বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০
logo
পঞ্চগড়ে বেড়েই চলছে চিনির দাম, বিপাকে ক্রেতা
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৬ ১৩:৪৮:০৬
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে বেড়েই চলেছে চিনির দাম। প্রতিদিনই বস্তা প্রতি ১শ থেকে ২শ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিলাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করায় বিপাকে পড়েছেন খুচরা বিক্রেতা ও  সাধারণ ক্রেতারা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা।
পঞ্চগড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি চিনি ৬২ টাকা দরে বিক্রি করছেন। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ টাকা। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্ধারিত ডিলাররা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে প্রতিদিনই চিনির দাম বৃদ্ধি করছেন বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের। লাগামহীনভাবে চিনির দাম  বৃদ্ধি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে এ জেলার সাধারণ মানুষ। হঠাৎ এভাবে চিনির দাম মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সাধারণ ক্রেতারা।
পঞ্চগড় হাফিজাবাদ এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকা কেজি দরে চিনি কিনেছি। এখন ৬২ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চিনির দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষেরা দুর্ভোগে পড়বে।’
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পঞ্চগড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্ধারিত ডিলার শরীফ হোসেনকে  এই সমস্যার জন্য দায়ী করছেন। জেলায় নিবন্ধিত ৯ জন ডিলারদের মধ্যে তিনি একাই একাধিক নামে ৪টি ডিলার শিপ নিয়েছেন। রমজানের আগেই চিনি স্টক করে তিনি প্রতিদিনই চিনির দাম বৃদ্ধি করছেন বলে জানা যায়। ডিলারদের কাছে জিম্মি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিরুপায় হয়ে প্রতিদিনই নতুন দরে কেনা চিনি বিক্রি করে চলেছেন। গত কয়েক দিন থেকে তারা বস্তা প্রতি ১শ থেকে ২শ টাকা বেশিতে চিনি ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পঞ্চগড় বাজারের ক্রেতা আব্দুস সবুর বলেন, ‘রমজান মাসে এমনিতেই চিনির চাহিদা একটু বেশি। এই সময় চিনির দাম বাড়ায় আমরা হতাশ। তবে সরকার যদি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পাবো।’
পঞ্চগড় বাজারের মুদি দোকানদার মুকুল হোসেন বলেন, ‘এই সমস্যা ডিলাররা তৈরি করেছে। তাদের কাছে আমরা যেমন দরে চিনি ক্রয় করছি ঠিক তেমন দরেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি। জেলার ৯ জন ডিলারের মধ্যে ৪ জনই এক পরিবারের। তারাই পঞ্চগড়ে চিনি দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী। উল্টো ক্রেতাদের জবাব দিতে হয় আমাদের।’
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ডিলার শরীফ এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার মোতাহার হোসেন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের ৯ জন ডিলারদের মধ্যে যে বরাদ্দ তা এ জেলার চাহিদার তুলনার অনেক কম। যে কারণে আমাদের বাইরের ডিলারদের কাছে অতিরিক্ত দামে চিনির কাগজপত্র (ডিও) কিনতে হচ্ছে।’
তিনি চিনি কল থেকে প্রতি মেট্রিক টন চিনি ৪৮ হাজার টাকা দরে কেনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ  শেষ হয়ে যাওয়ায় বাইরের ডিলারদের কাছে অতিরিক্ত দামে কাগজপত্র (ডিও) কিনে চিনি উত্তোলন করছি। এ কারণে বাজারে চিনির দাম একটু বৃদ্ধি পেয়েছে।’
পঞ্চগড়  জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী (ডিলার) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর