শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
logo
চালের দাম কিছুটা কমেছে, স্বস্তি ফেরেনি
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:২৩:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: প্রায় তিন মাস ধরে বাড়তে থাকা চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে যে হারে দাম বেড়েছিল, সে হারে না কমায় স্বস্তি ফেরেনি ভোক্তাদের মাঝে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার কয়েকটি পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গুটি, স্বর্ণা, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে এক টাকা আবার কোথাও দেড়/দুই টাকা করে কমেছে। ৫০ কেজির বস্তায় কমেছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।
গত রোজার ঈদের পর থেকেই উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। ২২ টাকা কেজি দরের মোটা চালের দাম বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় পৌঁছেছিল।
সরকারের সংগ্রহ নীতির দুর্বলতার কারণেই মোটা চালের দাম বেড়েছিল বলে মনে করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনসুর হোসেন।
সাগর অটো রাইস মিলের এই মালিক বলেন, “এ বছর সরকার যে সময়ে মোটা চাল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন বাজারে মোটা ধান বা চালের মওসুম ছিল না। এছাড়া কৃষকরাও গত কয়েক বছর ক্ষতির শিকার হয়ে মোটা ধান (স্বর্ণা) চাষ কমিয়ে দিয়েছেন।
মোটা চালে কৃষকদের অনাগ্রহই দাম বাড়ার অন‌্যতম কারণ মনে করছেন চালকল মালিকরা
মোটা চালে কৃষকদের অনাগ্রহই দাম বাড়ার অন‌্যতম কারণ মনে করছেন চালকল মালিকরা
“লাভজনক হওয়ায় সবাই চিকন চালের ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এসব কারণে মোটা চালের সঙ্কট দেখা দেওয়ায় ‘অটোমেটিক’ চালের দাম বেড়ে যায়।”
এই মিল মালিক বলেন, সরকারে সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তারা চাহিদা অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে বাধ্য। এ বছর তিনি ৫০ কেজির সাড়ে ছয় হাজার বস্তা চাল সরকারকে দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ধান না পেয়ে তাকে সুদূর হবিগঞ্জ জেলায় গিয়ে ধান আনতে হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে ধান সংগ্রহ অভিযান শেষ হওয়ার পর গত ২৫ জুলাই সারাদেশের মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে খাদ্য অধিদপ্তর।
“সরকারের চাহিদা পূরণে প্রতিটি মিল মালিক এক সাথে মাঠে নামার পর ধানের দাম বেড়ে গেল। পরিস্থিতি এমন হয় যে, চালের দাম বাড়ার পরেও ২/৩শ টাকা লস দিয়ে সরকারকে চাল দিতে হয়েছিল। আর এর প্রভাব পড়ে সার্বিক চালের বাজারে,” বলেন মনসুর।
গত কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে চালের মিলগুলো প্রায় ১৫ দিন করে বন্ধ ছিল জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ব্যবসায়ী বলেন, মিল বন্ধ থাকার কারণেও চালের সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। চালের দাম বৃদ্ধিতে এর প্রভাব রয়েছে।
এখন চালের দাম কমার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকন জাতের চালের দাম আরও কমতে পারে। তবে নভেম্বরে আমন ধান বাজারে আসার আগ পর্যন্ত মোটা জাতের ধান কিংবা চালের দাম খুব একটা কমবে না।
গত এক সপ্তাহ ধরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে এক দুই টাকা কমেছে বলে জানান ঢাকার বাড্ডার কামরুল রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী রোমান।
তিনি বলেন, মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ২২৫০ টাকা থেকে কমে ২২ টাকায় এসেছে। বিআর আটাশ চাল কেজিতে ২ টাকা কমেছে। ১৯৫০ টাকার বস্তা (৫০ কেজি) এখন ১৮৫০ টাকা। স্বর্ণা চালও কেজিতে দেড় টাকা কমেছে, এই চালের বস্তা (৫০ কেজি) এখন ১৮৫০ টাকা। নাজিরশাইল ২০৫০ টাকা ২৪০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকার বিক্রেতারা বলছেন, চালের দর কেজিতে কমেছে ১/২ টাকা
ঢাকার বিক্রেতারা বলছেন, চালের দর কেজিতে কমেছে ১/২ টাকা
এই আড়তের মালিক কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চালের দাম বাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে সরকার চাল আমদানির উপর ভ্যাট বাড়ানোর কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে সেই চাপ পড়েছে দেশীয় আড়তগুলোর ওপর। এই সুযোগে গত তিন মাস ধরে চালের দাম একটু একটু করে বাড়ছিল।
মোটা চালের দাম বৃদ্ধি কারণ হিসেবে এই ধরনের ধান উৎপাদনে কৃষকদের অনাগ্রহের কথা জানান তিনিও।
সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের কারণে উত্তরাঞ্চলে সার্বিকভাবে ধানের দাম বাড়ছে বলেও মনে করেন এই আড়ৎদার।
চালের দম কমার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “দাম বাড়তে দেখে অনেকেই চাল কিনে মজুদ করেছেন। এখন ‘কনজামশন’ কিছুটা কমেছে, ফলে দামও কমতে শুরু করেছে।”
পুরান ঢাকার বাবুবাজারে বাবু বাজার রাইস এজেন্সির নিজাম উদ্দিনও গত এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে এক, দেড় এমনকি দুই টাকা করে কমার তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানান, বিআর আটাশ ৩৯ টাকা থেকে কমে ৩৮ টাকায়, মোটা চাল ৩৮ টাকা থেকে কমে ৩৭ টাকায়, গুটি চাল ৩৭ টাকা থেকে কমে ৩৬ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দাম কমতির দিকে।
এই বাজারের মাতৃভান্ডার রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী বাদশা মিয়া জানান, মিল পর্যায়ে চালের দাম কিছুটা কমার কারণে এর প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তবে যে হারে দাম বেড়েছে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে।
বাবু বাজারে চাল কিনতে আসা সুমন মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১০ টাকা বেড়ে এক টাকা কমলে একে কি দাম কমা বলা যায়? এই কয়দিন যা কামানোর তা তো মিল মালিকরা কামিয়েছেন।
“অনেক দিন ধরেই গরিবের খাদ্য মোটা চালের দাম বাড়ছে। কৃষকরা এর সুফল না পেলেও মজুদদাররা ঠিকই মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন,” বলেন এই ক্রেতা।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর