রোববার, ২৮ মে ২০১৭
logo
বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ১৩ মে
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল, ২০১৭ ১২:০১:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
প্রবাস ওয়েব
নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে বাংলাদেশিদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক) এর নির্বাচন ২০১৭ আগামী ১৩ মে অনুষ্ঠিত হবে।

বাক-এর নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বাক-এর আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে দুটি প্যানেল এবং ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৭টি পদে মোট ৩৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন এবং দুটি প্যানেলের ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদের মধ্যে ১৪টি পদে দুটি প্যানেলের ২৮ জন প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বাক-এর এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৩ হাজার ৭ শত ৭০ জন। নির্বাচন কমিশন প্রার্থীতা যাচাই-বাছাইয়ে দুটি প্যানেলের মধ্যে কামাল-হুমায়ুন পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী মশিউর রহমান কামাল ও সহকারি ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী এমরান রহিম এবং হেলাল-আজম পরিষদের সহকারি ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সীমা আর উল্লাহর মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, কামাল-হুমায়ূন প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মশিউর রহমান কামালের নমিনেশনের ফি বাবত জমা দেয়া চেক বাউন্স হওয়ার কারণে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী বিধিমাল মোতাবেক মনোনয়ন পত্র জমা না হওয়ায় একই প্যানেলের সহকারি ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী এমরান রহিমের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়।

অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে সঠিকভাবে কাগজপত্র জমা না দেয়ায় হেলাল-আজম প্যানেলের সহকারি ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সীমা আর উল্লাহর মনোনয়ন পত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

বাক-এর নির্বাচন কমিশনের দেয়া চুড়ান্ত তালিকা মোতাবেক হেলাল-আজম পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল এবং কামাল-হুমায়ূন পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মেরিলিন গোমেজ বেসরকারিভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহ ক্রীড়া সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় এপদে নির্বাচন হবে না।

বাক-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭ পদের মধ্যে ১৪টি পদে দুটি প্যানেলের ২৮ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হচ্ছেন।

জানা গেছে, প্রার্থীরা দিন-রাত নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন ভোট প্রার্থনায়।

এদিকে, বাক-এর বেশ কয়েকজন সিনিয়ার সদস্য আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমরা কানেকটিকাটবাসী অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে বাক নামক একটি ছাতার নীচে থেকে সামাজিক কাজ করে যাচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন কমিটি আসবে তারাও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

তারা জানান, একটি মহল উদ্দেশ্যমূলক ভাবে নানান তথ্য প্রচার করে কানেকটিকাটবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। পক্ষপাতহীন ভাবে নির্বাচন কমিশন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও মহলটি নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে। একজন কমিশনার তার পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন পুর্বে তার পদত্যাগপত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দিয়েছিলেন। অহেতুক এ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে মহলটি।

তারা বলেন, একজন কমিশনারের পদত্যাগ, প্রার্থীর চেক বাউন্স, নমিনেশন প্রত্যাহার ইত্যাদি বিষয়ে নির্বাচনের পুর্বে ভোটারদের মনে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। একটি সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে তারা এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান।

নির্বাচনে যে চেকটি বাউন্স হয়েছে তার বিপরিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অজান্তেই আরেকটি চেক কিভাবে জমা হল? এইটা কি আইন সম্মত হলো?

ফেইসবুকে একজন নির্বাচন কমিশনারের যে ইমেইলটা উপস্থাপন করা হচ্ছে যেখানে অন্যান্য কমিশনারদের ইমেইল একাউন্টও আছে, এভাবে ফেইসবুকে তা দেয়া কি আইনসম্মত? তারও আগে কি কারণে একই কমিশনার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বললে ভালো হতো।

নির্বাচন কমিশন কোথাও তাদের ফ্যাক্স নাম্বার দেয়নি। কিন্তু হেলাল-আজম পরিষদের একজন প্রার্থীকে কারা সহায়তা করে একজন নির্বাচন কমিশনারের ব্যক্তিগত ফ্যাক্সে তার নমিনেশন প্রত্যাহারের কাগজ পাঠিয়েছিল, যার জন্য তার নমিনেশন নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে?

বাক-এর সিনিয়ার সদস্যরা বলেন, একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সবাই একসাথে কাজ করবেন বলে ভোটাররা বিশ্বাস করেন। তাই দয়া করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানান তথ্য প্রচার করে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন না। আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নির্বাচন কমিশনারদের বিতর্কিত করবেন না। নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সকলেরই উচিত বলে মন্তব্য করবেন তারা।

বাক-এর নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুচারু রূপে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. গোলাম চৌধুরী ইকবাল।
 

প্রবাস এর আরো খবর