মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
logo
বাস্তবায়নে গতি নেই, ফের কাটছাট ৯০০০ কোটি টাকা
প্রকাশ : ২২ মার্চ, ২০১৬ ১১:১৩:০১
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতির কারণে প্রায় লাখ কোটি টাকার  বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নিয়ে হোঁচট খেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের এডিপির মূল আকার ছোট করে আনছে সরকার। অবশ্য এভাবে এডিপির আকার কাটছাট নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে।
 
গত আট বছরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বনিম্ন গতি হওয়ায় ৯ হাজার কোটি টাকা কাটছাট করে ৮৮ হাজার কোটি টাকায় চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো সংশোধিত এডিপিতে এক লাখ কোটি টাকা চেয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছে।
 
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করতে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করবেন।  
 
সূত্র জানায়, মূল এডিপির আকার ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল। যা প্রায় সাড়ে নয় শতাংশ কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ৮৮ হাজার কোটি টাকা করার সুপারিশ করে অর্থ বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল অংশে ৩ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা  করা হচ্ছে। বিদেশি সাহায্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা কাটছাট করে ২৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। খসড়া চূড়ান্ত করে ২৯ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন  করা হবে।
 
গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কাটছাট নিয়ে অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। অর্থমন্ত্রণালয় ব্যাপকভাবে এডিপি আকার কমাতে চাইলেও তাতে রাজি হয়নি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে এনইসি বৈঠকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে মূল এডিপি থেকে বরাদ্দ কমে যায় ৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, রাজস্ব আহরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে শ্লেথ গতির কারণে সংশোধিত এডিপির আকার ছোট করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেও তেমন কাজে আসছে না। তবে অর্থবছর শেষে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হবে।
 
তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করারও কারণেও কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
 
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব তারিক-উল ইসলাম বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আহরণের ওপর ভিত্তি করে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়। এবারও তাই হচ্ছে। যেসব সংস্থা বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকবে তাদের অর্থ কাটছাট করা হবে।
 
এডিপি বাস্তবায়নের ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও মাঠের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। বিগত বছরগুলোর তুলনায় টাকার অংকে বাড়লেও এডিপি বাস্তবায়ন হার কমে গেছে। এবার প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি)  ৩৪ শতাংশ অর্থ বা ৩৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত অর্থবছরে একই বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৮ শতাংশ। এর আগে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩২ শতাংশ।
 
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পদ্মাসেতুতে বড় অংকের অর্থের চাহিদার কারণে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত। এ খাতটিতে  সংশোধিত এডিপির ২২ শতাংশ বা ১৯ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঘোড়াশালের দুটি ইউনিটের রিপাওয়ারিং, পল্লী বিদ্যুতের ১৫ লাখ গ্রাহককে সংযোগ প্রদানসহ বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। এ খাতে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ। শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ নয় হাজার ৮৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে।
 
পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।  স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
 
টাকার অংকে বিগত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ এডিপি কাটছাট করা হচ্ছে এবার। ৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা কমানোর পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়ায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর আগের বার অর্থাৎ ২০১২-১৩-তে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ৫২ হাজার কোটি টাকা। সেবার ২ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা কমানো হয়েছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে কাটছাঁট হয়েছিল ৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। তখন সংশোধিত এডিপির আকার হয়েছিল ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা।
 
এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ কাজী খালেকুজ্জামান বাংলামেইলকে বলেন, ‘সবসময় অর্থবছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নের হার ধীরগতির দেখা যায়। এটা হয় আমাদের উন্নয়ন প্রশাসনের সমস্যার কারণে। তারা সময়মতো অর্থছাড় দেয় না। এ কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ হাতে নেয়া যায় না। আমাদের উন্নয়ন প্রশাসনকে আরো উন্নয়ন মুখি হতে হবে। তা না হলে এ ধারা থেকে বের হওয়া যাবে না।’

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর