বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০
logo
নৌকা ও ধানের শীষের ভোটযুদ্ধের সর্বশেষ লড়াইয়ের অপেক্ষায়
কাল চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
প্রকাশ : ৩০ মার্চ, ২০১৬ ১১:৫৯:২৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: কাল ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৬৭ চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে গতকাল ২৯ মার্চ মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত অবিরাম গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক ও প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন সর্বশেষ নৌকা ও ধানের শীষের ভোটযুদ্ধের লড়াইয়ের অপেক্ষায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই প্রথম দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলগুলো চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সে কারণে এবারের নির্বাচন রাজনৈতিক দল, ভোটার ও প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘কেউ কাউকে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ এমন মনোভাব নিয়ে নির্বাচনী মাঠ এখন ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসাররা সকল পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। যেহেতু চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও হাইমচর উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়ন নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এদিকে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘিত করে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে এহেন কোনো কর্মকা- গ্রহণ করবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
    একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, চাঁদপুর সদরের ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে প্রায় ৬৫টি এবং হাইমচরের ৩১টি। সে কারণে ভোটগ্রহণের দিন এ সকল কেন্দ্রগুলোতে পূর্ব থেকে অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামালসহ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা আজ ৩০ মার্চ সন্ধ্যার মধ্যে স্ব স্ব কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। সাথে সাথে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন। এজন্যে ভোটকেন্দ্রে ও তার আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৭ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫২৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আসনে ১৫৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তন্মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৫ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৭২ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আসনে ৯৯ জন এবং হাইমচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৫৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আসনে ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
    চাঁদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুস সবুর ম-ল জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্যে প্রশাসনিকভাবে সকল ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্যে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণসহ নির্বাচনী ব্রিফিং দেয়া হয়েছে। সুতরাং নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পেছনে এদের অবদান থাকতে হবে সবচেয়ে বেশি। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী পরিবেশ যাতে সুন্দর ও সুষ্ঠু থাকে সেজন্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন।
    চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ভোট কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি, কোস্টগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ হিসেবে থাকছে বিজিবি, র‌্যাব সদস্যরা। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫/১৬ জন পুলিশসহ আনসার সদস্যরা থাকছে। এরা ভোটের আগের দিন থেকে শুরু করে ভোট চলাকালীন সময় এবং ভোট গণনা পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
    জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, আমরা সর্বদা চেষ্টা করছি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চাঁদপুরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
    অন্যদিকে রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাদের পেস্টিজ ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সে কারণে সর্বমহলে ইউপি নির্বাচন নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও সমালোচনার কমতি নেই। ২০১১ সালের সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে চাঁদপুর সদরের ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন ব্যতীত ১১টি ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলো। দীর্ঘ ৫ বছরে ওই সকল ইউনিয়নগুলোতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সুবাদে ছায়া চেয়ারম্যান হিসেবে ইউপি নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-ে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পেরেছে। সে কারণে ২০১১-এর চেয়ে ২০১৬ ইউপি নির্বাচনে চাঁদপুর সদরের প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলতঃ এ নির্বাচন হবে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই।    
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর