মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০
logo
বাড়ছে আদায়, কমছে লোকসানি শাখা
প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০১৬ ১৪:৫৬:১৯
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা : রূপালী ব্যাংকের আর্থিক সূচকের উন্নতির কারণে শ্রেণিকৃত ঋণ, মন্দ ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও নিম্নমানের ঋণের পরিমাণ কমেছে। এছাড়া ব্যবসা বৃদ্ধি, লোকসানি শাখা হ্রাস, ঋণ বিতরণ করা, নতুন শাখা খোলা, রেমিটেন্স বৃদ্ধি, অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম সার্ভিস চালু, লোকবল নিয়োগ দেয়াসহ প্রায় সব বিষয়েই অগ্রগতি হয়েছে। কমে এসেছে লোকসানি শাখার পরিমাণও। একই সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের ২৭৭টি অডিট আপত্তিতে জড়িত ২৬০ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ চলতি মাসে ৭৬টি অডিট আপত্তিতে ১১৬ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাংকটি।
এদিকে গত মে মাস পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নগদে আদায় করতে সক্ষম হয়েছে রূপালী ব্যাংক। যা কেপিআই লক্ষ্যমাত্রার (অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা) শতভাগ অর্জন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ অর্জন আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পাঠানো এক বিবরণীতে জানানো হয়, রূপালী ব্যাংকের ২০১৩ সালে ঋণ ও অগ্রিমের স্থিতি ছিল ১০ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে উন্নীত হয় ১২ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। এই স্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এমওইউ চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিদ্যমান। ২০১৩ সালে শ্রেণিকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা এবং ২০১৪ সালে এই স্থিতি কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫১৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে, যা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতা এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল বলে মনে করছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকের মন্দ বা কু-ঋণের পরিমাণ ২০১৩ সালে ছিল ১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকায়।
রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম ফরিদ উদ্দিন বাংলামেইলকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণের বিষয়ে শাখা ও জোনভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া বড় ঋণ গ্রহিতাদের সঙ্গে আমি নিজেই আলোচনা করছি। এভাবে চলতে থাকলে চলতি বছরই খেলাপি ঋণ কমিয়ে অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে ভালো অবস্থানে যাবে রূপালী ব্যাংক।’
রূপালী ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ব্যাংকটি শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে ১০৩ কোটি টাকা আদায় করেছে। ২০১৫ সালে আদায় হয়েছিল ১১২ কোটি টাকা। তবে ২০১৬ সালে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে অর্থমন্ত্রণালয় ১৫০ কোটি টাকা টার্গেট বেঁধে দেয়। ওই টার্গেটের মধ্যে গত ৫ মাসে (জানুয়ারি-মে পর্যন্ত) আদায় হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ অর্জিত হয়।
ব্যাংকের রিকভারি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলামেইলকে জানান, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক ৫০ দিনের মধ্যে ৪শ’ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায় হবে ১৭০ কোটি টাকা। অবলোপনকৃত ঋণ থেকে নগদ ৩০ কোটি টাকা এবং অ-শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে নগদ ২০০ কোটি টাকা আদায় করা হবে।
এদিকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ স্থিতি ছিল সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক বিক্রির পাঁয়তারার কারণে দীর্ঘদিন ঋণ প্রবাহ স্থবির ছিল। তবে ধীরে ধীরে ঋণ প্রবাহে গতি সঞ্চার হয়। যার ফলশ্রুতিতে ব্যাংকে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৩ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ২০৫ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে ২৫৩ থেকে ২০১৫ সালে ২৭০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে ২০১৪ সালে দেশের বিরাজমান সঙ্কট ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যমান অস্থিতিশীল থাকায় শিল্প মালিকগণ আশানুরূপ মুনাফা অর্জন করতে পারেননি। ফলে ওই সময়ে ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে ব্যাংকের ব্যবস্থপনা পরিচালক বাংলামেইলকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ে রূপালী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিনিয়োগও করা হচ্ছে গ্রাহক যাচাই করে। এ কারণে ব্যাংকের মুনাফাও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে।’
বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ৮টি। যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে কম। তাছাড়া শাখাগুলি নতুন খোলা হওয়ায় তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। সাধারণত, নতুন খোলা শাখাগুলি ব্যবসা সম্প্রসারণের অভাবে প্রথম বছরে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এদিকে ১৯৭২ সাল হতে পুঞ্জীভূত মোট ৬৩২টি উত্থাপিত আপত্তির মধ্যে ২৭৭টি অডিট আপত্তিতে জড়িত ২৬০ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অবশিষ্ট অমিমাংসীত ৩৫৫টি আপত্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই বিষয়ে শাখা পর্যায়ে এবং প্রধান কার্যালয় নিরীক্ষায় আপত্তি দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসে ৭৬টি অডিট আপত্তিতে ১১৬ কোটি আদায় করেছে রূপালী ব্যাংক। সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের জুন ভিত্তিক বাণিজ্যিক নিরীক্ষায় অগ্রণী, জনতা ও সোনালী ব্যাংকের তুলনায় রূপালী ব্যাংকে জড়িত টাকার পরিমাণ সবচেয়ে কম।

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর