বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০
logo
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ট্রাক্টরে আগুন
হাজীগঞ্জে বাবা-দাদার সামনেই ট্রাক্টর চাপায় প্রাণ গেলো শিশু সিফাতের
প্রকাশ : ৩১ মার্চ, ২০১৬ ০৮:৩০:২৪
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: ট্রাক্টর চাপায় মাত্র ১৫ দিন আগে পর পর দুজনের মৃত্যুর ঘটনার পর আবারো ট্রাক্টর চাপায় প্রাণ গেলো এক শিশুর। বাবা ও দাদার চোখের সামনেই সিফাত (৪) নামে এ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হলো। গতকাল বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের কাঁঠালী কদমতলী দোকানঘর এলাকায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাক্টরের হেলপারকে আটক করে এবং ঘাতক ট্রাক্টর দুটি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় এলাকাবাসী ঐ সড়কটি কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ করে দেয়। নিহত শিশু সিফাত স্থানীয় তফদার বাড়ির স্কুল শিক্ষক সামছল আলমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের হাজীগঞ্জ অংশের কাঁঠালী কদমতলী এলাকার তফদার বাড়ির বদিউল আলম তার ছেলের ঘরের একমাত্র নাতিকে নিয়ে বাড়ির সংলগ্ন সড়কের পাশে দোকানে যান। দোকান সংলগ্ন সড়কের পশ্চিম পাশে দাদা তার নাতিকে কিছু একটা কিনে দেবার জন্যে দোকানের সামনে দাঁড়ান। এমন সময় শিশু সিফাত সড়কের ঠিক উল্টো পাশে বাবা সামছল আলমকে দেখে মুহূর্তেই দৌড় দেয়। আর তখনই হাজীগঞ্জ থেকে কচুয়াগামী ইট বোঝাই একটি ট্রাক্টর দ্রুতবেগে উক্ত স্থান অতিক্রম করার সময় শিশু সিফাতকে চাপা দিয়ে সড়কের বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক্টরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক সিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাক্টরের এক হেলপারকে আটক করে ও সড়কের উপর পড়ে থাকা দুটি ট্রাক্টরে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পরেই উক্ত সড়কে ট্রাক্টর চলাচল স্থানীয়দের উদ্যোগে বন্ধ করে দেয়া হয়।
সরজমিনে তফদার বাড়িতে গেলে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা বার বার যেনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তাদের গগণ বিদারী কান্নায় উপস্থিত সংবাদকর্মীরাসহ এলাকাবাসীরও চোখের পানি চলে আসে। আর দাদা বদিউল আলম অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন বাড়ির একটি ঘরে। পুরো বাড়িতে শুধুই কান্নায় রোল শোনা গেছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় শরীফ নামের একজন চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, আমি কাঁঠালী কদমতলী এলাকার একটি দোকাদের সামনে বসা ছিলাম। সড়কের পশ্চিম পাশে দাদার সাথে থাকা শিশুটি সড়কের পূর্ব পাশে বাবাকে দেখে দৌড় দেয়। ঠিক এ সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাক্টর এসে শিশুটিকে আঘাত করলে শিশুটি ট্রাক্টরের সামনে প্রায় ৫/৭ হাত দূরে গিয়ে পড়ে। ট্রাক্টরটি গতি সামলাতে না পারায় সামনে গিয়ে শিশুটিকে চাপা দেয়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক্টর ঘাতক ট্রাক্টরটিকে সজোরে আঘাত করে। এর পরেই আমরা শিশুটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েপাঠাই। শরীফ আরো জানান, ট্রাক্টরটির গতি কম থাকলে ব্রেক করলে হয়তো শিশুটি বেঁচে যেতো।
শিশুটির চাচা মঈন জানান, সকালে সিফাত আমার কাঁধে উঠে আমার সাথে দুষ্টামি করেছে। তার আধা ঘন্টার মধ্যে সে এভাবে চলে যাবে ভাবিনি এ কথা বলেই কান্না শুরু করে দেন তিনি। পরে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি চাচা মঈনের সাথে।
হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেই। আর ট্রাক্টরের হেলপারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ট্রাক্টর দুটি আমাদের জিম্মায় রাখা আছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে উপজেলার বেলচোঁ বাজার এলাকায় শিপন (১৫) ও বাকিলা এলাকায় রবিউল (১৭) নামের দু' জন ট্রাক্টর চাপায় মারা যান। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে একের পর এক মানুষ লাশ হওয়ার পরও সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামের সড়কগুলো থেকে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর