বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
logo
শরতের শেষে বাড়তি পেঁয়াজ-সবজির দাম
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:০৯:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: কাঁচাবাজারে সবজির দামের পাশাপাশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতির কারণে অধিকাংশ সবজির দাম বাড়লেও আমদানি কম থাকায় বাড়ছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম, ফলে সরবরাহে ঘাটতি না থেকেও বাড়ছে দেশি পেঁয়াজের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা পাওয়া যায় এই বাজারচিত্র।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এই কয় দিনে কেজিতে প্রায় আট টাকা পর্যন্ত বেড়ে ভারতীয় পেঁয়াজ এখন খুচরা বাজারে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক মাস আগে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখন ভারতীয় পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই দেশীয় ফের বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দামও।
ঈদের পর গত দুই সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান কারওয়ান বাজারের খুচরা ও পাইকারি মসলা বিক্রেতা আক্তার হোসেন।
“আমদানি কমে যাওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। কিন্তু দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে তা বলতে পারছিনা।”
“কোরবানির ঈদের আগে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৫ টাকা ছিল। পরে তা কমে ঈদের পরে ৩২ টাকায় এসেছিল। এখন আবার দাম বেড়ে ৩৫ টাকায় উঠেছে,” এভাবেই দেশীয় পেঁয়াজের উত্থান পতনের কথা বলেন আক্তার।
পেয়াজের দাম বাড়লেও রসুনের দাম স্থিতিশীলই আছে। দেশীয় রসুনের কেজি ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায় এবং চায়না রসুন ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই রকম তথ্য পাওয়া যায় উত্তর বাড্ডার মুদি দোকানি ওমর ফারুকের কাছে।
তিনি বলেন, “গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আর চালের দাম তো এক মাস ধরে ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই। এছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে।”
উত্তর বাড্ডায় শাক সবজির দামও এদিন বাড়তি ছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
সেখানে পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
বাড্ডায় বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গাজী সাদেক বলেন, ‍“বাজারে মাছের দামে যেমন স্বস্তি পেয়েছি সবজির দাম সেটা পুশিয়ে দিয়েছে। প্রায় সব রকমের সবজির দামই বেশি মনে হয়েছে।”
বাড্ডায় ৫০০ টাকায় যেমন প্রায় এক কেজি ওজনের ইলিশ মিলছিল, তেমনি আড়াইশ টাকায় বড় আকারের রুই, ১৩০ টাকায় তেলাপিয়া, ১২০ টাকায় পাঙ্গাস ও ১৪০ টাকায় কই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছিল।
কারওয়ান বাজারেও প্রতি কেজি টমেটো ৮০ টাকা, উসতা ৪০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, গাজার ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, বেগুন ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতার সোলায়মানের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে যে বন্যা হয়েছিল এর প্রভাব এখন বাজারে পড়তে শুরু করেছে। কারণ উত্তর বঙ্গে মোকামগুলোতেই সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে, সে কারণে ঢাকায় দাম বাড়ছে। পাশাপাশি সরবরাহও আগের চেয়ে তুলনামূলক কমেছে।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, সবজিসহ অধিকাংশ পণ্যের দামই বাড়তি বলে তার কাছে মনে হয়েছে।
তবে গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম কিছুটা কমেছে। কারওয়ান বাজারে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে ঢাকার বাজারগুলোয় বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। পাকিস্তানি কক প্রতিটি ২০০ টাকায় এবং দেশীয় ছোট আকারের মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকায়।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর