সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
৮ উপজেলায় ২০২ সেতু নির্মাণ
চাঁদপুরে অর্ধশত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে পাহারা
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:৫৮:১৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: জেলার ৮ উপজেলায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে ডাকা দরপত্র সংগ্রহে ঠিকাদারদের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অর্ধশত কোটি টাকার এ টেন্ডারের আওতায় ২০২টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে আজ (মঙ্গলবার)দরপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। কাল (বুধবার) দরপত্র জমার শেষ দিন।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, বহিরাগতরা দরপত্র সংগ্রহের নির্ধারিত স্থান উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয় পাহারা দিচ্ছে। সাধারন ঠিকাদারদের প্রতিনিধিদের সেখানে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলেছেন, প্রভাবশালি হিসেবে পরিচিত ঠিকাদারদের একটি অংশ বিশেষ সিন্ডিকেট করে দরপত্র সংগ্রহ এবং জমা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।  
এতে অন্যান্য ঠিকাদাররা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকেও জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার পিআইও অফিস, উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ প্রভাবশালি এ সিন্ডিকেটকে সহায়তা দিচ্ছে।
সাধারন ঠিকারদাররা বলেছেন, গত ক’দিন যাবৎ চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় পিআইও অফিস ঘিরে রেখেছে বহিরাগত লোকজন। নিয়ম রক্ষায় ওই অফিস থেকে বেশ কিছু দরপত্র জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়ে  সেগুলো নিজেদের লোকজন দিয়ে সংগ্রহ করে নিয়েছে প্রভাবশালি ওই চক্র। দরপত্র সংগ্রহে জেলার অনান্য উপজেলাতেও এ চিত্র  দেখা গেছে।
মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার সাধারণ ঠিকাদাররা জানেনই না যে, ওই অফিস থেকে কোটি কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেখানকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নিজেদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে বাইরে নিরাপদ স্থানে বসে তাদের দরপত্র বিক্রি ও গ্রহণের কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা সারছেন বলে অভিযোগ ক্ষুব্দ ঠিকাদাররা।
তথ্যমতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৬টি, শাহরাস্তিতে ২১টি, ফরিদগঞ্জে ১৯টি, হাইমচরে ৬টি, কচুয়ায় ১৫টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি এবং মতলব উত্তরে ৬৬টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) এসব দরপত্র বিক্রির শেষ দিন। বুধবার (৬ এপ্রিল)দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন। গ্রহনের দিন থেকে ৭ দিনের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। ঠিকাদার নিয়োগের ১ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ৩০ মের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে।
দরপত্র বিক্রি ও গ্রহণে প্রভাবশালীদের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বাধার বিষয়টি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।  বিষয়টি জানার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দরপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আজ তার কার্যালয়ে পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, স্ব-স্ব উপজেলার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা চাইলে অবাধ ও নিরপেক্ষ দরপত্র গ্রহণে আমরা অবশ্যই পুলিশি সহায়তা দেবো।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি। ২/৩ জন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারাও এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।
সোমবার দুপুরে দরপত্র সংগ্রহে অনিয়ম জানতে  বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক সদর উপজেলা পরিষদে যান। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেও সংশ্লিষ্ট কাউকেই অফিসে পাওয়া যায়নি। অফিস সহকারিরা জানিয়েছে, ইউএনও সাহেব ডিসি অফিসে মিটিং করছেন। থানা ইঞ্জিনিয়ার অফিসে নেই। পিআইও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় মাঝে মাঝে আসেন, আজ আসেননি। পিআইও অফিসের কর্মচারী আক্তার হোসেন ডিসি অফিসে গেছেন। অর্থাৎ দরপত্র সিডিউল ক্রয়-বিক্রির সঙ্গে জড়িত কেউই উপস্থিত নেই। অথচ বহিরাগত পাহারাদাররা ঠিকই সেখানে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি দেখার জন্য ডিসি সাহেবকে বলবো। যাতে আগ্রহী ঠিকাদাররা দরপত্র সংগ্রহ করতে পারেন।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, আমি যেহেতু বিষয়টি জেনেছি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করবো।
দরপত্র সংগ্রহে সাধারন ঠিকাদারদের বাধা দেয়া এবং তথ্য গোপন করার বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরও অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, ‘আমি ডিসি সাহেবকে  বিষয়টি দেখতে বলেছি।’ তিনি আরো বলেন,  ‘আমরা টেন্ডারবাজি সমর্থন করি না। যারা করছে তাদের সবাই চেনে। আমি চাই ফ্রেস টেন্ডার হোক।’

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর