:২০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকৃত একটি পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চক্রান্ত করছে ভূমিদস্যুরা। এ অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে এডিএম কোর্টে মামলা করলেও তদন্তকর্মকর্তার মিথ্যা রিপোর্টে খারিজ হয়ে যায় মামলাটি। উল্টো পুলিশের ওই মিথ্যা রিপোর্টকে সত্যি করতে এখন জোরপূর্বক সেখানে পাকা স্থাপনা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে প্রতিপক্ষ।
মানবেতর ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেছ বাজার সংলগ্ন মধ্য তরপুরচ-ী মৃধা বাড়ির। এ নিয়ে ওই এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজণা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেরও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিজেদের ভিটেমাটি আর অস্তিত্ব রক্ষায় অসহায় পরিবারটি আবারো আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
    ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ মৃধা জানান, সদর উপজেলার ২৬নং তরপুরচ-ী মৌজার ৪৫৩ খতিয়ানভুক্ত, সিএস হালে ৪০৬নং খতিয়ানভুক্ত ও বিএস ৫৮৮নং খতিয়ানভুক্ত ১১ শতাংশ ২৫ পয়েন্ট ভূমি পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে তিনি সুদীর্ঘকাল ধরে ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে সাবেক ১৭২০ দাগে (হালে ৫৪৭৬ দাগ) ৩ শতাংশ ৫০ পয়েন্ট এবং সাবেক ১৭১৯ দাগে ৭ শতাংশ ৭৫ পয়েন্ট জমি রয়েছে। বহু পূর্ব থেকেই তিনি এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই স্থানে একটি দোচালাঘর ও চারদিকে বাউ-ারী দেয়াল বিদ্যমান রয়েছে। এর জমির মধ্যে একটি পুকুরে মাছের চাষও করেন তিনি।
    তিনি বলেন, হঠাৎ করে একই এলাকার রশিদ মৃধা গং আমার উল্লেখিত জায়গার মালিক দাবি করে জোর করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে আমাদের উপর বেশ কয়েকবার হামলা চালায়। আমি নিরুপায় হয়ে গত ২২ মার্চ চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (নং ২৮১/২০১৬) দায়ের করি। আদালত উল্লেখিত জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করে এবং চাঁদপুর মডেল থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।
    তিনি আরো জানান, মডেল থানার এএসআই আওলাদ হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। তিনি আমার প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে অসত্য ও মিথ্যা প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত জমিটি আমার দখলে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলা হয়, ‘রশিদ মৃধা গং আধাপাকাঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে’ এবং ‘আমি তার পূর্ব পাশে বসবাস করে আসছি’। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এলাকার মানুষ এর স্বাক্ষী। এই রিপোর্টটির জন্যই আদালত আমার মামলাটি খারিজ করে দেন।
    উল্লেখিত মিথ্যা রিপোর্টের কারণে আমার মামলা খারিজ হয়ে গেলে প্রতিপক্ষ রশিদ মৃধা ও চুনু মৃধা আমার বাড়ির পাশে নতুন করে সীমানা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদ করলে আমার ও আমার লোকজনের উপর দফায় দফায় হামলা হচ্ছে। এ বিষয়ে রশিদ মৃধা ও চুনু মৃধা দাবি করেন, ক্রয়সূত্রে উল্লেখিত সম্পত্তির মালিক তারা। ওই সম্পত্তিতে অবস্থিত পুরনো ঘর সংস্কার করে নতুন করে সেমিপাকাঘর নির্মাণ করছেন তারা। মজিদ মৃধার জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।
    এ ব্যাপারে মজিদ মৃধা বলেন, তারা যে দাগে জমি ক্রয় করেছে সে জমি এই স্থানে নয়, অন্য স্থানে রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। এলাকার মানুষ এর স্বাক্ষী। তিনি আরো বলেন, সম্পত্তি রক্ষায় আর কোনো উপায় না থাকায় আবারো আদালতের স্মরণাপন্ন হবো আমরা। আশা করি, আদালতে আমরা ন্যয়বিচার পাবো।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর