মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
logo
কেনাকাটায় জমজমাট বসুন্ধরা সিটি
প্রকাশ : ০৫ জুলাই, ২০১৫ ১৭:২১:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+
ব্যবসা ওয়েব

ঢাকা: ভেতরে-বাইরে লোকারণ্য। প্রবেশ পথে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি। কেউ ভিতরে প্রবেশ করছেন কেউ হাতভর্তি ব্যাগ নিয়ে হাসিমুখে বের হয়ে আসছেন। ছেলে-বুড়ো সবারই সব ধরনের কেনাকাটাই এখানে সম্ভব। কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। সেখানে এখন উৎসবের আমেজ।
মুসলমানদের প্রধান ধর্মীও উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রমজানের প্রথম থেকেই জমে উঠে এখনকার ঈদের কেনাকাটা। সংসারে সব জিনিস একসঙ্গে পাওয়ার জন্যই বিভিন্ন উৎসবে ক্রেতারা বসুন্ধরা শপিং মলকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দের জায়গা মনে করে। এমনকি এখানে মার্কেট করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও আসে মানুষজন।
প্রথম দিকে টাকাওয়ালারাই শুধু বসুন্ধরা সিটিতে শপিং করে বলে ধারনা করা হলেও এ ধারনা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ক্রেতাই এখন এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। এ কারণে এখানে সব শ্রেণির ক্রেতার কথা বিবেচনা করে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো।
রোববার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেল, ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিক্রেতারাও ঈদের বাহারি সব পণ্যে সাজিয়েছেন তাদের দোকানগুলো। তাই রমজানের প্রতিটি দিনে মত আজও (রোববার) ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের উপেচে পড়া ভিড় দেখা গেছে বসুন্ধরায়।
মার্কেটের বিভিন্ন লেভেল ঘুরে দেখা গেল বাহারি ডিজাইনের নতুন পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ সব ধরনের দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। দোকান ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় ও পছন্দের জিনিস কিনছেন তারা। আলমাস, ইনফিনিটি, এসটেসি, ক্যাটস আই, ওয়েসটেকসহ কয়েকটি মেগামলে চলছে হরদম বেচাকেনা।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানের প্রথম দিকে বিক্রি তেমন না হলেও আস্তে আস্তে ক্রেতাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেইসঙ্গে বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপ। কয়েকদিনের মধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে করা বিক্রির টার্গেট অর্জন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের ভীড় সবচেয়ে বেশি পোশাকের দোকানগুলোতে। এ বিষয়ে কয়েকজন পোশাক বিক্রেতা জানান, ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের মূল আকর্ষণই থাকে পোশাকের প্রতি। পোশাক কেনার পরই তারা অন্যান্য জিনিসপত্র কেনেন। এবারের ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে আকর্ষণীয় রঙ এবং নান্দনিক ডিজাইনের বাহারি পোশাকের সংগ্রহ রাখা হয়েছে।
এবারের ঈদে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ‘ফ্লোর টার্চ লং গাউন’ নামের থ্রি-পিস। এমনটিই জানিয়েছেন পোশাক বিক্রেতা সোলায়মান।
বিভিন্ন নামের ‘ফ্লোর টার্চ লং গাউন’ পোশাকটি ডিজাইন ভেদে ৪ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া শাড়ি, সিঙ্গল কামিজ, জিন্স, টপস, লেহেঙ্গাও কিনছেন মেয়েরা।
ছেলেদের রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, পোলো শার্ট। আর বাচ্চাদের পছন্দের তালিকায় রং-বেরঙের পোশাক।
বসুন্ধরা সিটিরতে নামী-দামি ব্রান্ডের পোশাকসহ রয়েছে আরো বিভিন্ন ধরনের পোশাক। বসুন্ধরার অধিকাংশ দোকানেই পোশাক বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যে।
বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে সুতি শাড়ির দাম ৬৫০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা এবং জর্জেট শাড়ি পাওয়া যাবে ১৫০০ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে।
এখানে সিঙ্গল কামিজ পাওয়া যাবে ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে এবং টপস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা।
এখানে বাটা, বে ও এ্যাপেক্স ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি জুতো-স্যান্ডেলের দোকান। এসব স্লিপার পাওয়া যাবে ৪শ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। উঁচু হিল পাওয়া যাবে ৭০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া ছেলেদের কনভার্টস ও সু পাওয়া পাবে ১৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। স্যান্ডেলে পড়বে ১৪৫০ টাকা থেকে ৪২৫০ টাকা।
মান ও ডিজাইন ভেদে ছেলেদের শর্ট পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ১৬৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। রেগুলার পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ২২৫০ টাকা থেকে ২৫ হাজার ৫৫০ টাকার মধ্যে। ছেলেদের হাফ হাতা শার্ট পাওয়া যাবে ৯৯০ টাকা থেকে ২৪৫০ টাকায় এবং ফুলহাতা শার্ট ৮০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।
এছাড়া জিন্স প্যান্ট কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২০০ টাকা থেকে ৮৫০০ টাকা। গ্যাবাডিনের প্যান্ট পাওয়া যাবে ১ হাজার থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে।
এখানে মান ও ডিজাইন অনুসারে বাচ্চাদের পোশাক ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।
বসুন্ধরা মার্কেটে আসা ক্রেতাদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হচ্ছে লেভেল সাত। এখানে আছে পোশাকের ঐতিহ্যবাহী ১০ টি দেশীয় ফ্যাশন হাউস নিয়ে ‘দেশি দশ’। যেখানে ক্রেতারা তাদের পছন্দমত দেশীয় বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক, অলঙ্কার ও স্যান্ডেল কনতে পারেন।
‘দেশি দশ’র দেশালের বিক্রয় প্রতিনিধি অয়ন জানান, এবারের ঈদে ফ্যাশন হাউসটি হাফ সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, এক্সক্লুসিভ শিফন ও সুতির শাড়ি নিয়ে এসেছে। দাম দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। শাড়িতে স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট ও কারচুপির কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া তরুণীদের স্ক্রিন প্রিন্ট, জয় সিল্ক ও সুতির ভারী কাজের কামিজের সঙ্গে চুড়িদার ও পাতলা রঙিন ওড়নার থ্রি-পিস এবার ১৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তরুণদের লম্বা এন্ডি ও সুতির পাঞ্জাবি ১২০০ টাকা থেকে ৩৫০০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বনানী থেকে শপিং করতে আসা এমিলি নুজহাত বলেন, ‘সব সময়ই শপিং করার জন্য আমার প্রিয় বসুন্ধরা সিটি। এখানে আসলে সব সুবিধা ও জিনিসপত্র একসঙ্গে পাওয়া যায়। তা ছাড়া এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঘটার সম্ভবনা কম এবং নিরাপদ বোধ করি বলে এখানে আসি।’
এদিকে বসুন্ধরা সিটি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য রেখেছেন ‘বসুন্ধরা সিটি ঈদ র‌্যাফেল ড্র’ বিশেষ অফার। এই অফারে থাকছে প্রথম পুরস্কার একটি প্রাইভেট কারসহ ১১টি মেগা এবং ১০৯ টি সুপার পুরস্কার। প্রথম রোজা থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত প্রতি ২০০ টাকার কেনা কাটার জন্য একটি করে কুপন দেয়া হচ্ছে এবং ঈদের পরে এই কুপনের লটারি করে পুরস্কার দেয়া হবে।
 

ব্যবসা-অর্থনীতি এর আরো খবর