রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
নদী তীরবর্তী চার উপজেলায় জেলা প্রশাসকের সতর্ক বার্তা লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' : চাঁদপুর ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায়
প্রকাশ : ২১ মে, ২০১৬ ১২:৫৭:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু'র প্রভাবে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। আর উপকূলীয় অঞ্চলের বিপদ সংকেতের আওতায় চাঁদপুর জেলাও রয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোর পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁদপুর হওয়ায় চাঁদপুরও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায়। এ তথ্য চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের। এ অফিসের পর্যবেক্ষক আজহারুল ইসলামের সাথে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় কথা হলে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঢাকা আবহাওয়া অফিস থেকে তাকে জানানো হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল তথা নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। আর চাঁদপুর জেলা লক্ষ্মীপুর, রায়পুরের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় চাঁদপুরকেও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় দেখানো হয়েছে।
চাঁদপুর শহরের নদী তীরবর্তী এলাকায় পৌর মেয়রের পক্ষ থেকে গতকাল সন্ধ্যায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের কথা বলে জরুরি মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু'র প্রভাবে চাঁদপুর ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় রয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যেতে বলা হয় ওই জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে নদী তীরবর্তী চাঁদপুরের চার উপজেলা তথা চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় জরুরি সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এনডিসি লিটুস লরেন্স চিরান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, নদী তীরবর্তী এ চার উপজেলায় জরুরি সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র এবং সাইক্লোন সেন্টারগুলো। একই সাথে এসব উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা পিআরওসহ উপজেলা পরিষদ ও ইউপি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের পাশে থাকতে ওইসব জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটসহ আরো যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে সেসব সংগঠনকেও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসসহ আরো সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। জেলা সদরসহ সকল উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বোপরি সম্ভাব্য এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী নেছার আহমদ তপাদার জানান, তাদের অফিস থেকে সকল ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। চরাঞ্চলে মাইকিং করা হয়েছে।
চাঁদপুর নৌ বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নদী পথে লঞ্চসহ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে গতকাল বিকেল থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি এবং সন্ধ্যা থেকে ঢাকা সদরঘাট থেকেও কোনো লঞ্চ ছেড়ে আসেনি।
এ দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল সারাদিন চাঁদপুরে আবহাওয়া ছিলো দুর্যোগপূর্ণ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল সারাদিন বৃষ্টি হয়। বিকেলে কিছুক্ষণ হয় মুষলধারে বৃষ্টি। আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিলো প্রায় সারাদিন। চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের হিসেব মতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চাঁদপুরে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বিকেলের দিকে ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। তবে এর আগেও বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' আঘাত হানতে পারে। তাই আজো চাঁদপুরসহ উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বলবৎ থাকবে এবং আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর