শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
ভোগান্তি কমাতে কোরবানীর পশুর হাট বাড়িয়েছে দক্ষিণ সিটি
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ১২:২৩:১৬
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা : আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও অস্থায়ীভাবে কোরবানীর পশুর হাট ইজারা দেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে অন্যান্য বছর পশুর হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় এবার হাটের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২টি করেছে ডিএসসিসি। ইতোমধ্যে হাটের দরপত্র ফরমও বিক্রি শুরু হয়েছে। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
 
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিগত বছরগুলোতে অস্থায়ীভাবে কোরবানীর পশুর হাট বসানো হতো মাত্র ১০টি স্থানে। কিন্তু এবছর বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেন মালিকানাধীন যাত্রাবাড়ি কাঁচাবাজারের ভেতর ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি স্থান এবং রাস্তার পূর্ব পাশে নতুন ২টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এসব হাট ইজারা নিতে সরকারি মূল্যও নির্ধারণ করে দিয়েছে ডিএসসিসি।
 
এর মধ্যে ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ ৬৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫০৯ টাকা, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৪০২ টাকা, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাজার ৫১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪৫ টাকা, ধোলাইখালের সাদেক হোসেন খোকা মাঠ ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার ৯১৮ টাকা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রীসংগের মাঠ ৭ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৪ টাকা, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৭ টাকা।
 
গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা, পোস্তগোলা শশ্মানঘাট খালি স্থান ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা, লালবাগের বেড়িবাঁধ মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৫ টাকা, কারাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ খালি স্থান ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে সিডিউল, সংস্কার ও পরিছন্ন ফি রয়েছে।
 
আর নতুন ২ হাটের ক্ষেত্রে গত তিন বছরের গড় মূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ যোগ করা হবে। তবে নতুন ২ হাটের সিডিউল ২ হাজার টাকা এবং সংস্কার ও পরিছন্নন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৯৩৮ টাকা।
 
জানা গেছে, প্রতিটি হাটের জন্য প্রস্তাবিত দরের ৩০ শতাংশ জামানতের টাকা যে কোনো সিডিউল ব্যাংক থেকে ডিএসসিসির মেয়র অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডার দরপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ টাকার ২৫ শতাংশ ইজারা মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং বাকি ৫ শতাংশ টাকা জামানত হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
 
এই দরপত্র বিভাগীয় কমিশনার ও ডিএসসিসির ৫টি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে আছে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-১ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-২ খিলগাঁও তিলপাপাড়া কমিউনিটি সেন্টার, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-৩ আজিমপুর গণি সরদার কমিউনিটি সেন্টার, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-৪ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন নবমতলা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-৪ সায়েদাবাদ (দরবার শরীফের কাছে রাস্তার পশ্চিম পাশে)।
 
সূত্র আরো জানায়, কোরবানীর পশুর হাটের দরপত্র ফরম বিক্রি শেষ সময় আগামী ২০ জুলাই। আর দরপত্র দাখিলের সময় ২১ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। দরপত্র বাক্স খোলা হবে ওই দিন আড়াইটায়। আর পুনঃদরপত্র প্রথমবারের বিক্রি শেষ সময় ৮ আগস্ট, দাখিলের সময় ৯ আগস্ট, দুপুর সাড়ে ১২টা, দরপত্র বাক্স খোলার সময় ওই দিন দুপুর আড়াইটায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিক্রি শেষ সময় ৩০ আগস্ট, দাখিলের সময় ৩১ আগস্ট, দুপুর সাড়ে ১২টা, দরপত্র বাক্স খোলার সময় ওই দিন দুপুর আড়াইটায়।
 
এ সম্পর্কে ডিএসসিসির সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামসুল আলম জানান, রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে ডিএসসিসি এবার কোরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২টি করেছে। এতে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের কোনো রকম ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। যার দরপত্র বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রথম পর্যায়ের দরপত্র বিক্রির শেষ সময় ২০ জুলাই। পুনঃদরপত্র বিক্রির শেষ সময় ৩০ আগস্ট।
 
এছাড়াও, দরপত্র দাখিল ও খোলার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এবার অন্য বছরের চেয়ে করপোরেশন আগে ভাগে দরপত্র বিক্রি শুরু করেছে। এ কারণে ইজারাদারদেরও কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না। আর কোরবানীর পশুর হাট তদারকি করার জন্য আঞ্চলিক কর্মকর্তাসহ প্রত্যেকটি স্থানে ডিএসসিসি ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে।

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর