বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
এনবিআরের মামলা
সাড়ে ৪ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে স্টার কাবাব
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট, ২০১৬ ১১:৫৮:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
রাজধানী ওয়েব

ঢাকা : প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ফাঁকি দিয়েছে রাজধানির অভিজাত রেস্টুরেন্ট ‘স্টার কাবাব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক গোয়েন্দার অভিযানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
বৃহস্পতিবার এ বিপুল পরিমান ভ্যাট ফাঁকির দেয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মামলা করেছে এনবিআরের মূসক গোয়েন্দা। মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বেলাল হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।   
 
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ও টেলিফোনে ‘স্টার কাবাব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ এর বিভিন্ন ইউনিটের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গত ১৮ এপ্রিল একযোগে একই মালিকের ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় শতাধিক জনবল নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজধানীর ধানমন্ডি, বনানী, কাওরান বাজার, ওয়ারি, টিকাটুলী, এলিফেন্ট রোড ও ঠাটারীবাজারস্থ ইউনিটগুলোতে ঢাকাস্থ বিভিন্ন কমিশনারেটের ১৫০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী একযোগে অভিযান চালান।
অভিযানে দেখা যায়, ‘স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট হওয়া স্বত্বেও দাখিল পত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়- দুভাবেই ভ্যাট পরিশোধ করে, যা ভ্যাট আইন পরিপন্থী। এছাড়া, উল্লেখযোগ্য অনিয়ম হলো- প্রায় সব ইউনিটে কাঁচা চালান ইস্যু করে, ইসিআর থাকা সত্ত্বেও সেবা সরবরাহের সব ক্ষেত্রে ইসিআর চালান দেয় না, বড় ধরনের পার্সেলের ক্ষেত্রে সাদা নিজস্ব চালান ব্যবহার করে, নিজস্ব প্যাডে ও সাদা কাগজে হাতে লেখা বিল প্রদান করে, অনেক ক্ষেত্রেই তারা ইসিআর চালান বা কাঁচা চালান-কোনো ধরনের চালান ইস্যু না করেই হাতে হাতে টাকা গ্রহণ করে এবং মূল্য তালিকায় ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত/ বহির্ভূত উল্লেখ না করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে।  
আর এসব অপরাধ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩৭ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযানে জব্দকৃত দলিলাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুদসহ সর্বমোট ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করে প্রতিবেদনসহ মামলার জন্য পেশ করে হলে আজ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর অনিয়ম মামলাগুলো বিচার ও ন্যায়-নির্ণয়নের জন্য বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে।
 

রাজধানী এর আরো খবর