রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
ভিডিওচিত্রে সৌদি সিসাবারে বাংলাদেশি কর্মীরা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১৩:৪০
প্রিন্টঅ-অ+

ফাইল ছবি

প্রবাস ওয়েব
চাঁদপুর: সৌদি আরবে ধর্মীয় কারণে যেকোন ধরনের মাদকে কড়াকড়ি থাকলেও অনুমোদন রয়েছে সিসা সেবনের। আর এসব সিসাবারেই কাজ করেন প্রচুর বাঙালি।

সৌদিতে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এইসব সিসাবারে যান সময় কাটাতে। আর তাদের সিসা সাজানো থেকে আনুষঙ্গিক পরিষেবায় যারা থাকেন তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক।

সঠিক পরিসংখ্যান না জানা গেলেও সারা সৌদি আরব জুড়ে রয়েছে ৭০ হাজারেরও বেশি সিসাবার। আর রিয়াদে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার সিসাবার।

ছোট-বড়-মাঝারি তিন ধরনের সিসাবারই রয়েছে। রিয়াদে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে কমবেশি ২০-২৫ হাজার লোক এইসব সিসাবারে কাজ করে।

ছোট সিসাবারগুলোতে ২০ থেকে ২৫ জন এবং বড় সিসাবারগুলোতে একশ'রও বেশি লোক কাজ করেন।  

বাংলাদেশি শ্রমিকরা কেমন আছে তা জানতে সরেজমিনে রিয়াদের ফাহাস দোরি এলাকার অন্যতম বড় সিসাবার 'বুস্তানল কাহোবা'য় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী হাসিনুরের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। 'বুস্তানল কাহোবা'র বাংলায় অর্থ 'কফির বাগান'।

সিসাবারগুলোতে সিসার পাশাপাশি খাবার-দাবার, চা,কফি, জুস ইত্যাদিও পরিবেশন করা হয়। এখানে সৌদি ছাড়াও জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ভোক্তারা আসেন সিসা সেবন করতে।

হাসিনুর জানালেন, 'বুস্তানল কাহোয়া'য় দুই শিফটে মোট ১২০ জনের মত কাজ করেন। তাদের মধ্যে ৮০ জনই  বাংলাদেশি। এদের কেউ কেউ ওয়েটার, কেউ হয়তো থালাবাসন পরিষ্কার করেন, কেউ হয়তো সিসা সাজান, কেউ শেফ, কেউ স্রেফ ক্লিনার।   

হাসিনুরের সাক্ষাৎকারসহ 'বুস্তানল কাহোয়া'র একটি অংশ ভিডিও রিপোর্টে দেয়া হলো। আর নিচে হাসিনুরের সাক্ষাৎকারটিও লিখিত আকারে দেওয়া হলো:

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কত বছর ধরে আপনি এখানে কাজ করছেন?

হাসিনুর: আমি এখানে ১৫ বছর ধরে কাজ করি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: দেশে কি প্রতি বছর যাতায়াত করেন?

হাসিনুর: কোম্পানি তিন বছর পর পর সাধারণত দেশে যাওয়ার টিকেট দেয়। আমরা দুই বছর কিংবা আড়াই বছর পর পর দেশে যাই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশে আপনার কে কে আছে?

হাসিনুর: বাংলাদেশে আমার বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই আছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: তাদের জন্য কি কখনও মন কাঁদে না?

হাসিনুর: এটা তো অবশ্যই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: সবকিছু ছেড়ে দিয়ে এখানে কাজ করেন কি জন্য? দেশের জন্য? নাকি পরিবার?

হাসিনুর: পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য। আমরা কাজ করলে দেশেরও উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন চাই আমরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আকামা কি নিজের?

হাসিনুর: আকামা কোম্পানির। টিকেটও কোম্পানি দেয়। তিন বছর পর টিকেট দেয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: থাকা-খাওয়া কি করেন?

হাসিনুর: ঘর ভাড়া কোম্পানি দেয়। আমাদের শুধু খাওয়ার খরচ হয়। কোম্পানিরই বাবুর্চি আছে। সে-ই রান্না করে। আমারা তার বিল দেই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: আপনি এখানে কতো ঘন্টা কাজ করেন?

হাসিনুর: দশ ঘণ্টা করে ডিউটি আমাদের।

লেখক: রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসুলার অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন।

প্রবাস এর আরো খবর