সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
সুড়ঙ্গ নয়, এবার আত্মসাৎ!
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৫ ২২:০৩:৪০
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

চুয়াডাঙ্গা: সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি, অর্থ লুটপাট আর সুরঙ্গ কেলেঙ্কারি যেন পিছুই ছাড়ছে না। এ কেলেঙ্কারির ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গার সোনালী ব্যাংকের ডিঙ্গেদহ শাখা থেকে অন্তত ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। শাখা ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে এ টাকা সরিয়ে দেয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর একজনকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বাকিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির ব্যবস্থা নিয়েছে।
ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়ার ঘটনার পর সোনালী ব্যাংক ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে পর্যবেক্ষক দল আসেন পরিদর্শনে। গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ঢাকা সোনালী ব্যাংক কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান।
সোনালী ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা শাখার প্রিন্সিপাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক আমির হোসেন বাংলামেইলকে জানান, গত ২৬ জুন সোনালী ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয় ফরিদপুর থেকে মহাব্যবস্থাপক সরদার নূরুল আমিন (বর্তমানে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত) ডিঙ্গেদহ শাখায় গিয়ে গ্রাহকদের আয়-ব্যয়ের হিসাবে ওই ৬৫ লাখ টাকা কয়েকজন ব্যাংক কর্মচারীর নিজ নিজ হিসাবে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করেন। ওই টাকা ব্যাংক ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জমান, কনিষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা শামসুল আলম ও কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ আরও দু’জন কর্মচারীর হিসাবে পাওয়া যায়।
কর্মচারী দুজনের নাম গোপন করে আমির হোসেন বলেন, ‘তাৎক্ষণিক মহাব্যবস্থাপক বিষয়টি চিহ্নিত করে ডিঙ্গেদহ শাখার কর্মকর্তাকে (কম্পিউটার পরিচালক) সাময়িক বরখাস্ত করেন। সেই সঙ্গে তৎকালীন ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানকে কুষ্টিয়া প্রিন্সিপাল কার্যালয়ে ও কনিষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা শামসুল আলমকে ওই ব্যাংকের মীরপুর শাখায় শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেন। এরপর তিনি তাদের সমস্ত নথিপত্র ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয় ফরিদপুর নিয়ে যান। ব্যাংকের আয়-ব্যয় হিসাবের ৬৫ লাখ টাকা ৫ জন কর্মচারীর নিজ নিজ হিসাবে সরিয়ে নেয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সেখান থেকে গত ৫ জুলাই প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
ডিঙ্গেদহ শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটার পর আমরা টাকাগুলো ফিরিয়ে দিই। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তদন্তের ব্যাপারটি ঠিক হয়ে যাবে।’
ডিঙ্গেদহ শাখার তৎকালীন (কম্পিউটার পরিচালক) কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোনো কাজই ব্যাংক ব্যবস্থাপকের নির্দেশ ছাড়া হয় না। কিন্তু আমার ওপর দোষ চাপিয়ে তারা পার পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।’
মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘আমার ওপর চাপ থাকায় আমি সঠিক ও সত্য ঘটনাটি তদন্তকারী দলের সামনে বলতে পারিনি। আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি অন্যায্য।’
ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মহাব্বত আলী বলেন, ‘পাঁচ জনের বিরুদ্ধে করা তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আরো ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর