মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
logo
মসলার বাজারে কোরবানির হাওয়া
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:০১:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে শাক-সবজির দাম স্থিতিশীল এবং ক্ষেত্রবিশেষে কমতির দিকে থাকলেও মসলাসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মসলার বাজারে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কথা শুক্রবার নিউ মার্কেট ও কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানিরা জানালেও পাইকারি দোকানিরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির কোনো খবর তাদের কাছে নেই।
এদিকে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন রকম চালের দামও কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব‌্যবসায়ীরা। ‘বন্যার দোহাই’ দিয়ে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়ানোয় এই পরিস্থিতি বলে তাদের ভাষ্য।
খুচরা মসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন রকম মসলার দাম পাইকারিতে কিছুটা বেড়েছে। তারা ‘বাধ‌্য হয়ে’ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়েছেন তারা।
নিউ মার্কেটের মসলা বিক্রেতা রবিউল হোসেন জানান, প্রতিকেজি জিরা ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮০ টাকা, এলাচ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬৫০ টাকা, লবঙ্গ ৯০০ টাকা থেকে ১০৫০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৮৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা, আলু বোখারা ৪৮০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা এবং কাজু বাদাম ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫০ টাকা হয়েছে।
পাশের আরেক মুদি দোকান সীমা স্টোরের মাসুদ জানান, তার দোকানেও মসলার দাম কিছুটা বেড়েছে।
তিনি বলেন, প্রতি কেজি জিরা ৩৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬৫ টাকা, এলাচ ১৩৬০ টাকা থেকে ১৪২০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৮০০ থেকে বেড়ে ৮৮০ টাকা, দারুচিনি ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা হয়েছে।
তবে কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকান হক মসলা বিতানের বিক্রয়কর্মী কাশেম বলেন, তার জানা মতে মসলার দাম খুব একটা বেশি বাড়েনি। ঈদ মৌসুমে চাহিদা বাড়ার কারণে অনেকে দাম কিছুটা বাড়াতে পারেন। তবে সামগ্রিকভাবে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
হক মসল্লা বিতান প্রতি কেজি জিরা ৩৪০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকায়, এলাচ ১০৫০ টাকায় থেকে ১১০০ টাকায়, কালো গোল মরিচ ১০০০ টাকায়, লবঙ্গ ১০০০ টাকায়, দারুচিনি ২৬০ টাকায় এবং আলু বোখারা ৫২০ টাকায় দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর অন‌্যতম পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের মসলা ব্যবসায়ী মাসুমের দাবি ঈদ সামনে রেখে কোনো মসলার দামই তেমন বাড়েনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এলাচের দাম কিছুটা বাড়তে থাকলেও তা আবার আগের দামে চলে এসেছে।”
চাল বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় নিউ মার্কেটের জাহাঙ্গীর স্টোরের বিক্রেতা জুয়েলের সঙ্গে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, বিভিন্ন রকম চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিল পর্যায়ে চালের দাম আরও বাড়ানো হবে বলে তারা শুনতে পেয়েছেন।
ভালো মানের ৫০ কেজির মিনিকেটের বস্তা ২২০০ টাকা, মধ্যম মানের বস্তা ২১৫০ থেকে ২২০০ টাকা এবং আরেকটু খারাপ মানের বস্তা ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মিনিকেট মানভেদে বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চাল ‘স্বর্ণার’ দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণা চাল বস্তায় ২০০ টাকা করে বেড়েছে, গত এক মাসে বেড়েছে প্রায় ৪০০ টাকা। স্বর্ণা চালের বস্তা এখন ১৮০০ টাকা। বিআর আঠাশ ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে চালের দোকান সিরাজ অ্যান্ড সন্সের মালিক মো. মহসিন বলেন, এখন বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বিআর আটাশ পাওয়া যাচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মিল মালিকদের দাবি বন্যার কারণে অনেক সমস্যা হয়েছে, তাই দাম বাড়ানো হয়েছে।”
চালের দাম বাড়া-কমার বিষয়টি একান্তই মিল মালিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান কারওয়ান বাজারের এই ব‌্যবসায়ী।
ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর চাল এবং মসলার বাজারে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও স্থিতিশীল আছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম। তবে আদার দাম ‘কিছুটা বেড়েছে’।
শুক্রবার কারওয়ান বাজারে প্রতিকেজি দেশি আদা ১৫০ টাকায়, ইন্দোনেশিয়ার আদা ১২০ টাকায়, চায়নার আদা ৮০ টাকায় এবং দেশি রসুন ১৫০ টাকায় ও আমদানি করা রসুন ১৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
আদার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে বলে জানান কয়েকজন দোকানি।
রাজধানীতে প্রায় সব ধরনের সবজিই এদিন আগের সপ্তাহের দামে পাওয়া গেছে।
সকালে কারওয়ান বাজারে কথা হয় আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাজার সম্পর্কে ভালো-খারাপ কিছুই বলা যাচ্ছে না। কারণ এক দোকানের সঙ্গে অন্য দোকানের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ওরা যে যার মতো করে দাম রাখছে।”
এই আইনজীবী যে দোকান থেকে সবজি কিনছিলেন সেখানে প্রতিকেজি পটল ২০ টাকায়, মূলা ৩০ টাকায়, টমেটো ৬০ টাকায়, মরিচ ৬০ টাকায়, গাজর ৪০ টাকায়, পেঁপে ২০ টাকায়, ঢেঁড়শ ৩০ টাকায়, ঝিঙা ৪০ টাকায় ও শসা ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর অন‌্যতম এই বাজারে শসার দাম বেড়ে প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর