রোববার, ২৮ মে ২০১৭
logo
২ বছরের জন্য উৎসে কর বন্ধ রাখার প্রস্তাব বিজিএমইএ’র
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:৩১:২৯
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব
ঢাকা: রফতানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পে অন্তত আগামী ২ বছরের জন্য উৎসে কর বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেছে এই খাতের ব্যবসায়ীরা।
 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট সভায় রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’সহ পোশাক সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
 
উৎসে কর তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে পোশাক শিল্পে শুণ্য দশমিক ৭০ শতাংশ উৎস কর বিদ্যমান রয়েছে। যদিও আমাদের দাবি শুণ্য দশমিক ৫ শতাংশ।তবে রফতানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পে অন্তত আগামী ২ বছরের জন্য উৎসে কর বন্ধ রাখা উচিত। কারণ এই খাত দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। উৎসে করের সুবিধা পেলে এই খাত আরো এগিয়ে যাবে। তাই উৎসে কর অবশ্যই থাকা উচিত নয়।
 
তিনি বলেন, বর্তমানে পোশাক শিল্প ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সবারই দায়িত্ব রফতানি আয়ের এই প্রধান খাতকে বাঁচিয়ে রাখা। গত ১০ বছরে এই খাতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ, সেখানে আমাদের দেশে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশের নীচে।নানা প্রতিবন্ধকতায় ইতিমধ্যে ১২’শ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কোনো কারখানা গড়ে উঠছে না।
 
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর বাজেটে রফতানি খাতের জন্য নীতি সহায়তা না দিয়ে ৫ বছরের জন্য এর পলিসি ঠিক করা দরকার।কারণ প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিলে কর্মপরিকল্পনায় সমস্যা তৈরী হয়। এতে আমরা পিছিয়ে পড়ি। এজন্য অন্তত ৫ বছরের জন্য পলিসি নির্ধারণ করা দরকার।
 
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর কারখানা অডিট করা হয়।এতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হয়। তাই হয়রানি বন্ধ করতে প্রতিবছরের জন্য অডিট বন্ধ করা উচিত। যাদের পণ্য নিয়ে সমস্যা কেবল তাদের বিষয়টি ভিন্নভাবে তদারকি করা যেতে পারে।
 
সিদ্দিকুর রহমানের মতে নতুন ভ্যাট আইনে এমন কিছু আছে,যার ফলে সাধারাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের যেন ক্ষতি না হয়, এজন্য ভেবেচিন্তে এটি কার্যকর করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
বিজিএমইএ আগামী অর্থবছরের জন্য কর সংক্রান্ত ১৬টি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-আগামী ৫ বছরের জন্য করপোরেট কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে বিদেশী ক্রেতা কর্তৃক পোশাকের মূল্য হ্রাস করার ফলে পোশাক শিল্পে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বেড়েছে ৭.৮৪ শতাংশ।পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
 
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআর সৎ ব্যবসায়ীদের সব ধরনের প্রণোদনা দেবে। তবে অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে বাঘের থাবা। তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।
 
সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বাসস
 
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর