বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
মালদ্বীপের হিমাগারে বাংলাদেশির মরদেহ দেখতে রাষ্ট্রদূত
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৬:০২:১৯
প্রিন্টঅ-অ+

গত ১৯ আগষ্ট ২০১৭ খ্রিঃ শনিবার, মালদ্বীপের হিমাফুসি দ্বীপে আনুমানিক সকাল ১০.০০ ঘটিকায় মোহাম্মদ রিপন নামক এক বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যায়। মারা যাওয়ার ঐ দিনই তাকে রাজাধানী মালের হিমাগারে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ডেথ সার্টিফিকেট ও পুলিশ রিপোর্ট এখনও না পাওয়ায় মৃত্যুর কারন এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রিপন মালদ্বীপের ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজ কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার চর পাড়া তলায়। জানা যায়, রিপন দেড় বৎসর যাবত মালদ্বীপে কর্মরত ছিলেন।

মরদেহ হিমাগারে আনার পর গত ১৯ আগষ্ট ২০১৭ খ্রিঃ রবিবার মরদেহ দেখতে এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত রিয়ার এডমিরাল আখতার হাবীব হিমাগারে আসেন। এ সময় সাথে ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব(শ্রম) জনাব টি.কে.এম মোশফেকুর রহমান এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

মোহাম্মদ রিপন এর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং মালিক পক্ষও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, মালিক পক্ষ থেকে এখনও কোন প্রকার কাগজ পত্রাদি পাওয়া যায়নি। আশা করা যায়, স্বল্প সময়েই রিপনের মরদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ করা হবে। দূতাবাস থেকে মৃতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মালদ্বীপস্থ দূতাবাসের নব নিযুক্ত মান্যবর রাষ্ট্রদূত রিয়ার এডমিরাল আখতার হাবীব যোগদানের পর থেকেই যে কোন বাংলাদেশী মারা গেলে তিনি নিজে হিমাগারে মরদেহ দেখতে যান এবং মৃতের নিকট স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মান্যবর রাষ্ট্রদূত এবং শ্রম উইং এর প্রথম সচিব জনাব টি.কে.এম মোশফেকুর রহমান বলেন মরদেহ যাতে করে বাংলাদেশে মৃতের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সে ব্যাপারে দূতাবাস থেকে মালিক পক্ষকে জোড় তাগিদ দেওয়া হয এবং একই সঙ্গে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে দূতাবাস বিশেষ তৎপর রয়েছে।

মালদ্বীপে শ্রম উইং এর অগযাত্রা ২০১৫ থেকে। নবসৃষ্ট শ্রম উইং চালু হওয়ার পর থেকে মালদ্বীপে কোন বাংলাদেশি কর্মী মারা গেলে পরিবারের সম্মতিক্রমে ৯৫% লাশ দেশে ফেরত নেওয়া হয় এ ব্যাপারে মালিক পক্ষই সব খরচ বহন করেন। আর কোন লোকের মালিক খুঁজে পাওয়া না গেলে দূতাবাসের সাহায্যের মাধ্যমেই মৃতের লাশ দেশে পাঠানো হয়।

উল্লেখ করা যায়, মালদ্বীপ একটি দ্বীপ রাষ্ট্র এখানে আনুমানিক প্রায় ৭০-৮০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছে এর মধ্যে অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি। বেশির ভাগ প্রবাসী দালাল দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মালদ্বীপে আসে বিধায় অনেকেরই কাগজপত্রাদি ঠিক থাকে না।আরও উল্লেখ্য, মালদ্বীপে ময়না তদন্ত এর কোন সুবিধা নেই।ময়না তদন্তের জন্য পাশ্ববর্তী দেশ শ্রীলংকায় যেতে হয়।

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যথাযথ সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। মালদ্বীপে দালালের দৌরাত্ব বেশি থাকায় মানব পাচার এর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে এ ব্যপারে বাংলাদেশ সরকার এর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণলয়গুলোতে সজাগ দৃষ্টিতে হয়তো এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব বলে আশা করা যায়।

সূত্র:  বিডি লাইভ

প্রবাস এর আরো খবর