মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
logo
প্রবাসী আয়ে ভাটা
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৬ ১৬:১৩:৩২
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা : প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ভাটা পড়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন, তা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৯ কোটি ডলার (প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা) বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে জনশক্তি রপ্তানিতে ‘স্থবিরতা’ অন্যদিকে মার্কিন মুদ্রা ডলারের তুলনায় টাকার মান শক্তিশালী হওয়ার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ কম এসেছে। ফলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা এর আগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিলো এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৯ কোটি ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ ডলার। আর ২০১৩-১৪ তে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪২২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। তবে এ বিগত চার বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে; এ সময় রেমিট্যান্স অতিক্রম করেছিল দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিন যুগেরও বেশি সময়ে পর প্রথমবারের মতো ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে। তবে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কিছুটা ইতিবাচক হলেও সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আবাও ধস নামলো প্রবাসী আয়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া জুন মাসে ঈদের কেনাকাটার জন্য প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স বেশি পাঠিয়েছে। ফলে মে মাসের তুলনায় জুনে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। জুন মাসে ১৪৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের জুন মাসের চেয়ে ২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল অর্থবছরের প্রথম মাস প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৩৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে। অগাস্টে আসে ১১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ১৩৫ কোটি ডলার আসে সেপ্টেম্বরে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আসে যথাক্রমে ১১০ কোটি, ১১৪ কোটি ২৫ লাখ এবং ১৩১ কোটি ২৬ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে এসেছিল ১১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছিল ১১৩ কোটি ৩১ লাখ ডলার। মার্চ মাসে ১২৮ কোটি ১১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এপ্রিলে এসেছিল ১১৯ কোটি ১১ লাখ ডলার। মে মাসে ১২১ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে এবং সর্বশেষ জুন মাসে ১৪৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
রেমিট্যান্স আশানুরূপ হারে না বাড়লেও রফতানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি আগের বছরের তুলনায় বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গেল অর্থবছরের বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছুয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রিজার্ভের এ পরিমাণ দ্বিতীয়। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশের ৮ মাসের বেশি আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।
রেমিট্যান্স কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে একমাত্র রিজার্ভ তথা  প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’
কয়েকটি কারণে রেমিট্যান্স কমছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। এতে আমদানি কারকদের সুবিধা হলেও রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে পভাব পরে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় মধ্যপ্রাচ্যে দেশগুলোতে প্রবাসীদের বেতন ও মজুরী কমে গেছে। অর্থাৎ ইনকাম কমে যাওয়া রেমিট্যান্স পাঠানো কমে গেছে।’
দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানিতে ‘স্থবিরতা’ চলছে। সরকার নানা দেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও এর দৃশ্যমান কোনো ফল দেখা যাচ্ছে না।
সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসীদের অনেকে জমি কেনা ও ব্যবসা করার জন্য রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু এখন জমি কিনতে রেজিস্ট্রেশনের সময় নানা সমস্যার কারণে প্রবাসীদের আগ্রহ কমেছে। এছাড়াও দেশে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তা, বিনিয়োগ মন্দা, বিদেশ থেকে শ্রমিক ফিরে আসা, হুন্ডির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে।’
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর