বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০
logo
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মণ্ডল
চাঁদপুরের মানুষও স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত ছিলো
প্রকাশ : ২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১৮:৪০
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব ডেস্ক

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। তিনি বলেন, আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে গৌরবময় দিন। বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা উড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালে এ দিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতা শৃঙ্খল হলে মুক্ত হতে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে। ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙ্গিয়ে আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে ’৭১-এর এ দিনে যে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি আজকের এদিনে কৃতজ্ঞতা ও স্মরণ বাঙালি জাতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আরো স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৩০ লাখ শহীদ, ২ লক্ষ সম্ভ্রম হারা মা-বোন ও জাতীয় ৪ নেতাকে যাদের রক্তে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তানের তথা বাঙালি জাতির প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী, শোসন ও বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। শোষন-বঞ্চনা, নীপিড়নের স্বাধীন বাংলাদেশকে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি রচনা করে। শুধু অর্থনৈতিক শোষণই নয়, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপরও তাঁদের নিপীড়ন শুরু হয়- যার ফলে বাঙালি জাতির ইতিহাসে রচিত হয় ৫২’র ‘ভাষা আন্দোলন’, ৬৬’র ‘ছয় দফা দাবি, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর ‘সাধারণ নির্বাচন’। এরই পরিক্রমায় ১৯৭১ সালে বাংলার নিপীড়িত জনগণ সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার নতুন সূর্য। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও স্বাধীনতার মহান রুপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথিবীর বুকে রচিত হয় লাল সবুজের নতুন এক পতাকা, প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ নামক নতুন এক ভূখন্ডের।
    আমাদের জাতীয় জীবনের ভয়াল কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীয় কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিলো ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ, আকাশে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া, শ’ শ’ মুক্তিকামী মানুষের চোখ-মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধুর ডাকে এমনি এক কাল রাত্রিতে জীবনপণ সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি জাতি। এ যুদ্ধ ছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যুদ্ধ, শোষণের বিরুদ্ধে শোষিতের যুদ্ধ, পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ, অধিকার আদায়ের যুদ্ধ। সে যুদ্ধ আমরা জয় ছিনিয়ে এনেছি। আমি বিশ্বাস করি, এ জয় আজোও আমাদের উদ্বেলিত করে, মাথা উঁচু করে বিশ্বের বুকে বাঁচতে শেখায়। তাই মার্চ এলেই অধিকার আদায়ের নবউদ্যম ও আত্মবিশ্বাস বলীয়ান হই আমরা।
    মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে চাঁদপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরের মানুষও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে, জীবন বাজি রেখেছে এবং আত্মাহুতি দিয়েছে এবং পরিণামে পাক হানাদারমুক্ত জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর। আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি চাঁদপুরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাঁদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও মরণপণ সংগ্রামের ফলে চাঁদপুর পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছে। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, চাঁদপুরের সকল বীর শহীদদের।
    বর্তমান সরকার তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধ পরিকর। সরকার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ হিসেবে সারা বিশ্বের বুকে একটি মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সরকার গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে সরকার দেশের প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের কাছে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে। যার মধ্যে চাঁদপুরে রয়েছে ৮৯টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও ৭টি পৌর ডিজিটাল সেন্টার। বর্তমানে চাঁদপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হতে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করার সরকারের যে লক্ষ্য সে লক্ষ্য অর্জনে চাঁদপুরবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আত্মনিয়োগ করবে- এই হোক স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।
    বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মাঠ পরিদর্শন করেন। এর পূর্বে কোরআন তেলোওয়াত করে পুলিশ লাইন জামে মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুস সালাম। গীতা পাঠ করেন সহকারী নাজির বিমল চন্দ্র দে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি যথাযথভােেব পালনের লক্ষ্যে পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি এমপি, জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর ম-ল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম.এ ওয়াদুদ, সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কালাম চিশতী।
    চাঁদপুরের অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরতে অংশগ্রহণ করে। সবশেষে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরতে বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করেন ডাঃ দীপু মনি এমপি। ধারা বর্ণনায় ছিলেন স্কাউটস কমিশনার অজয় ভৌমিক, সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া জীবন, সাংবাদিক শাহ মোঃ মাকসুদুল আলম, ইসমত আরা শাফি বন্যা।
 

চাঁদপুর : স্থানীয় সংবাদ এর আরো খবর