শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০
logo
কুসংস্কারে পার হলো অর্ধশত বছর
ফরিদগঞ্জের ৯ হাজার নারী ভোটার এবার ভোট দিবে কী?
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:১৪:১৪
প্রিন্টঅ-অ+

ফাইল ছবি

চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মহিলা সদস্য জাহানারা বেগম। কিন্তু কোন নারীর ভোটে নয়; শুধুমাত্র পুরুষের ভোটেই তিনি নির্বাচিত সদস্য। এ জন্য তার কোন আক্ষেপের শেষ নেই। তারও আশা নারীরা এগিয়ে এসে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করুক। কিন্তু সে আশা তার পুরণ হয়না। এবারও হবে কী? সেই জবাব তার জানা নেই। কারণ, প্রায় অর্ধশত বছর ধরেই এ ইউনিয়নের নারীরা তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন । শুধুমাত্র একটি অপপ্রচার আর কুসংস্কারের উপর ভিত্তি করে বছরের পর বছর ধরে এমনটি চলে আসছে এখানে। বর্তমানে এখানকার নারীরা ধরেই নিয়েছেন তাদের ভোটের অধিকার নেই। তাই ইউপি নির্বাচনে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই এলাকার প্রায় ৯ হাজার নারী ভোটারের ভোট দেয়ার বিষয়টি। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে এবার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে নারীদের ভোট কেন্দ্রে এনে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার। কিন্তু বিগত বছর গুলোতে যা সম্ভব হয়নি তা এবার কতটুকু সফল হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
    জনশ্রুতি রয়েছে,আজ থেকে অর্ধশত বছর আগে স্থানীয় গৃদকালিন্দিয়া এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ধর্ম প্রচার করতে ভারতের জৈনপুরের একজন পীর খানকা গড়েছিল ওই এলাকায়। কলেরা থেকে বাঁচতে তখন গ্রামবাসী হাজির হন পীরের কাছে। তখন তিনি বলেন, তোমাদের নারীদের পর্দার সাথে চলাফেরা করতে নির্দেশ দাও। তাতেই কলেরা কমে যাবে। ঠিক তখন স্থানীয় কোন একটি নির্বাচন চলছিল। আর তখনই এলাকার লোকজন আপাতত সে নির্বাচনে নারীদের ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সে কথাটিকে অপপ্রচার হিসেবে ব্যবহার করে বন্ধ করে দেয়া হয় নারীদের ভোট দেয়া।
    এদিকে শুধুমাত্র ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকা ছাড়া বাকি সব কাজই এখানকার পুরুষদের থেকে এগিয়ে নারীরা। হাট-বাজার থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা সব ক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। শিক্ষার হারেও অন্য এলাকার তুলনায় এখানকার নারীরা এগিয়ে। বেশ কিছু নামকরা স্কুল, মাদ্রাসাসহ একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে এ এলাকায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল খান বলেন, একটি কুসংস্কারে বিশ্বাস করে নারীরা ভোট কেন্দ্রে যান না। তবে বর্তমান কিছু কিছু মহল নারী ভোটার নিয়ে নোংরা রাজনীতিও করছেন। তারা চায় না নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।
    স্থানীয় বাসিন্দা ইসকান্দার মিয়া বলেন, নারীদের ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে পীরের নিষেধ আছে কথাটি ঠিক নয়। পীর সাহেব নারীদের পর্দা করতে বলেছেন, ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলেননি। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এমিলি বেগম বলেন, এ এলাকার নারীরা সবক্ষেত্রেই এগিয়ে কিন্তু তারা ভোট দিতে পারবে না এটা মেনে নেয়া যায় না । তবে ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের মা, দাদী-নানীরা ভোট দেন না, তাই ইচ্ছা থাকার পরও আমরা ভোট দিতে পারছি না।
    এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, বিগত বছরগুলোতেও নির্বাচনের আগে প্রশাসন নানানভাবে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করে এসেছে। এবারও আমরা সেই চেষ্টা করবো। প্রয়োজনে আলেম-ওলামা ও স্থানীয় মসজিদের ইমামদের কাজে লাগানো হবে। ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড.একে এম মাহবুবুর রহামান বলেন, পর্দার মধ্যে থেকে ভোট দেয়া নারীদের জন্য নিষেধ নেই। এখানকার নারীরা চাইলে পর্দার সহিত তাদের ভোট দিতে পারেন। কারণ ভোট যে কোন নাগরিকের অধিকার। ইসলাম কারো অধিকার হরণে সমর্থন করে না।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর